এডিটার'স মেইলবক্স: কোক স্টুডিও পকিস্তান ও নারীদের পোশাক বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন

চলতি সপ্তাহে যেসব খবর আলোচনায় ছিল সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল কোক স্টুডিও পাকিস্তানের ভারতে তুমুল জনপ্রিয়তার একটি খবর। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ায় ডিজিটাল মাধ্যমে কোক স্টুডিও বলে একটি শো বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

"পাকিস্তানে দীর্ঘ দিন ধরে চলা মিউজিক শো কোক স্টুডিও সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় অঙ্গনে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। চির বৈরি এই দুটি দেশের মধ্যে সব সম্পর্ক যখন তলানিতে এসে ঠেকেছে, তখন এই মিউজিক শো পাকিস্তানের প্রতি ভারতীয়দের ঘৃণা দূরে ঠেলে ফেলে দিয়েছে। কোক স্টুডিও পাকিস্তান বহু ভারতীয়দের মন জয় করে নিয়েছে।

''কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দেশ দুটির মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ও বন্ধ। কিন্তু কোক স্টুডিও এটি প্রমাণ করছে সুরের মাধ্যমে চরম শত্রুর মনও জয় করে নেওয়া সম্ভব।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. সরদার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চরম শত্রু দু'দেশের মানুষের মধ্যেই বন্ধন তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু সে বন্ধন কি আসলেই টেকসই হয়? পাকিস্তানি গান তো ভারতে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয়, আর পাকিস্তানে বলিউডের জনপ্রিয়তা নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই । কিন্তু তা সত্ত্বেও কিন্তু কোন সঙ্কট তৈরি হলেই দু'দেশেই জাতীয়তাবাদী উগ্রতা এবং একে অপরের প্রতি বৈরিতা যেন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

উগ্রতা আর বৈরি মনোভাবের প্রসঙ্গে আসি নরসিংদীর ঘটনা ধরে নারীদের পোশাক নিয়ে লেখা একটি চিঠিতে। লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

"বিভিন্ন সময়ে শোনা যায় নারী তার পোশাকের কারণে ধর্ষণের শিকার হন। কিন্তু কেন এইটা হয়? পুরুষকেই তখন সব দোষ দেওয়া হয়। আসলেই নারীর তার পোশাক পরিধানের জন‍্য কি কোন দোষ নেই সমাজ ভেদে? হুট করে পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরে সে বিভিন্ন সমাজে ঘুরে বেড়াবে তা তো কাম‍্য নয়। আমরা তোআর এখনো পশ্চিমা সভ‍্যতায় পৌছাইনি। তাই পোশাক পরিধানের ব‍্যাপারে নারীদেরও সব সময় সচেতন হওয়া দরকার।"

আপনার কথাটা ঠিক বোধগম্য হল না মি. ইসলাম। আপনি নিশ্চয়ই বলছেন না যে, নারীকে ধর্ষণ করা হলে, পুরুষ নয় দোষটা নারীরই হবে? কারণ তার পোশাক। এই কথা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য না। যে পুরুষ ধর্ষণ করে, সে ধর্ষক এবং তার আইন-সম্মত শাস্তি হওয়া উচিত। সেখানে ভিকটিম নারী কী পোশাক পরেছিলেন, তা কোনভাবেই একটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো যায় না। যদি তা করা হয়, তাহলে সেটা হবে ধর্ষণকে সমর্থন করার সামিল, ধর্ষকের অপরাধ আড়াল করার সামিল। কোন সভ্য সমাজে নারীর পোশাককে ধর্ষণের ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব না।

নরসিংদীর ঘটনা নিয়ে বিবিসি বাংলার পরিবেশনা কী আপত্তিকর? তাই বলছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:

'''দিন আগে নরসিংদীর রেলস্টেশনে এক তরুণী আধুনিক সংস্কৃতির পোশাকের নামে দৃষ্টিকটু পোশাক পরায় বাধা দেন এক নারী। ঐ নারীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দুপাশে কালো পোশাক পরা বাহিনীর দুই সদস্য এমন ভাবে দাঁড়িয়ে পত্রিকায় ছবি দিয়েছেন মনে হয় যেন তারা ভয়ঙ্কর কোন সন্ত্রাসী ধরে ফেলেছেন। এ বিষয়ে বিবিসি বাংলার অবস্থান আমার মতো অনেক শ্রোতাকে অবাক ও বিস্মিত করেছে।

