বিএনপি'র রংপুর সমাবেশ: 'দলের সিদ্ধান্ত হলে বিএনপির এমপিরা পদত্যাগে প্রস্তুত'

রংপুরে বিএনপির গণসমাবেশ।
ছবির ক্যাপশান, রংপুরে বিএনপির গণসমাবেশ।
    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি বাংলা, রংপুর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না, এবং দলের সিদ্ধান্ত হলে বিএনপির এমপিরা সংসদ থেকে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত আছেন।

দলের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

"আমাদের সোজা কথা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া হাসিনা সরকারের অধীনে এদেশে কোনও নির্বাচন হবে না। এটা সাফ কথা। সাফ কথা," বলছিলেন তিনি।

"আমাদের দাবি বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত করে দিতে হবে। হারুন সাহেব প্রস্তুত আছেন। যে কোনও সময় পার্টি থেকে নির্দেশ দিলে পদত্যাগ করবেন। রুমিন পদত্যাগ করবেন।"

সংসদ বিলুপ্ত করে সরকারকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে, বলছিলেন তিনি।

আরও পড়তে পারেন:

রংপুরে বিএনপির গণসমাবেশ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন এবং তারা নতুন নির্বাচন করবে।

"তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে আন্দোলনরত সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। তারা নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে।"

তিনি বলেন, ফয়সালা হবে রাজপথে এবং গণতন্ত্র থাকবে এমন বাংলাদেশ তারা চান।

রংপুরে পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেও বিএনপির চতুর্থ বিভাগীয় গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে। ঐ সমাবেশে সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন সরকার গঠনের ডাক দেন দলের নেতারা।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে এর জন্য দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করেন।

একই সাথে বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে সমাবেশ সফল করায় রংপুর অঞ্চলের নেতাকর্মীদের প্রশংসা করেন তিনি।

মিছিলে মিছিলে সমাবেশ-স্থলে নেতা-কর্মীদের ঢল নামে।
ছবির ক্যাপশান, মিছিলে মিছিলে সমাবেশ-স্থলে নেতা-কর্মীদের ঢল নামে।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

মি. আলমগী দুর্নীতির অভিযোগ করে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

"সর্বভুক এ সরকার সব খেয়ে ফেলেছে," তিনি বলেন, "আজ কঠিন সময়। প্রধানমন্ত্রী বলছেন দুর্ভিক্ষ হবে। এ দায় কার? এর দায় তাদের। বাংলাদেশ নাকি সিংগাপুর, ক্যানাডা হয়ে গেছে?"

"জনগণকে বলছেন ধৈর্য ধরতে, আর আপনারা চিতল মাছ ধরছেন। বিদেশ ভ্রমণ করছেন।"

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর চিতল মাছ ধরার খবর সম্প্রতি গণমাধ্যমে এসেছে।

শনিবার কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। যা চলে বেলা পাঁটা পর্যন্ত।

ওই সমাবেশে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ার কারণে জন দুভোর্গ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, বিএনপি নেতাদের ওপর গুম খুন নির্যাতন, সরকারি নেতাদের দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ আরও বিষয়ে বক্তব্য রাখেন দলের নেতারা।

এ সময় সমাবেশে অংশ নেয়া হাজার হাজার নেতাকর্মী সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেয়। সেই সাথে তারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান।