বাংলাদেশ সংলাপে একে খন্দকারের বই নিয়ে বিতর্ক

সংলাপ
ছবির ক্যাপশান, বরগুনায় বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের প্যানেল
    • Author, রাকিব হাসনাত সুমন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের এক সেনা অধিনায়ক এ কে খন্দকারের লেখা একটি বই নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে।

এই বইতে এ কে খন্দকার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কিছু মন্তব্যের কারণে বইটি নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক হচ্ছে। বইটি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে সংসদে।

ইতিহাস নিয়ে লেখা একটি বই নিষিদ্ধ করা কি সঠিক পদক্ষেপ হবে? একজন দর্শকের করা এই প্রশ্নের উত্তরে প্যানেল সদস্যরা পাল্টাপাল্টি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সাতই মার্চের ভাষণ নিয়ে এ কে খন্দকারের লেখাকে একটি ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন। এ ধরনের লেখার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের দাবি করেন তিনি।

“পত্রপত্রিকায় বা আর কোথায় এ ধরনের কিছু আমরা শুনিনি। হঠাৎ করে এ ধরনের একটি বিষয় আমি মনে করি একটি ষড়যন্ত্র। উনি কখন এটা লিখলেন? যখন মন্ত্রী হতে পারেননি বা এমপি হিসেব নমিনেশন পাননি।“

বিএনপি নেতা ও বরগুনার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লে কর্নেল (অব) মো: আব্দুল খালেক বলেন একে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতৃত্বের দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। বিকৃতির অভিযোগ তুলে তার বই নিষিদ্ধ করা সঠিক হবেনা।

তিনি বলেন, “এতদিন পর জানলাম আসল ইতিহাস কি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ব্যক্তি। তিনি বিভিন্ন রেফারেন্স দিয়ে সত্যি কথাই বলেছেন। এ বই নিষিদ্ধ করার প্রশ্নই আসেনা।”

সচেতন নাগরিক কমিটি নামে একটি নাগরিক সংগঠনের বরগুনা জেলা শাখার সহ সভাপতি হামিদা বেগম বলেন একে খন্দকার বইতে সঠিক তথ্য দেননি।

তিনি বলেন, “আমি তখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি। নিজের কানে শুনেছি বঙ্গবন্ধু এ ধরনের কথা বলেননি। তবে নিষিদ্ধ করার কথা বলছিনা, ভাষাটা বা যে ভুলটা বলা হয়েছ সেটা পরিবর্তন করা উচিত।”

একই ধরনের মত প্রকাশ করেন বরগুনা দারুল উলুম নেসারিয়া কামিল মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মামুন অর রশীদ বলেন বইটিতে ভুল তথ্য থাকলে বাস্তবতার নিরিখে সেটি সংশোধন করা যেতে পারে।

নিষিদ্ধের প্রশ্নে একই রকম ভিন্নমত প্রকাশ করেন দর্শকরাও।

দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বরগুনায় অনুষ্ঠিত সংলাপের এই পর্বে আল কায়েদার হুমকি, পদ্মা সেতু দুর্নীতি সহ নানান প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠে আসে।

আরেকজন দর্শক জানতে চান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে আল-কায়েদার শাখা খোলার ঘোষণায় বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ কি আছে ?

জবাবে মিস্টার শম্ভু বলেন, আল কায়েদার হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। বিএনপির মি. খালেক বলেন উদ্বিগ্ন না হলেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত।