রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: অধিকৃত খেরসন শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, সরে যাচ্ছে রুশ প্রশাসন

ছবির উৎস, Izvestia
ইউক্রেনের শহর খেরসন নিয়ন্ত্রণকারী রুশ-সমর্থিত প্রশাসন এখন ঐ শহর থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। তারা সাথে নিয়ে যাচ্ছে সেখানকার রুশ-পন্থী বেসামরিক মানুষদের। খেরসন পুনর্দখলের লক্ষ্য নিয়ে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা ঐ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এরপরই রুশ পক্ষের প্রশাসনকে সরিয়ে নেয়ার আদেশ জারি করা হয়েছে।
খেরসনের রুশ-পন্থী প্রশাসক ভ্লাদিমির সাল্ডো বলেছেন, দনিপার নদীর পশ্চিম তীরের এই শহরের ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষকে "সুশৃঙ্খলভাবে ও ধাপে ধাপে" সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
রুশ টিভির খবরে দেখা যাচ্ছে, লোকজন দনিপার নদীরে কূলে জড়ো হচ্ছে এবং নৌকায় ওঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু এদের সংখ্যা কত হতে পারে সে সম্পর্কে কোন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
এবছরের শুরুতে রাশিয়া যখন ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল তখন প্রথম যে শহরের পতন হয় সেটি ছিল খেরসন। এখন একে ইউক্রেনের বাহিনীর জন্য কৌশলগত লক্ষ্যের একটি প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
আরও পড়তে পারেন:

তবে এই শহরের প্রশাসনিক প্রধান জোর দিয়ে বলেছেন, তারা হঠে গেলেও রুশ সৈন্যরা পেছনে থেকে যাবে এবং একে রক্ষার জন্য আমৃত্যু লড়াই করবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোডোলিয়াক উল্লেখ করেছেন, খেরসনকে রাশিয়ার সাথে যুক্ত করার অনুষ্ঠানের এক মাসেরও কম সময় পার হয়েছে: "অলীক কল্পনার জগতে বাস করলে বাস্তবতা বড়োই কঠিন হয়।"
সোমবার রাতে ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন সামরিক কমান্ডার জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিন আঞ্চলিক রাজধানী খেরসন শহরের পরিস্থিতিকে কঠিন বলে বর্ণনা করেছিলেন।
ভিডিও দেখতে পারেন:
রুশ-সমর্থিত প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা কিরিল স্ট্রেমাসভ খেরসনের বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী "খুব অদূর ভবিষ্যতে" শহরটির ওপর আক্রমণ শুরু করবে। "কেউ পিছু হটবে না, কিন্তু আমরা একই সাথে আপনার জীবন বাঁচাতে চাই। দয়া করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নদীর বাম কূলে চলে যান।"
মি. সাল্ডো, যিনি মস্কোর নিযুক্ত ঐ অঞ্চলের গভর্নর, তিনি রাশিয়ান টিভিকে বলেছেন, সামরিক হামলার মুখে খেরসনের বাসিন্দাদের ফেলে রাখা ''অনাকাঙ্ক্ষিত'' ছিল। "গত দু'দিনে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ খেরসন ছেড়ে গেছে," তিনি জানান।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী একটি বড়ো মাপের হামলা চালানোর জন্য তৈরি হচ্ছে এবং দনিপার নদীর ওপর কাখোভকা বাঁধ ধ্বংস করে পুরো এলাকা পানিতে ভাসিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে।
খেরসনের পাশাপাশি ক্রেমলিন গত মাসে আরও তিনটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ বলে ঘোষণা করেছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।









