ডলার সংকট: সাধারণ মানুষের হাতে থাকা অতিরিক্ত বিদেশি মুদ্রা বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে দশ হাজার মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত বা সমমূল্যের অন্য কোন বৈদেশিক মুদ্রা কারও কাছে থাকলে সেটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাংক বা মানি চেঞ্জারের কাছে বিক্রি করে দিতে হবে।
এই সময়ের পর কারও কাছে অতিরিক্ত ডলার পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে উল্লেখ করে বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংক গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে এবং এ সংকট মেটাতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই পটভূমিতে এই নির্দেশ জারি করা হলো।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ডলার সংকটের কারণে দেশটির খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলেও এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরেও ডলারের বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য বাজারে দশটি টিমও নামানো হয়েছিলো।
তবে এখনো খোলাবাজারে ডলারের দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে যা আছে
বিজ্ঞপ্তি বলা হয় যে বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশ থেকে সঙ্গে আনা অনধিক দশ হাজার মার্কিন ডলার বা সমমূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা নিজের কাছে বা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসেবে জমা রাখতে পারেন। পরবর্তী বিদেশ যাত্রায় তা নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু দশ হাজার মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা কারও কাছে রাখা হলে সেটি ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট ১৯৪৭ এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। এমন বৈদেশিক মুদ্রা কারও কাছে থাকলে তা আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাংক বা মানি চেঞ্জারের কাছে বিক্রি করতে হবে।
"নির্দিষ্ট সময়ের পর অননুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা কারও কাছে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে," বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

ডলারের দাম কেন বেড়েছিলো
বাংলাদেশে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে মূলত গত বছর অগাস্ট থেকেই।
মূলত করোনা মহামারির পর সেসময় থেকে বিমান যাত্রা এবং পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ওই সময় থেকে পেশাগত কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ভ্রমণের জন্য বিদেশে যাতায়াত শুরু হয়।
আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় তখন আমদানি বিশেষ করে ভারী যন্ত্রপাতির আমদানির জন্য এলসির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।
খাদ্যপণ্য এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও ডলারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছিলো বলে তখন কর্মকর্তারা বলেছিলেন।
এ চাপ আরও বাড়তে থাকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর।








