বিমানে প্রতিবন্ধী যাত্রী বিতর্ক

জীজা ঘোষ: সেরিব্রাল পলসি সত্ত্বেও জীবনে সফল
ছবির ক্যাপশান, জীজা ঘোষ: সেরিব্রাল পলসি সত্ত্বেও জীবনে সফল
    • Author, অমিতাভ ভট্টশালী
    • Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা

সেরিব্রাল পলসি আক্রান্ত এক প্রতিবন্ধী মহিলাকে ভারতের একটি বেসরকারী বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সেদেশে শুরু হয়েছে বিতর্ক৻

চল্লিশ বছর বয়সী জীজা ঘোষ সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত৻ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সেরিব্রাল পলসিতে ছোটবেলায় পড়াশুনো করেছেন৻

প্রতিবন্ধকতা নিয়েও নিয়মিত স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন ৻ ছাত্রী ছিলেন কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ আর দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের৻ আর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সেরিব্রাল পলসিতে এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চাকরী করেন তিনি৻

জীজা ঘোষ একাই বহু জায়গায় বিমানে সফর করেন৻ আর এর আগেও একাধিকবার তাঁকে বিমানে তুলতে প্রাথমিক আপত্তি জানিয়েছে বিভিন্ন বিমানসংস্থা – কিন্তু শেষমেশ কেউই তাঁক বিমান থেকে নামিয়ে দেন নি – যে ঘটনা হয়েছে কলকাতায়৻

নিজের দপ্তরে বসে জীজা ঘোষ বিবিসি-কে বলেন, “সেরিব্রাল পলসি সংক্রান্ত একটি সম্মেলনে যোগ দিতে গোয়া যাওয়ার জন্য একটি বেসরকারী বিমানে চেপেছিলাম৻ নিয়মমাফিক চেক-ইন করে বোর্ডিং পাস নিয়ে বিমানে আরোহন করি৻ কিন্তু একটু পরেই এয়ারলাইন্সের কর্মীরা আমাকে নেমে যেতে বলেন৻”

“ প্রথমে কোনও কারণও দেখানো হয় নি৻ পরে বলা হয় যে পাইলট আমাকে নিয়ে বিমান ওড়াতে রাজী নন৻ ওই বিমানের অন্যান্য যাত্রীরা আমাকে সমর্থনও করেছিলেন৻ কিন্তু শেষমেশ নেমেই যেতে হয়,” বলছিলেন জীজা ঘোষ৻

এই ঘটনার পরে ওই বেসরকারী বিমানসংস্থা অবশ্য ক্ষমা চেয়েছে আর পরবর্তী বিমানে মিস ঘোষকে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দিয়েছে৻ কিন্তু জীজা ঘোষ বলছেন যে ওই পাইলটকে জনসমক্ষে বা সংবাদমাধ্যমে ক্ষমা চাইতে হবে – যাতে একটি দৃষ্টান্ত তৈরী হয় আর এরপরে যাতে কোনও পাইলট বা বিমানসংস্থা বা অন্য যে কেউ এধরনের আচরণ না করতে পারেন৻

এই ঘটনা সামনে আসার পরে পাইলটের অনমনীয় মনোভাবের যেমন সমালোচনা হচ্ছে, তেমনই বিতর্ক শুরু হয়েছে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সাধারণভাবে সচেতনতার অভাব নিয়ে৻ এছাড়াও প্রতিবন্ধী মানুষদের চলাফেরা করার মতো উপযুক্ত পরিকাঠামোও নেই দেশে৻

জীজা ঘোষের কথায়, “মানুষ অনেক কিছু বুঝেও বুঝতে চান না.. এটাই সবথেকে বড় বাধা৻ এছাড়াও রাস্তাঘাট, যানবাহন, বড় বিল্ডিং – এগুলোতে প্রতিবন্ধীদের চলাফেরার খুবই অসুবিধা হয়৻ যদি কেউ হুইলচেয়ার বা ক্রাচ ব্যবহার করেন, তাঁর পক্ষে তো বাইরে বের হওয়াই সম্ভব না৻ কিন্তু লন্ডনে পড়াশোনার জন্য একবছর থাকতে গিয়ে অভিজ্ঞাতাটা একেবারে অন্যরকম৻ একা থাকতে বা চলাফেরা করতে কোনও অসুবিধাই হত না সেখানে৻”

“এটাই বেশিরভাগ মানুষ বোঝেন না যে সেরিব্রাল পলসি কোনও অসুখ বা ব্যাধি নয় – এটা একটা অবস্থা৻ জন্মের আগে বা জন্মের সময়ে মস্তিষ্কে চোট লাগলে সেরিব্রাল পলসি হয়, মন্তব্য জীজা ঘোষের৻ কিন্তু সরকার কি প্রতিবন্ধীদের অধিকারের বিষয়ে যথেষ্ট সক্রিয়?

জীজা ঘোষের কথায়, “প্রতিবন্ধীদের অধিকার দিতে সরকার একটা আইন পাশ করে ১৯৯৫ সালে – যেটা শিক্ষার অধিকার, চাকরীর অধিকার বা চলাফেরার অধিকারের কথা বলেছে৻ কিন্তু আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্রে সই করার পরে ভারতকে নতুন আইন তৈরী করতে হবে – সেটার খসড়াও তৈরী হয়েছে৻ যত দ্রুত সম্ভব এই আইন চালু করাটাই এখন আমাদের সবথেকে বড় দাবী৻”

অন্যদিকে মানুষকে সচেতন করে তোলার জন্যও সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে – যেমন পালস পোলিও টীকাকরণ নিয়ে দেশব্যপী প্রচার হয়েছে – যার ফলে মানুষ সেটার ব্যাপারে জানতে পেরেছেন – প্রতিবন্ধীদের সম্বন্ধে সচেতন করতেও একই ধরনের প্রচারাভিযান শুরু করা উচিত সরকারের, বলছিলেন জীজা ঘোষের৻

তবে সরকারের ভরসায় না থেকে তাঁরা ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছেন একটা নেটওয়ার্ক তৈরী করার৻ এর জন্য ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটকে তাঁরা ব্যবহার করছেন৻