এশিয়া কাপ ২০২২: ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা, সুপার ফোরে কার শক্তি কেমন, দুর্বলতা কোথায়

ছবির উৎস, International Cricket Council
ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা- এশিয়া কাপের প্রথম পর্ব শেষে এই চারটি দল এবারে খেলবে সুপার ফোর।
আজই (শনিবার) শুরু হচ্ছে সুপার ফোর পর্বের খেলা।
বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান।
চারটি দলই এখন এশিয়া কাপ জয়ের জন্য একে অপরের বিপক্ষে খেলবে।
প্রথম পর্ব শেষে কোন দল কোথায় এগিয়ে আছে এবং কোথায় তাদের দুর্বলতা?
শ্রীলঙ্কা- একতাবদ্ধ একটি দল যাদের হারানোর কিছু নেই
শ্রীলঙ্কা এখনও পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কষ্ট করে সুপার ফোরে জায়গা পেয়েছে।
দলটির শক্তিমত্তা তেমন ফুটে ওঠেনি কোনও ম্যাচেই।
এমনকি দলের বড় তারকা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা পারফর্ম করতে পারেননি প্রত্যাশা অনুযায়ী।
কিন্তু শ্রীলঙ্কা দলবদ্ধভাবে ভালো ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে। ঐ ম্যাচে তাদের সব ক্রিকেটারই দলগতভাবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন।
শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের সদস্য মাহেশ ঠিকসানা ম্যাচ শেষে টুইট করেন, "আমাদের বিশ্বমানের ক্রিকেটারের প্রয়োজন নেই। আমরা ভাইরাই যথেষ্ট।"
বাংলাদেশের বিপক্ষে মূলত শ্রীলঙ্কা সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে।
বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ভুলের ভালো ফায়দা নিতে পেরেছে দলটি, তার মধ্যে একটি কুশল মেন্ডিসের ক্যাচ ছেড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম, তিনি শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৬০ রানের একটি ইনিংস খেলেন।
শ্রীলঙ্কার দলটির অধিনায়ক দাসুন শানাকা নিজের পরিসংখ্যানকে ভুল প্রমাণ করে চলছেন বেশ কয়েক ম্যাচ ধরেই।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই বছর একটি ম্যাচে প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন দাসুন শানাকা। বাংলাদেশ ম্যাচে এবার ৩৩ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলকে সুপার ফোরে উঠাতে ভূমিকা রেখেছেন।
শেষদিকে, তার প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমে আসিথা ফার্নান্দো তিন বলে ১০ রান তুলে নেন।
এই ছোট ছোট সাফল্যগুলো শ্রীলঙ্কাকে আত্মবিশ্বাস দেবে।

ছবির উৎস, Alex Davidson
আফগানিস্তান- আগ্রাসী ক্রিকেটের প্রদর্শনী
আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার রশিদ খান সুপার ফোরে মাঠে নামার আগে বলেছেন, "এই পর্বে আমাদের লক্ষ্য একই ব্র্যান্ডের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা, একই সাথে যেসব ভুল আমরা করেছি সেগুলো আর যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবো।"
আফগানিস্তান ক্রিকেট দলটির সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা দলটির স্পিন আক্রমণ- মুজিব উর রহমান, রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবী, তিনজনই উইকেট শিকারি বল করেন এবং তিনজনেই ইকোনমি রেট খুবই ভালো।
মুজিব ওভারপ্রতি পাঁচ রান দিয়ে ৫টি উইকেট নিয়েছেন দুই ম্যাচে, রশিদ খান রান দিয়েছেন চারের একটু বেশি, ওভারপ্রতি ৫.২৮ রান দিয়েছেন মোহাম্মদ নবী।
এই ইকোনমি রেট টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বেশ ভালো।
এমনকি আফগানিস্তানের পেসার ফজল হক ফারুকী ওভার প্রতি পাঁচের কম রান দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলেন এই ফাস্ট বোলার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশন আফগানিস্তানের জন্য বাড়তি পাওয়া। তারা এই মাঠে খেলে অভ্যস্ত।
শারজাহ স্টেডিয়ামে মুজিবের রেকর্ড দুর্দান্ত, চার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরাও আক্রমণাত্মক শুরু এনে দিতে পারেন।
রহমতুল্লাহ গুরবাজ, হজরতউল্লাহ জাজাই- দুই ওপেনার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে বিধ্বংসী ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়েছেন। দুজন মিলে ২১ ম্যাচে ওপেনিং করে ৮টি ৫০ রানের বেশি জুটি গড়েছেন।
মিডল অর্ডারে নাজিবুল্লাহ জাদরান একাই বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছেন।

