ব্রিক লেনে মেয়র নির্বাচনের ভোটের উত্তেজনা

- Author, মোয়াজ্জেম হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, লন্ডন
ব্রিটেনে জাতীয় কিংবা স্থানীয়, কোন নির্বাচনেই ভোটের আঁচ বাইরে টের পাওয়া যায়না। ভোট কেন্দ্রগুলোর বাইরে যদি ‘পোলিং স্টেশন’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া না হয়, বোঝাই যাবে না যে ভেতরে ভোট নেয়া হচ্ছে।
কিন্তু লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বরাবরই তার ব্যতিক্রম। নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ-উত্তেজনা টের পাওয়া গেল ব্রিক লেনের একটা ভোট কেন্দ্রের সামনে এসে দাঁড়াতেই।
টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র নির্বাচনে এবার বর্তমান মেয়র লুৎফর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির প্রার্থী জন বিগস। দুই প্রার্থীর সমর্থকরা সেখানে প্রচারপত্র হাতে জটলা করে দাঁড়িয়ে আছেন। ভোটার দেখলেই এগিয়ে যাচ্ছেন, শেষ মূহুর্তেও তাদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

‘আমি এসেছি আজ সকালে নয়টার দিকে’, বলছিলেন মেয়র লুৎফর রহমানের একজন সমর্থক মাহবুব।
‘আবহাওয়া হয়তো অত ভালো নয়, কিন্তু তারপরও লোকজন কিন্তু ক্রমাগত ভোট দিতে আসছে। কাজে যাওয়ার আগে অনেকেই ভোট দিয়ে যাচ্ছে। দুপুরের পর ভোটারের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’
ভোট নিয়ে উত্তেজনা
ভোট নিয়ে বাংলাদেশিদের উৎসাহ বরাবরই বেশি, এমনকি এই প্রবাসেও।
ভোট কারচুপি, জালিয়াতির অভিযোগও উঠে প্রতিবার, তাই টাওয়ার হ্যামলেটসের ভোট কেন্দ্রগুলোর সামনে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, যেটা ব্রিটেনে অন্য কোন এলাকার নির্বাচনে একেবারেই বিরল একটা দৃশ্য।
টাওয়ার হ্যামলেটসের ভোট কেন্দ্রগুলোতে সকালের দিকে বাংলাদেশি ভোটারদের সংখ্যা ছিল কম। সকালে কাজে যাওয়ার আগে যারা ভোট দিতে এসেছিলেন, তাদের বেশিরভাগই বয়স্ক শ্বেতাঙ্গ ভোটার।
মেয়র লুৎফর রহমানের সমর্থকরা যাদের ওপর অনেকখানি নির্ভর করছেন, সেই বাংলাদেশি ভোটাররা অবশ্য আসতে শুরু করলেন বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভোটারই বাংলাদেশি ভোটার। মেয়র লুৎফর রহমানের সমর্থকরা আশা করছেন, এর সঙ্গে যদি অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের কিছু ভোটও তারা টেনে আনতে পারেন, মিস্টার রহমানের জয় ঠেকানো যাবে না।
‘মেয়র সাহেবের টিম ভালোই ভোট পাচ্ছেন। আমাদের লোকজন ভোট দিতে আসতে শুরু করেছেন। আমার মনে হয় লুৎফর রহমানের ভালো বিজয় হবে’, বলছিলেন লুৎফর রহমানের একজন সমর্থক এবং টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্ষ্ট দলের একজন কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম রাব্বানি।
কিন্তু বাংলাদেশিদের ভোট এবার একতরফা এক বাক্সে যাবে না বলেই মনে করছেন জন বিগসের সমর্থকরা। সেই সঙ্গে লেবার পার্টির মতো বড় দলের সমর্থন জন বিগসকে অনেকখানি এগিয়ে দেবে বলে তাদের ধারণা।
‘গতবারের নির্বাচন ছিল দুই বাঙ্গালির লড়াই, এবার তা নয়। লেবার পার্টি সামনের নির্বাচনে জয়ী হলে সরকার গঠন করবে, কাজেই এবার সবাই লেবার পার্টিকেই ভোট দেবে,’ বলছিলেন দলের একনিষ্ঠ সমর্থক শামসুদ্দীন।
সকালের দিকে বাংলাদেশি ভোটাররা এসেছেন কম, সংখ্যায় বেশি ছিলেন বয়স্ক শ্বেতাঙ্গ ভোটার।
দুপুরের পর অবশ্য বাংলাদেশি ভোটারদের সংখ্যা বেড়েছে, যা দেখে উৎফুল্ল লুৎফর রহমানের সমর্থরা।
এই নির্বাচনের ভোট গণনা হবে আগামীকাল শুক্রবার, তার আগে পর্যন্ত অবশ্য কোন পক্ষই নিশ্চিত নন, কে হতে যাচ্ছেন টাওয়ার হ্যামলেটসের পরবর্তী মেয়র।








