রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট পায় কিভাবে?

bangladesh_passport
    • Author, ফরিদ আহমেদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বার্মা থেকে আসা অনেক মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থী অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছেন। অনেকদিন ধরেই এটা চলছে - এটা জানা থাকলেও তা কখনোই পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি সৌদি আরবের এক অনুরোধের পর সেদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

কিন্তু এদের প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিয়ে কোন সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের নেই। রোহিঙ্গারা কি করেই বা বাংলাদেশী পাসপোর্ট পায়? কঠোর নিরাপত্তা সত্বেও তারা কেন অনেক ক্ষেত্রেই ধরা পড়েনা?

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণের জেলা কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে গত কয়েক দশক ধরে যেসব রোহিঙ্গা মুসলিমরা বাংলাদেশে ঢুকেছেন তাদের অনেকেই স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গেছেন।

এমন ভাবেই মিশে গেছেন যে, একজন স্থানীয় সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ বলছিলেন, বাংলাদেশী নাগরিকের তুলনায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী মুসলিম রোহিঙ্গার পক্ষে বাংলাদেশী পাসপোর্ট পাওয়া নাকি এখন অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে।

তোফায়েল বলছেন, দালালরা পাসপোর্ট বানানোর জন্য ৩০-৪০-৫০ হাজার টাকাও নিয়ে থাকে। দালালরাই ইউনিয়ন পরিষদের কাছ থেকে জন্ম সনদ থেকে শুরু করে যা যা দরকার তার সব জোগাড় করে আবেদন করে এবং পাসপোর্ট পেয়ে যায়। যারা জনপ্রতিনিধি তাদের সাথেও তারা 'কন্ট্রাক্ট' করে নেয়।

তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা বলছেন বিষয়টি এতো সহজ নয়। কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন মফিদুল আলম বলছেন, তারা যদি দূর্নীতি করে কাউকে সনদ দিয়েও দেন, পুলিশের তদন্তে তা ধরা পড়ে যাওয়ার কথা। তাই টাকা খেয়ে চেয়ারম্যানদের পাসপোর্ট দেবার সুযোগ নেই।

মফিদুল আলম বলছেন, "ধরুন আবদুল করিম নামে একজন ব্যক্তি আছেন যার বাবার নাম আবদুর রহমান। ঐ নামে তারা একটা আইডি কার্ড বের করে নেন। আমরা সনাক্ত করতে আত্নীয়দের পরিচয় পত্রও চাই। তখন তারা ঐ আসল ব্যক্তির আত্নীয়দেরটা এনে দেন। কিন্তু আমরা কাউকে দেখি নি যে পয়সা দিয়ে করিয়েছে। এগুলো তো পুলিশ তদন্ত করে। তাই টাকা খেয়ে চেয়ারম্যানদের পাসপোর্ট দেয়ার সুযোগ নেই।"

rohingya
ছবির ক্যাপশান, বিদেশে আটক হওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী

মি. আলম বলেন, সন্দেহজনক মনে হলেই তারা কোন প্রকার সনদ দেয়া থেকে বিরত থাকেন।

তবে তা সত্বেও প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে যে বিদেশে গেছেন তা অস্বীকার করে না সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাইনুদ্দিন খন্দকার বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ভোটার পরিচয়পত্র হবার পর এই সমস্যা আর হচ্ছে না।

তবে মি. মাইনুদ্দিন বলেন, কতজন লোক এমন পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গেছে এমন কোন পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। কারণ তারা রোহিঙ্গা পরিচয়ে বিদেশে যায়নি।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশে বসবাস করছে এমন পরিচয়েই পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তারা বিদেশে গেছে। তবে সেক্ষেত্রে দুর্নীতি যে নেই তেমনটা বলা যাবেনা। কারণ আমাদের দেশে প্রশাসন ও পাসপোর্ট করার ব্যবস্থার মধ্যে যে ত্রুটিবিচ্যুতি আছে - তার ফাঁকফোকর দিয়েই তারা সংগ্রহ করেছে। তবে এখন ভোটার আইডি কার্ড হবার পর এতো সহজে তারা ঢুকতে পারছে না।"

মি. খন্দকার বলেন, অতীতে অনেকে পাসপোর্ট করতে পারলেও সরকারী নিয়ম কঠোর হবার পর এটা অনেক কমে গেছে। রোহিঙ্গারা বরং এখন জলপথে বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে ধরা পড়ছে।