বাংলাদেশে বিনিয়োগের সন্ধানে ভারতীয় শিল্পপতিরা

ভারতীয় শিল্পপতি আদি গোদরেজ

ছবির উৎস, web

ছবির ক্যাপশান, ভারতীয় শিল্পপতি আদি গোদরেজ
    • Author, ফরিদ আহমেদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে সফররত ভারতের শিল্পপতিদের সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ বা সিআইআই-এর প্রতিনিধি দলের প্রধান আদি গোদরেজ বলেছেন, তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী উত্তর-পূর্ব ভারতসহ অন্যান্য রাজ্যে রপ্তানির সুযোগ খতিয়ে দেখছেন।

১৭ সদস্যের ঐ প্রতিনিধি দল শনিবার সারা দিন ঢাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে কথা বলছেন এবং বাংলাদেশের সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথেও তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ত্রিপুরা সফরের সময় ভারতীয় শিল্প মালিক ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানানোর পর সিআইআই এই প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে ভারতীয় শিল্পপতিরা বলছেন।

এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সিআইআই-র প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের বড় একটি শ্ল্পি গোষ্ঠী গোদরেজ গ্রুপের চেয়ারম্যান আদি গোদরেজ।

মি. গোদরেজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে প্রচুর সুযোগ রয়েছে, তাই সুনির্দিষ্ট কোন খাত নয় বরং একাধিক খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের কি সুযোগ রয়েছে, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি কিভাবে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়ানো যায় তাও আমরা খতিয়ে দেখবো। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হলো অবকাঠামোগত দিক থেকে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে, যেমন ধরুন উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে ভারতের অন্যান্য অংশের মধ্যে মালামাল পরিবহন উন্নত করা যায় কিনা, বাংলাদেশ থেকে উত্তর-পূর্বভারতসহ ভারতের অন্যান্য অংশে রপ্তানি উৎসাহিত করা যায় কিনা এর নানা দিকগুলো দেখা।’

তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে বড় বিনিয়োগের কথাও আমরা ভাবছি। আমাদের প্রতিনিধি দল অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নানা ধরনের ভোগ্যপণ্য, কৃষি ইতাদি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা দেখছে।’

তবে বিনিয়োগের খাতগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যৌথ উদ্যোগের ওপর জোড় দিচ্ছেন বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আব্দুল মতলুব আহমাদ।

তার মতে, এর ফলে প্রযুক্তির পাশাপাশি বড় শিল্প প্রক্ল্প কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন।

মি. আহমাদ বলেন, কীভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে এই পণ্য ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যসহ বিভিন্ন রাজ্যে এবং পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় রপ্তানি করা যায়- এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতেই তারা এসেছেন। বিগত দিনে বেশিরভাগ প্রতিনিধি দল এসেছে পণ্য বিক্রি করতে। তাতে করে বাণিজ্য বৈষম্য বেড়ে যেত। এবারে তারা এসেছে বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে।

আর ভারতীয় বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন আগ্রহকে বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখছে বাংলাদেশের সরকার।

বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন বিবিসিকে বলেন, তামাক ও মদ জাতীয় ২৫টি পণ্য ছাড়া সব পণ্য ভারতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। তারা এখানে পণ্য উৎপাদন করে শুল্কমুক্তভাবে নিয়ে যাবে এটা অনেক বড় সুবিধা হবে।

তিনি বলেন, এক হতে পারে এখানে উৎপাদন করা হবে এখানকার বাজারের জন্য, দ্বিতীয়টি হলো এখানে উৎপাদন করে উত্তর-পূর্ব ভারতসহ বিভিন্ন রাজ্যে নিয়ে যেতে পারে, আর তৃতীয়ত এখানে উৎপাদন করে তৃতীয় কোন দেশে রপ্তানি হতে পারে। সবই হতে পারে এবং তাদের জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতে নিয়ে যাওয়া অনেক কম খরচ পড়বে। তবে তার জন্য অবশ্যই অবকাঠামো উন্নয়ন দরকার হবে।

মি হোসেন. বলছিলেন অবকাঠামোগত বাধাগুলো দূর করা গেলে তা নি:সন্দেহে বাণিজ্য উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলবে।