টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২: ব্রিটিশ এশিয়ান মঈন আলী যেভাবে ইংল্যান্ডের অলিখিত নেতা হয়ে উঠলেন

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
সম্প্রতি ইংল্যান্ড দলে মঈন আলীর সতীর্থ বেন স্টোকসের ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না, বিশেষতঃ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ।
ব্যাটে রান নেই, বল হাতে খুব আহামরি কিছু করেননি।
মঈন আলী এখানে বেন স্টোকসের ত্রাতা হয়ে এসেছেন, "বেন রান করবেই।"
ইংল্যান্ডের দ্য গার্ডিয়ানের হেডলাইনে এই বাক্যটিই ছিল।
মঈন আলী যখন ঘোষণা দিয়ে বললেন, বেন স্টোকসের পাশে পুরো দল আছে, তখন মনেই হয়েছে মঈন আলী যেন দলটার একজন মেন্টর, যিনি ধরে রেখেছেন পুরাতন ও নতুনকে।
ক্রিকেটারদের নিয়ে জানতে পারেন
গত এক বছরে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে এসেছে নানা পরিবর্তন, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে থেকে বিদায় নিয়েছেন ইয়ন মরগান। জেসন রয় এখন আর ব্যাটে আগের মতো রান পাচ্ছেন না।
আগের মতো আছেন কেবল মঈন আলী।
যিনি সম্প্রতি ইংল্যান্ডের একটি টি-টোয়েন্টি দল নিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে ৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে জিতে এসেছেন।
পাকিস্তানের মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে জিতেই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, "আমরা বিপদজনক।"
ইংল্যান্ড দলটা আক্ষরিক অর্থেই বিপদ বয়ে আনতে পারে প্রতিপক্ষের জন্য। দুই একটা ম্যাচে তার ইঙ্গিত দেখা গেছে ইতোমধ্যে।
যেমন লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড ১৭০ রান তাড়া করেছে ১৪ ওভার তিন বলে।
আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১ ওভারেই ১৩২ রানের জুটি গড়েন জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেইলস।
মঈন আলী এই দলটারই একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, নেতা ও অভিজ্ঞ একজন ক্যাম্পেইনার।
যিনি ইংল্যান্ডের আপাতকালীন অধিনায়কত্ব করতে পেরে 'গর্বিত'।

ছবির উৎস, Getty Images
মঈন আলীর পারফরম্যান্স কেমন সম্প্রতি
চলতি বছরের জুলাই মাসে মঈন আলী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮ বলে ৫২ রানের একটি ইনিংস খেলেন।
জনি বেয়ারস্টোর সাথে ৩৫ বলে ১০৬ রানের একটি জুটি গড়েন- যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রেকর্ড।
জুলাই মাস থেকে বিশ্বকাপের শুরু পর্যন্ত ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড।
এই সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ডের সেরা ব্যাটসম্যান মঈন আলী।
১৩ ম্যাচে ২৭৯ রান তুলেছেন তিনি ১৭১ স্ট্রাইক রেটে।
তার চেয়ে বেশি রান করেছেন ডাউইড মালান কিন্তু গড় ও স্ট্রাইক রেটে অনেক পিছিয়ে।
এই সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ডর হয়ে মঈন আলীর চেয়ে বেশি ছক্কা কেউ মারেনি।
এই ১৩ ম্যাচেই মঈন আলী তিনটি ফিফটি হাঁকিয়েছেন, এর বাইরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ২৭ বলে ৪৪ রানের ইনিংসও আছে।
পাকিস্তান সিরিজের আগে মঈন আলী বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেও একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়কত্ব করেছিলেন।
ব্রিজটাউনে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ২৮ বলে ৬৩ রান ও ২ উইকেট নিয়ে প্রায় একাই ম্যাচ জিতিয়ে এনেছিলেন।
ইনিংসের শেষ দিকের ওভারগুলোতে যখন দ্রুত রানের প্রয়োজন হয় তখন মঈন আলী অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন, ব্রিজটাউনে সেদিন তিনি এক ওভারে ২৮ রান নিয়েছিলেন।
ছোট ফরম্যাটের মঈন আলী এমন ইনিংসে অলংকৃত।

ছবির উৎস, Getty Images
২০২০ সালে ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদ গৌরাভ সুন্দারারামানের একটি বিশ্লেষণে উঠে এসেছিল, কেন মঈন আলী এতো প্রভাবশালী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার।
২০১৯-২০ মৌসুমের ২৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখে তিনি দেখেছেন আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন কিংবা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের সাথে মঈন আলীও আছেন প্রভাবশালী এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো করা ক্রিকেটারদের তালিকায়।
৩৪ বছর বয়সে ২০২১ সালে টেস্ট ক্রিকেট ছাড়ার পর তিনি আবুধাবি টি-টেন খেলতে গিয়ে ২৩ বলে ৭৭ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন।
তখন তিনি বলেছিলেন, 'টেস্ট ক্রিকেট ছাড়ার পর শেকলমুক্ত লাগছে'।
মঈন আলী মনে করেন এই সময়টায় সব ক্রিকেটারেরই বেছে খেলা প্রয়োজন।
বিশেষত তিন ফরম্যাটে ক্রিকেট চালিয়ে নেয়াটাকে তিনি বোঝা মনে করেন।
বেন স্টোকস ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে বিদায় নেয়ার পর মঈন আলী মত দিয়েছিলেন, 'দ্রুতই ওয়ানডে ক্রিকেটের গুরুত্ব কমতে থাকবে ক্রিকেটারদের কাছে'।
চলতি বিশ্বকাপে যেসব ক্রিকেটারদের ওপর নজর রাখতে পারেন

ছবির উৎস, Getty Images
মঈন আলী ইংল্যান্ডের এখন 'সম্মানিত একজন নাগরিক'
ইএসপিএনক্রিকইনফোর লেখক জর্জ ডোবেলের কলামে তিনি মঈন আলীর নিঃস্বার্থ মনোভাবের প্রশংসা করেছেন।
দলের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে এসেছেন তিনি।
চলতি বছরের জুন মাসে মঈন আলী 'অর্ডার অফ ব্রিটিশ এম্পায়ার'- ওবিই উপাধি পেয়েছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্মদিনে।
ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটে অবদানের কারণে তিনি এই উপাধি পান তখন।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মঈন আলী বলেছিলেন তখন, তার এই স্বীকৃতি ব্রিটিশ এশিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য একটা বড় পাওয়া, 'যারা এখনও সেভাবে ইংল্যান্ডর মূল স্রোতে জায়গা করে নিতে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন'।
মঈন আলীর দাদা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই কাশ্মীর থেকে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন, সেখানেই তার মায়ের জন্ম হয়।
মঈন আলী মনে করেন, "এটা আমার যাত্রার একটা স্বীকৃতি। আমার উঠে আসা, আমার অতীত এবং আমি যেখানে এসেছি এসবের মূল্য বুঝে পাচ্ছি এখন।"