ছবির উৎস, Getty Images
পাকিস্তান- বাবর আজমের ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা আর বোলাররা শক্তির জায়গা
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টি-টোয়েন্টি র্যাংকিয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান বাবর আজম এশিয়া কাপে ঠিক নিজের মতো পারফর্ম করতে পারছেন না।
যদিও হংকংয়ের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে জয়ের পর মোহাম্মদ রিজওয়ান বলছেন, এটা নিয়ে 'দুশ্চিন্তার কিছু নেই'।
কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, হংকংয়ের বিপক্ষেও প্রথম তিন জন ব্যাটসম্যান ১৩০ এর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন, যেখানে শেষদিকে খুশদিল শাহ ২৩৩ স্ট্রাইক রেটে, ৫ ছক্কার একটি ইনিংস খেলে ইনিংসটিকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান।
বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপেনিং জুটি খুব দ্রুত রান করেননি। ফলে, এরপর আরও দ্রুত গতিতে রান তুলতে পারেন তারা পরে যথেষ্ট সময় পান না উইকেটে।
ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদ মাজহার আরশাদ টুইট করেছেন, "পাকিস্তানের টপ অর্ডার যেভাবে রান করছে তাতে মিডল অর্ডার ও লোয়ার মিডল অর্ডারকে ঠিকমতো ব্যবহার করা যাছে না । তারা যদি ব্যাট করার সুযোগই না পায়, দক্ষতা দেখাবে কীভাবে?"
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
এই সমস্যার সমাধান হতে পারে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ। বিশেষত নাসিম শাহ, যিনি ভারতের বিপক্ষে একটা ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন।
নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছেন নাসিম, ভালোভাবেই নজর কেড়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের আরেক বড় অস্ত্র শাদাব খান, গত ১২ মাসে তিনি ১৬ উইকেট নিয়েছেন, ওভারপ্রতি ছয়ের কম রান দিয়েছেন এই লেগ স্পিনার।

ছবির উৎস, Getty Images
ভারত- রাভিন্দ্রা জাদেজার চোট ক্ষতির কারণ হতে পারে
পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে ভালোভাবে ভারত এই টুর্নামন্টে শুরু করেছে ঠিক, কিন্তু ভারতের সামগ্রিক অবস্থা এখন ভালোনা।
তরুণ দুই পেসার আরশ্দ্বীপ সিং ও আভেশ খান ঠিক নিজেদের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফর্মটা জাতীয় দলে নিয়ে আসতে পারেননি।
আরও বড় দুশ্চিন্তা হয়ে উঠেছে রাভিন্দ্রা জাদেজার চোট, এই অলরাউন্ডার আর এই টুর্নামেন্টে মাঠে নামতে পারবেন না। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তার জায়গায় দলে ডাক পেয়েছেন আকশার প্যাটেল।

ছবির উৎস, Getty Images
ভারতের পেস বোলিং আক্রমণ এখনও পর্যন্ত খুব একটা ভালো পরিস্থিতিতে নেই। জসপ্রত বুমরাহ'র অনুপস্থিতি মেটাতে পারছেন না কেউই।
ওদিকে টপ অর্ডারে লোকেশ রাহুল নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যাট করতে পারছেন না। প্রথম ম্যাচে নাসিম শাহ'র বলে গোল্ডেন ডাকের পর হংকংয়ের বিপক্ষে ৩৯ বল খেলে করেছেন মাত্র ৩৬ রান।
ভিরাট কোহলি ধীরে ধীরে নিজের ফর্মে ফেরার চেষ্টা করছেন। রোহিত শর্মা ভালো শুরু এনে দেয়ার চেষ্টায় আছেন।
বলা যায় পুরোপুরি তৈরি নয় এই টপ অর্ডার।
তবে এই দলের মূল শক্তি সুরিয়াকুমার ও হার্দিক পান্ডিয়া। এই দুজন যে গতিতে রান করেন এবং মাঠে এই ক্রিকেটারদের ছন্দ প্রতিপক্ষের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ ফেলে।
দুটো ম্যাচেই এর প্রমাণ মিলেছে।








