হিজড়াদের অস্ত্রোপচারে ভর্তুকি ছত্তিশগড়ে

mp_transgender_board

ছবির উৎস, s. niazi

ছবির ক্যাপশান, ভারতে হিজড়াদের অনেকেই রাস্তায় নেচেগেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে হিজড়া বা ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ভুক্ত মানুষরা যদি লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে চান, তাহলে তার জন্য ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রাজ্য সরকার বলছে, অনেক হিজড়াদের শরীরেই কোনও কোনও অঙ্গ অসম্পূর্ণ থাকে – কিন্তু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তারা পরিপূর্ণ পুরুষ বা পরিপূর্ণ মহিলা হয়ে উঠতে চাইলেও বিপুল খরচের ভয়ে পিছিয়ে আসেন।

সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে এদেরকেই আর্থিকভাবে সাহায্য করা হবে বলে মঙ্গলবার রায়পুরে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ভর্তুকির পরিমাণ ঠিক কতটা হবে তা এখনও স্থির হয়নি।

ছত্তিশগড়ের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রামশীলা সাহু বিবিসি-কে জানিয়েছেন, রাজ্যের হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গভুক্তদের উন্নতিকল্পেই তারা এই আর্থিক দায় বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বস্তুত দেশের সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে হিজড়াদের উন্নতির জন্য তারা কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। শীর্ষ আদালতে সেই জবাব দেওয়ার আগেই ছত্তিশগড় সরকার তাই এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করে ফেলতে চায়।

ভারতে এই ধরনের একটি অস্ত্রোপচার করানোর খরচ অন্তত সাড়ে তিন লক্ষ থেকে চার লক্ষ রুপি। যে হিজড়ারা রাস্তায় নেচে-গেয়ে বা কোনও শিশুর জন্ম হলে তার বাড়িতে গিয়ে নাচ দেখিয়ে গ্রাসাচ্ছাদন করেন, তাদের কাছে এই পরিমাণ অর্থ কল্পনার অতীত।

‘ফলে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ হিজড়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষকেই সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়’, বিবিসিকে বলছিলেন বিলাসপুরের একদা তৃতীয় লিঙ্গভুক্ত ইলিনা, যিনি সম্প্রতি লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।

india_transgender_carnival

ছবির উৎস, Zafar Multani

ছবির ক্যাপশান, ভারতে হিজড়াদের উৎসব

ইলিনা অবশ্য সেই সঙ্গেই জানিয়েছেন এই অস্ত্রোপচার খুবই জটিল ও সময়সাপেক্ষ – প্রায় দেড় থেকে দুবছর সময় লাগতে পারে এতে, সেই সঙ্গে নানা ধরনের হরমোন চিকিৎসাও চলে।

এই দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের পরই কেবল একটা অসম্পূর্ণ অঙ্গ পুরোপুরি পুরুষ বা নারী-অঙ্গে পরিণত হতে পারে – তবে এক্ষেত্রে সাফল্যের হার প্রায় একশো শতাংশ বলা চলে।

ইলিনা নিজেই যেমন মুম্বইতে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করিয়ে তৃতীয় লিঙ্গ থেকে একজন মহিলায় পরিণত হয়েছেন – এবং এখন ছত্তিশগড়ে একজন মহিলা হিসেবেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

তবে হিজড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকে এমন আশঙ্কাতেও ভুগছেন – যেহেতু এই শ্রেণীর জীবন একটা গুরু-শিষ্য পরম্পরায় চলে এবং গুরুর হাতেই থাকে শিষ্যদের জীবনের চাবিকাঠি, তাই ব্যবসার রুটিরুজি হারানোর ভয়ে গুরুরা অনেকে শিষ্যদের লিঙ্গ পরিবর্তনে সায় না-ও দিতে পারেন।

ছত্তিশগড় সরকার অবশ্য বলছে – কোনও হিজড়া যদি লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন সরকার তাদের আর্থিক ও মানসিক সব ধরনের সাহায্য করবে এবং দেখবে সামাজিকভাবে তাদের যাতে কোনও বাধার মুখে না-পড়তে হয়।