একঘরে পরিস্থিতি সামলাতে জামায়াতে নানা মত

জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচি [ফাইল ফটো]

ছবির উৎস, focusbangla

ছবির ক্যাপশান, জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচি [ফাইল ফটো]
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে ইসলামীপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী সাম্প্রতিক আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিকে দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতারা তাদের দলের জন্য চরম প্রতিকূল অবস্থা বলে মনে করছেন।

জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই বলেছেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলনে জামায়াতকে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন দল গোছানোর বিষয়কে গুরুত্ব দিতে চান।

অন্যদিকে, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। তবে তা হয়নি। দলটির নেতাকর্মীরা মাঠেই নামেনি।

জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করেছেন পুলিশী তৎপরতায় তারা কোথাও জড়ো হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

নির্বাচনের পর তাদের বিরুদ্ধে পুলিশী তৎপরতা বেড়েছে বলেই তারা উল্লেখ করছেন।

তবে নির্বাচনের আগে দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে বিরোধী জোটের হরতাল অবরোধ কর্মসূচির সময় দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।

সেগুলোর অনেক এলাকাতেই জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ফলে ওইসব এলাকায় সহিংসতার দায় অনেক ক্ষেত্রে জামায়াতের ওপরে পড়েছে। সেখানে সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা জেলাকে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ করে রেখে সহিংস ঘটনার অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের একজন নেতা আজিজুর রহমান মনে করেন, নির্বাচনের পর তারা আরও বেশি প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে পড়েছেন।

মিঃ রহমান বলছেন, “যেহেতু স্বাভাবিক কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করতে পারছিনা। আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকের আমাদের ক্ষয়ক্ষতি হলো তার প্রভাবতো পড়েছেই। আমাদের কাজতো ব্যাহত হয়েছেই। আমরা মনে করি আমাদের দলের দাওয়াতি ও স্বাভাবিক কার্যক্রম এখন পরিচালনা করা দরকার”।

পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার জামায়াতের কয়জন নেতার সাথেও কথা বলে মনে হয়েছে তাঁরাও এখন দলকে গোছানোর বিষয়ে নজর দিতে চান।

আসলে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম ফাঁসির রায় হয় তখন থেকেই জামায়াত এবং ছাত্র শিবির রাজপথে শক্ত অবস্থান নিয়ে নেমেছিল দলীয় নেতাদের রক্ষায়।

আন্দোলনেও সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানি হয়েছিল। এর পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থেকেও জামায়াত নির্দলীয় সরকারের দাবীতে যে আন্দোলন করেছে সেই আন্দোলনেও অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা হয়েছে।

সেই পরিস্থিতির জন্য বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্টও সেই বক্তব্য তুলেছে। এতে জামায়াত অনেকটা একঘরে হয়ে পড়ছে বলে দলটির মাঠপর্যায়ের অনেকে মনে করছেন।

উত্তরের একটি বিভাগীয় শহর জামায়াতের একজন নেতা আবু মোহাম্মদ সেলিম বলছিলেন তারা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করারও সুযোগ পাচ্ছেন না।

“যেটা ইসলামী আদর্শের সাথে কোন মিল খায়না। এ ঘটনাগুলো কিভাবে ঘটছে কারা ঘটাচ্ছে এটা সুস্পষ্টভাবে বলা যেত যদি আমরা একত্রে বসতে পারতাম। আমরাতো বসতে পারছিনা। আমরা অফিসে যেতে পারছিনা কারণ তালাবন্ধ। আমরাতো মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছিনা”।

সারাদেশে জামায়াত এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের একটা বড় অংশকে নির্বাচনের পরে নতুন করে গ্রেফতার আতংকে আত্মগোপনে যেতে হয়েছে। বেশ কয়েক হাজার নেতাকর্মী আগে থেকেও আটক রয়েছে।

জামায়াত এখন এমন পরিস্থিতিতে কী কৌশল নিতে পারে তা নিয়ে দলটিতে নানান মত আসছে।

বাংলা দৈনিক নয়াদিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবর বলছিলেন, “চতুর্দিকের সমালোচনার তীরটা তাদের দিকেই এখন। জামায়াত এখন ভাবছে যে তারা কিভাবে অতীতের বিতর্কের বিষয় থেকে বের হয়ে আসতে পারে। নতুন যেসব ছেলেরা জামাতে এসেছে তাদের এখন ধারণা তারা কেন অতীতের বিষয় বহন করবে, তারা নতুন কিছু করতে চায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জামায়াতের মধ্যে নানান চিন্তা কাজ করছে’।

জামায়াতের মিত্র বিএনপির সাথেও সম্পর্কের মূল্যায়ন করার একটা সময় এসেছে বলে মনে করেন মিঃ বাবর।

যদিও ঢাকায় সম্প্রতি বিএনপির সমাবেশে জামায়াতকে না ডাকার বিষয়ে দলটিতে অনেকের মধ্যেই ক্ষোভ ছিল। কিন্তু জামায়াতের অনেক নেতা মনে করেন এই মুহুর্তে জামায়াতের বিএনপির সাথে থাকা প্রয়োজন এবং সেটিই তারা চান।