বরিস জনসন: এখনই প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়তে চাপ, কিন্তু উত্তরসুরী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার চালাতে চান তিনি

ছবির উৎস, Dan Kitwood/Getty Images
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার মন্ত্রী ও এমপিদের সমর্থন হারানোর পর কনজারভেটিভ পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
দলের ভেতর থেকে তীব্র চাপ এবং বিদ্রোহের মুখে বরিস জনসন পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও প্রধানমন্ত্রীর পদ তিনি এখনই ছাড়ছেন না। গ্রীষ্ম মৌসুমের মধ্যে তার পদে কে অভিষিক্ত হবেন তা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেয়া তার ঘোষণা তিনি বলেছেন: "পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল এই পদটি ছেড়ে দিতে আমার খারাপ লাগছে। কিন্তু রাজনীতিতে কেউই অপরিহার্য নয় এটা আমি মানি।"
তিনি জানান নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করার সময়সূচি আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, সরে দাঁড়ানোর জন্য সিদ্ধান্ত নিতে তিনি দেরি করেছেন, কারণ ভোটাররা তাকে যে বিপুল ম্যানডেট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে সেই দায়িত্ব তিনি ব্যক্তিগতভাবে পালন করতে আগ্রহী ছিলেন।
"ভোটারদের যেসব প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম তা পূরণ করা আমার কর্তব্য ও দায়বদ্ধতা," মি. জনসন বলেন।

তার অর্জন নিয়ে তিনি গর্ববোধ করছেন জানিয়ে বরিস জনসন বলেছেন তার নেতৃত্বে ব্রেক্সিট হয়েছে, দেশ কোভিড মহামারি থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় ব্রিটেন তার নেতৃত্বে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে।
মি. জনসন বলেন, ব্রিটেনকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে তিনি কাজ করছেন, কিন্তু তার সহকর্মীদের তিনি বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন যে এখন সরকারে পরিবর্তন আনা হবে "পাগলামি"- কিন্তু তিনি বলেন তার যুক্তি তারা মানেননি যা "দু:খজনক" বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্রোহ ও চাপের মুখে
গত কিছুদিন ধরেই পদত্যাগের প্রশ্নে মি. জনসন বেশ চাপের মুখে ছিলেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী সাজিদ জাভিদ মঙ্গলবার পদত্যাগ করার পর গতকাল বুধবার থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ঢল নামে। মন্ত্রী ও সংসদীয় কর্মকর্তা মিলে ৫০জনের বেশি পদত্যাগ করেছেন।
কনসারভেটিভ পার্টির মধ্যে তীব্র বিদ্রোহ এবং মন্ত্রিসভা থেকে একের পর এক পদত্যাগের পরও তার প্রধানমন্ত্রীত্ব রক্ষার মরিয়া চেষ্টা চালান মি. জনসন।
নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী নাদিম যাহাউই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল এবং তার ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত অন্যান্য সিনিয়র এমপিরা তাকে পদত্যাগ করে সম্মানের সাথে চলে যেতে অনুরোধ করলেও তিনি তার পদ আঁকড়ে থাকতে অনড় ছিলেন।
লকডাউনের মধ্যে ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টি নিয়ে পুলিশি তদন্তসহ নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গত দুবছরে দলের মধ্যে অনেকের আস্থা হারিয়েছেন বরিস জনসন।
সবশেষে, সাবেক ডেপুটি চিফ হুইপ ক্রিস পিঞ্চারের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তিনি যেভাবে সামাল দিয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর দলের ভেতর তার প্রতি আস্থার সঙ্কট তীব্র হয়ে উঠেছিল।
তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে টোরি ব্যাকবেঞ্চারদের কমিটি দলের নিয়ম বদলে তার বিরুদ্ধে আবার নতুন অনাস্থা ভোট আনার উদ্যোগ নিচ্ছিল।
ফলে তার পক্ষে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ছবির উৎস, SUE GRAY REPORT / GOV.UK
নড়বড়ে অবস্থায় জনসন
দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেবার আগে মি. জনসন তার নতুন একটা মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন তার উত্তরসুরী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তার নেতৃত্বে এই মন্ত্রিসভা কাজ করবে।
কিন্তু তার নিজের দলেরই বেশ কিছু এমপি আগামী কয়েক মাসও তার দায়িত্বপালন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা চাইছেন মি. জনসন এখনই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিন।
ওদিকে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টারমার বলেছেন বরিস জনসনকে অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে।
তিনি হুমকি দিয়েছেন কনজারভেটিভরা যদি তাকে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে না দেয় তাহলে বিরোধীরা সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে। সেই ভোটে কনজারভেটিভ পার্টি হেরে গেলে সাধারণ নির্বাচন ডাকার পথ প্রশস্ত হবে।
দলের নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি ঠিক করবে টোরি ব্যাকবেঞ্চারদের কমিটি। কিছু কিছু এমপি চাইছেন এই কমিটি উত্তরসুরী নির্বাচনের সময় যেন সংক্ষিপ্ত করে যাতে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
সব মিলিয়ে মি. জনসনের জন্য আগামী কয়েকমাস যে রীতিমত কঠিন হবে তেমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।








