এভারেস্ট শীর্ষে প্রথম বাংলাদেশী নারী

bangla_nishat_majumdar

ছবির উৎস, facebook

ছবির ক্যাপশান, নিশাত মজুমদার (ফাইল ছবি)
    • Author, ফরিদ আহমেদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে আরোহণ করেছেন নিশাত মজুমদার।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ন’টার সময় তিনি এভারেস্ট শিখরে পা রাখেন বলে কাঠমান্ডু থেকে পর্বতারোহণ সূত্রগুলি জানাচ্ছে।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে সুপরিচিত শেরপা পেমবা দোর্জি, যিনি নিজেও একজন এভারেস্টজয়ী এবং দ্রুততম সময়ে এভারেস্ট আরোহণের জন্য গিনেস রেকর্ডধারী, তিনিই বিবিসি বাংলাকে এখবর নিশ্চিত করেছেন।

পেমবা দোর্জি বলেন, 'এভারেস্টের পথে ক্যাম্প টু থেকে আমার ভাই তেনজিং আমাকে নিশাত মজুমদার ও সেই সঙ্গে আর এক বাংলাদেশী এম এ মুহিতের এভারেস্ট শীর্ষে আরোহণ করার খবরটি জানিয়েছেন।'

এম এ মুহিত এর আগে গত বছরের মে মাসেও এভারেস্ট জয় করেছিলেন, তবে তাঁর সেই অভিযান ছিল চীনে তিব্বতের দিক দিয়ে। এবারে তাঁরা এভারেস্টে উঠলেন নেপালের দিক দিয়ে।

অবশ্য এম এ মুহিতেরও আগে ২০১০ সালের ২৩শে মে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহিম, তবে বাংলাদেশের কোনও মহিলা হিসেবে প্রথম সেই কৃতিত্বের অধিকারিণী হলেন নিশাত মজুমদার।

নিশাত মজুমদার ও এম এ মুহিত – দুজনেই ঢাকার বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) দীর্ঘদিনের সদস্য।

ওই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, নিশাত মজুমদারের এই কৃতিত্ব বাংলাদেশের সব পর্বতারোহীকেই দারুণ গর্বিত করেছে – দেশের পর্বতারোহণে এটা এক বিরাট আনন্দের দিন।

মি হক জানান, অথচ গতকালই তাঁরা আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন – খারাপ আবহাওয়ার জন্য এভারেস্টের পথে অনেকদূর উঠেও শেষ পর্যন্ত নিশাত মজুমদার ও এম এ মুহিতদের এ যাত্রায় ফিরে আসতে হবে বলেই তারা ধরে নিয়েছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এদিন সকালে ঢাকায় ক্লাবে বহুপ্রতীক্ষিত সুসংবাদটি আসে – জানা যায়, নেপালের সময় সকাল সাড়ে নটা নাগাদ দলটি এভারেস্টে উঠতে সক্ষম হয়েছে, নিশাত ও এম এ মুহিতের সঙ্গেই শীর্ষে আরোহণ করেছেন তাদের সঙ্গী তিনজন শেরপাও।

bangla_musa_ibrahim
ছবির ক্যাপশান, প্রথম এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশী মুসা ইব্রাহিম

এভারেস্টজয়ী নিশাত মজুমদার এর আগে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে হিমালয়ের মেরা পর্বতশৃঙ্গ (২১ হাজার ৮৩০ ফুট) জয় করেন।

এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে পরের বছরের মে মাসে তিনি হিমালয়ের সিঙ্গুচুলি পর্বতশৃঙ্গেও (২১ হাজার ৩২৮ ফুট) ওঠেন।

ইনাম আল হক বিবিসিকে বলেন, গত বছর নিশাত যখন হিমালয়ে সাত হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় আরোহণ করেছিলেন, তখন থেকেই তাঁকে নিয়ে এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখার শুরু।

বাংলাদেশে পর্বতারোহণের মতো ব্যয়বহুল আয়োজনে অর্থায়ন একটা বড় সমস্যা, তবে নিশাতের এই এভারেস্ট অভিযানে দেশের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছিল।

বর্তমানে নিশাত ঢাকা ওয়াসায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরিরতা আছেন, তবে যথারীতি পর্বতারোহণই তাঁর আসল নেশা।

প্রথম বাংলাদেশি মহিলা হিসেবে নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট শিখরে আরোহণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।