নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানী কি সম্ভব?

ছবির উৎস, no credit

    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে এবং নেপালের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের এক বৈঠকে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানীর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবার বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে।

দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের এই বৈঠক থেকে জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশ এবং নেপাল যে কয়েকটি বিষয়ে পরষ্পরের কাছ থেকে লাভবান হতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নেপাল থেকে জলবিদ্যুত আমদানী।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো নেপালেও রয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট। তাহলে জলবিদ্যুৎ আমদানী কতটা সহজ হবে?

নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনার প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে অনেকদিন ধরেই।

এনিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তাও চলেছে দুই পক্ষের মধ্যে।

মূলত নেপালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে বিপুল সম্ভাবনা আছে সেদিকেই নজর আছে বাংলাদেশের। দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কিন্তু আলোচনা চললেও নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানীর বিষয়টি খুব একটা সহজ কাজ হবে না বলেই মনে করেন জ্বালানী বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এজাজ হোসেন।

অধ্যাপক হোসেন বলেন জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নেপাল নিজে কোনভাবেই এধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না।

তিনি বলেন নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানী করতে হলে বাংলাদেশ-নেপাল-ভারতের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হতেই হবে।

নেপালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ এবং তার মাধ্যমে কিভাবে উভয় দেশ লাভবান হতে পারে সেজন্য একটি উপআঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হবে। ভারতও এতে জড়িত থাকবে।

নেপাল থেকে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনতে হলে ভারতের সম্পৃক্ততা জরুরী। কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি দল নেপাল সফর করেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুহু রুহুল্লা বলছেন নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানীর এ বিষয়টিতে দীর্ঘ সময় লাগবে। মি: রুহুল্লা বলেন জলবিদ্যুৎ আমদানীর বিষয়টিতে কথাবার্থা এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ২০২০ সালের আগে এর বাস্তবায়নের কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছেনা বলে মি: রুহুল্লা বলেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলেই অনেকেই মনে করেন।

তার উপর বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েও লোকসান সামাল দিতে পারছেনা সরকার। এমন অবস্থায় নেপাল থেকে যদি বিদ্যুৎ আমদানী সম্ভব হয় তাহলে সেটি কতটা ব্যয় সাশ্রয়ী হবে?

অধ্যাপক এজাজ হোসেন বলেন, বর্তমানে তেল নির্ভর বিদ্যুৎ বেশ ব্যয়বহুল। এছাড়া কয়লা আমদানী করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার ক্ষেত্রে যে ব্যয় হবে সেটি আমদানী করা বিদ্যুতের সমান পর্যায়ে থাকবে বলেই অধ্যাপক হোসেন মনে করেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানীর বিষয়ে বাংলাদেশ যতই আগ্রহী হোক না কেন, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে তার অনেকটাই নির্ভর করছে ভারতের উপর।