ঢাকায় ট্রেন লাইনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বিপর্যয়ের পর রেল চলাচল শুরু

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের ঢাকায় বিমানবন্দর রেল স্টেশনে অগ্রিম টিকেট না পাওয়ার জের ধরে ট্রেন লাইনের ওপর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঢাকা থেকে কোন ট্রেন ছেড়ে যেতে পারেনি।
সকাল নয়টার পর থেকে বেলা সাড়ে বারটা পর্যন্ত ঢাকা থেকে কোন ট্রেন ছাড়েনি বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা খায়রুল কবির।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য রোববারের অগ্রিম টিকেট কিনতে সেখানে গিয়েছিলো।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিলো যে টিকেট কালোবাজারির কারণে অনলাইনে টিকেট পাওয়া যাচ্ছিলো না আবার রেল স্টেশনেও টিকেট বিক্রি করা হচ্ছিলো না।
রেলওয়ের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল হক অবশ্য বেলা একটার দিকে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আসায় ট্রেন চলাচল পুরোপুরি শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশে ট্রেনের টিকেট নিয়ে সংকট প্রায় নিয়মিত ঘটনা এবং এর জন্য টিকেট কালোবাজারি বা দুর্নীতিকেই দায়ী করে থাকেন অনেকে।
সম্প্রতি রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে ছয় দফা দাবি নিয়ে অবস্থান করে আলোচনায় আসা মহিউদ্দিন রনি বলছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে টিকেট কালোবাজারি সংক্রান্ত কিছু তথ্য আগেই পাওয়া গেছে।
"শিক্ষার্থীদের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের উচিত এখনি বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ছয় দফা দাবিতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ৭ জুলাই থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এই শিক্ষার্থী।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানিয়েছেন যে রোববার শিক্ষার্থীদের রাজশাহীতে নেয়ার জন্য কিছু বিশেষ পরিকল্পনা তারা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
বিমানবন্দরে স্টেশনে যা হয়েছে
বুধবার সকালে মাত্র বিশ মিনিটের মধ্যে রোববারের রাজশাহী গামী ট্রেনের টিকেট শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এর মধ্যেই অগ্রিম টিকেটের জন্য সেখানে শিক্ষার্থীরা ভিড় করতে শুরু করে।
এক পর্যায়ে কাউন্টারে টিকেট বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তারা সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে নীলফামারীমূখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে আটকে দেয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের সাথে অন্য যাত্রীরাও যোগ দিয়ে 'টিকেট কালোবাজারি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে' শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।
ফলে ঢাকা থেকে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় টিকেট কাউন্টার ভাংচুরেরও ঘটনা ঘটে।
পরে রেলওয়ে পুলিশ ও কর্মকর্তারা দফায় দফায় তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলে বেলা সাড়ে বারটা নাগাদ তারা ট্রেন লাইন ছাড়তে সম্মত হয়।
রেলওয়ের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল হক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে শিক্ষার্থীরা ট্রেন লাইন থেকে সরার পর নীলসাগর এক্সপ্রেসটি নীলফামারী অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।
তিনি বলছেন রেলের কর্মকর্তারা এসে শিক্ষার্থীদের রাজশাহীতে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করার পর তারা লাইন থেকে অবরোধ তুলে নেন।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বিবিসি বাংলাকে বলছেন যে রোববার রাজশাহীর সিল্ক সিটি ট্রেনটির চলাচল বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে রোববার সেটিকে বিশেষ ট্রেন হিসেবে চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।
"এ ট্রেনে সাড়ে আটশর মতো শিক্ষার্থী রাজশাহী যেতে পারবে বলে আশা করছি। তবে মনে রাখতে হবে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাবে দেড় লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। তাই শুধু রেলের মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব হবে না," বলছিলেন মিস্টার তালুকদার।

ছবির উৎস, Getty Images
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন দায়ী করছেন কর্মকর্তারা
ঢাকায় রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের 'অবাস্তব' সিদ্ধান্তের কারণেই শিক্ষার্থীদের রাজশাহী যাওয়া নিয়ে এমন সংকট তৈরি হয়েছে।
আগামী ২৪-২৭ জুলাই সেখানে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রায় এক লাখ ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী রাজশাহীতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
রেল কর্মকর্তারা বলছেন বাস, ট্রেন ও আকাশপথ মিলিয়েও এত শিক্ষার্থী বহন করার সুযোগ নেই।
"রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঢাকাসহ আরও কিছু শহরে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নিলে এ সংকট তৈরি হতো না," বলছিলেন রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার।









