জি কে শামীম: ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে আটক সাবেক যুবলীগ নেতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় আটক হয়েছিলেন জি কে শামীম

বাংলাদেশে আলোচিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় আটক সাবেক যুবলীগ নেতা ও প্রভাবশালী ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীমকে অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দুই হাজার উনিশ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে নাটকীয় এক অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল। তিনি জি কে শামীম নামে বেশি পরিচিত।

একই অভিযোগে তার সাতজন দেহরক্ষীকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌসুঁলি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন হাওলাদার বিবিসিকে জানিয়েছেন, "আদালত বলেছে তাদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হল।

"আর ২০১৬ সালে অস্ত্রের লাইসেন্স সম্পর্কে একটি বিধিমালা হয়েছিল। বিধি অনুযায়ী কেউ অস্ত্রের লাইসেন্স নিলে সেই অস্ত্র সে নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করবে। সেই লাইসেন্স দিয়ে অন্যের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ হতে পারবো না। আদালত বলেছে তার দেহরক্ষীরা লাইসেন্সকৃত অস্ত্র দিয়ে জি কে শামীমের নিরাপত্তা দিয়ে সেই বিধি ভঙ্গ করেছে।"

দুই হাজার উনিশ সালের সেপ্টেম্বরে জি কে শামীম নামে পরিচিত যুবলীগের এই সাবেক নেতার বাড়ি ও কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নগদ প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা এবং ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর বা আমানতপত্র জব্দ করা হয়। এসময় মদ ও অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

সেসময় টেণ্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জি কে শামীমকে আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।

ক্যাসিনো

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় বহু ক্যাসিনো অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চারটি মামলা হয়।

পরের বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অস্ত্র মামলায় মি. শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

জি কে শামীম তখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ছিলেন। পরে যুবলীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান

দুই হাজার উনিশ সালে ঢাকায় অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সেসময় যুবলীগের আরেকজন নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকেও আটক করা হয়।

তার কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কয়েকজন নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

অবৈধভাবে কিভাবে এতদিন ধরে ক্যাসিনো ব্যবসা চলেছে সেসময় সেই প্রশ্নও উঠেছিল।

একই বছর অক্টোবরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মামলায় তার বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৯ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

মি. শামীমকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা ওই সময় বাংলাদেশে বিরাট আলোচনার জন্ম দেয়। তাকে গ্রেপ্তার এবং ক্যাসিনো সংক্রান্ত অভিযান নিয়ে দিনের পর দিন ফলোআপ সংবাদ ছাপা হয় দেশটির গণমাধ্যমগুলোতে।

কারাগারের বদলে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকা, সবার অগোচরে মামলায় জামিন এবং পরে আদালতের সে জামিন আদেশ প্রত্যাহার, এরকম নানা কারণে এরপরও নানাভাবে আলোচনায় এসেছেন জি কে শামীম।