বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত না হবার অনুরোধ সরকারের, কিন্তু ঢাকার বাইরে চিত্র কী

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, রাকিব হাসনাত
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভেতর উদ্বেগ যে বাড়ছে তার আরো একটি ইঙ্গিত আজ (বুধবার) পাওয়া যায় যখন সব সরকারি অফিসে বিদ্যুতের ব্যবহার অন্তত ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সাথে বৈঠকে পর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস জানান সাশ্রয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা সরকারি সব অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহার অন্তত ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একই সাথে মন্ত্রণালয়গুলো কীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে তা নিয়ে একটি কর্মপন্থা প্রণয়ন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে সংকট এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত না হতে জনসাধারণের প্রতি আহবান জানিয়েছে সরকার।
কিন্তু ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গরমের ভেতর যেভাবে বারবার লোডশেডিং হচ্ছে তাতে মানুষজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
রাজধানী ঢাকাসহ শহর এলাকাগুলোতে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং চালু হলেও ঢাকার বাইরে একাধিকবার লোডশেডিং এবং মাঠপর্যায়ে ৪/৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছেনা বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে সপ্তাহে একদিন পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ জন্য ব্যয় কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের জরুরি নয় এমন বিদেশ সফর বন্ধ এবং সভাগুলো যতটা সম্ভব অনলাইনে করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যেই রাত আটটার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জ্বালানিখাতে লোকসান কমাতে ডিজেল-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সোমবার থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে। মূলত গ্যাস স্বল্পতার কারণে গ্যাস নির্ভর বেশ কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ঈদুল আযহার আগে থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে রাশ টানা শুরু হয়েছিলো।
সেই সঙ্গে বিশ্বে জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত গ্যাস বা এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার এর আমদানি কমিয়েছে।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি কেমন
পটুয়াখালীর পর্যটন এলাকা কুয়াকাটা যে উপজেলায় সেই কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক জসিম পারভেজ।
সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের সাংবাদিক কবির আহমেদ বলছেন সেখানে গড়ে তিন চারবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে এবং কখন বিদ্যুৎ যাবে এবং কখন আসবে তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই।
তিনি বলছেন, দিনের মধ্যে সাত আটবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে এবং প্রতিবারে গড়ে ঘণ্টা খানেক ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না।
রাজশাহীর সাংবাদিক আনোয়ার আলী বলছেন বিদ্যুতের অভাবে আমন চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারণ বিদ্যুতের অভাবে ঠিকমত সেচের পানি দিতে পারছে না কৃষকরা।
একই অবস্থা যশোরের। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ চালিত সেচ ব্যবস্থা কার্যকর আছে এই জেলায়। এবার বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে মূলত সেচের ওপরেই নির্ভরশীল ছিল সেখানকার কৃষকরা।

ছবির উৎস, NURPHOTO
কিন্তু দিনের বেলায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের জমিতে প্রয়োজনমত পানি দিতে পারছে না সেখানকার কৃষকরা।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ইতোমধ্যেই জানিয়েছে যে তাদের আওতাধীন এলাকায় অন্তত ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে। অন্যদিকে যশোর শহরে চাহিদার তুলনায় ২০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ দেয়ার কথা জানিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো)।
যশোরের সাংবাদিক সাজেদ রহমান বকুল বলছেন গ্রামের দিকে দরকারি সময়গুলোতেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে না মানুষ। সেই তুলনায়, লোডশেডিং শুরু হলেও শহরে সমস্যা ততটা প্রকট নয়।
খুলনায় শহর এলাকার বাইরের চিত্রও প্রায় একই রকম বলে বলছেন সেখানকার সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী। স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে তিনি জানান যে গ্রাম এলাকাগুলোতে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।

সরকারি হিসেবে দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট। তবে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে গত ১৬ এপ্রিল।
পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ২৯ লাখ।








