ডোনাল্ড ট্রাম্প: ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার শুনানিতে মৃত্যু হুমকির বর্ণনা দিলো ভোট কর্মীরা

ছবির উৎস, Getty Images
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের শুনানিতে বলা হয়েছে যে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বাতিল করে দিতে রাজি হননি বলে নির্বাচন কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা।
অ্যারিজোনা স্টেট হাউজের স্পিকার রুস্টি বাওয়ার শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেছেন তাদের হয়রানি করা এখনো অব্যাহত আছে।
জর্জিয়ার একজন ভোট গণনাকারী বলেছেন, তিনি ঘর থেকে বের হতেই ভয় পেতেন কারণ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে টার্গেট করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সিলেক্ট কমিটি ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গার ঘটনা নিয়ে এখন শুনানি করছে।
ওই কমিটি ইতোমধ্যেই মিস্টার ট্রাম্পের বিরুদ্ধ অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ এনেছে।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারি কংগ্রেসে যখন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছিলো, তখন কীভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা কংগ্রেস ভবনে ঢুকে আগ্রাসন চালিয়েছিলো প্রায় এক বছর ধরেই তার তদন্ত করছে ওই কমিটি।
মঙ্গলবার ছিলো শুনানির চতুর্থ পর্ব। এই দিনে অ্যারিজোনা ও জর্জিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের বক্তব্য শোনা হয়। উভয় রাজ্য আগে রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দিলেও এই নির্বাচনে মিস্টার ট্রাম্প উভয় রাজ্যে হেরে গিয়েছিলেন।
"আমরা অতিরিক্ত প্রায় বিশ হাজার ই-মেইল পেয়েছিলাম। আর লাখ লাখ ভয়েস মেইল ও টেক্সট। আমরা কাজ করতে পারছিলাম না," মিস্টার বাওয়ার বলেছেন কমিটিকে।
২০২০ সালে মিস্টার ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করা মিস্টার বাওয়ার বলছিলেন যে হুমকি আর উপহাসের শিকার হয়েছেন তারা নিয়মিত। এমনকি তার বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে যৌন নিপীড়নকারী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
"এটা ছিলো চরম বিরক্তিকর," বলছিলেন তিনি।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি স্মরণ করেন যে মিস্টার ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি গিলিয়ানি এক পর্যায়ে তাকে বলেছিলেন যে তারা অনেক তত্ত্ব পেয়েছেন, কিন্তু প্রমাণ পাননি।
এবারের শুনানিতে জর্জিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তা শায়ে মোসে ও তার মা রুবি ফ্রিম্যান সাক্ষ্য দিয়েছেন।
জর্জিয়ায় জো বাইডেন প্রায় বার হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। তবে মিস্টার ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন।
রেকর্ড করা এক বার্তায় শোনা যায় যে মিস্টার ট্রাম্প মিজ মোসেকে 'পেশাদার ভোট প্রতারক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
"আমি আমার নাম হারালাম। সম্মান হারালাম। এমনকি নিরাপত্তা বোধটুকুও হারিয়েছি," রুবি ফ্রিম্যান বলছিলেন।
তিনি প্রশ্ন করেন, "আপনি কি জানেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আপনাকে টার্গেট করলে আপনার কেমন বোধ হবে?"

ছবির উৎস, Getty Images
"এরপর আমি কাউকে আমার বিজনেস কার্ড দেইনা। আমি চাইনা কেউ আমার নাম জানুক।"
তিনি কমিটিতে বলেন যে ট্রাম্প সমর্থকরা তাকে খুঁজতে তার দাদীর বাড়িতেও গিয়েছিলো।
রিপাবলিকান দলীয় একজন ভোট সংগঠকের বক্তব্যও শুনেছে সিলেক্ট কমিটি।
এই শুনানিতে অংশ নিয়ে জর্জিয়ার প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে যে অভিযোগ করেছিলো তার সত্যতা পাওয়া ছিলো সাগর থেকে বেলচা দিয়ে পানি সরানোর মতো কঠিন।
জর্জিয়ার স্টেট সেক্রেটারি ব্রাড র্যাফেন্সপার্জার বলেছেন তারা যত অভিযোগ পেয়েছিলেন তার প্রতিটিই তারা তদন্ত করে দেখেছিলেন।