''বিবিসি কি আধুনিকতার নামে অপসংস্কৃতি ও নেতিবাচক মূল্যবোধকে প্রমোট করছে! এক্ষেত্রে বিবিসি খুব হাইলাইট করে পোশাকের স্বাধীনতার কথা বলছে এবং এ বিষয়ে কয়েকজন নারী অধিকারকর্মীদের নরসিংদী রেলস্টেশন ভ্রমণ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও করেছে।"

বিবিসির অবশ্যই একটি উদারপন্থী মূল্যবোধ আছে মি. হক, সেটা কারো কাছে অজানা নয়। মুক্ত চিন্তা, বাক স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তি অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার - এসবই বিবিসির মূল্যবোধের অংশ, যে মূল্যবোধের কারণেই বিবিসি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের খবর সততা এবং নিরপেক্ষতার সাথে পরিবেশন করেছিল।

নরসিংদীর ঘটনার খবর পরিবেশনা সেই মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন না। এখানে আমরা কোন অপসংস্কৃতি প্রোমোট করছি না। বরং বলবো বিবিসি তার উদারপন্থী মূল্যবোধ থেকেই নারী অধিকারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

এবারে আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে। বিবিসির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাকের গণতন্ত্র চর্চা নিয়ে যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে তা নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরার প্রসাদপুর থেকে শামীমা আক্তার লিপি:

"বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে দেখলাম কাক তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে একত্রিত হয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে মত প্রকাশ করে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থা তাদের গবেষণায় এটি পেয়েছে। কাক শুধু নয় আমার মনে হয় পৃথিবীতে দলবদ্ধভাবে থাকা সকল প্রাণী তাদের সিদ্ধান্ত নিতে একই পন্থা অবলম্বন করে। বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয় মনে হল পুরো রিপোর্ট পড়ে।"

ঠিকই বলেছেন মিস আক্তার, কাক যে তার জীবন গণতান্ত্রিক পথে চালায় তা ক'জনেরই জানা ছিল? তবে অনেক পশু-পাখির মধ্যে, বিশেষ করে পাখিদের মধ্যে দলবদ্ধভাবে কাজ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তারা কীভাবে নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় করে, তা জানতে পারলে ভালই হত। আমাদের কানে যা কিচির-মিচির মনে হয়, তাদের জন্য সেগুলো হয়তো বাংলার মতই একটি ভাষা।

ভাষা থেকে আসি শিক্ষার বিষয়ে। লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

"সম্প্রতি ৫৫ বছর বয়সে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তৈরি করেছেন গাজীপুরের বেলায়েত শেখ। 'জীবনের গল্পটা যদি এমন হতো, শেষ থেকে আবার শুরু করা যেত' এই বাক্যটিকে তিনি সত্য প্রমাণ করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন এবং এটাই তো দেখছি সেই শেষ থেকে শুরুর গল্প! ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষ যে সব করতে পারে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ তিনি তৈরি করেছেন তিনি। সাথে এটাও প্রমাণ করেছেন, আসলেই শিক্ষা গ্ৰহণের কোন বয়স নেই।"

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. ইসলাম, শিক্ষা বা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য বয়স কোন বাধা নয়। ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। আত্মবিশ্বাস থাকলে অনেক বাধা পেরনো সম্ভব। বেলায়েত শেখ সেটাই প্রমাণ করেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় রেডিওতে প্রবাহ অনুষ্ঠান শুনে ভাল লেগেছে জানিয়ে লিখেছেন নওগাঁর সাপাহার থেকে আলী আহম্মেদ আরিফ:

"বি,বি,সি বাংলার সংবাদ শুনলাম। বেশ কয়েকটি পর্ব ভাল লেগেছে। যেমন, ঢাকার সংবাদদাতা শাহনাজ পারভিনের প্রতিবেদনে নওগা জেলার খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বললেন, কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ধান চালের দাম দিন দিন বাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি আমাদের এমপি। বেশ ভাল লাগলো তার কথা শুনে। এই মূল্যবান কথাগুলো বলার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ মি. আহম্মেদ, আমাদের অনুষ্ঠান শোনার জন্য এবং চিঠি লেখার জন্য।

এবারের ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্মদিন নিয়ে একটি প্রশ্ন, পাঠিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:

"এ'বছর ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর পূর্ণ করবেন। তিনি কমনওয়েলথভুক্ত ১৬টি দেশেরও রানি। খুব কম বয়সে তিনি ব্রিটেনের রাজ সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হোন। তাঁর বয়স বর্তমানে ৯৬ বছর। জানতে পারলাম রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দুটো জন্মদিন পালন করা হয়। কিন্তু দুটো জন্মদিন পালনের কারণ কী?"

ভাল প্রশ্ন করেছেন হাকিম মিঞা। দু'বার জন্মদিন পালনের ঐতিহ্য শুরু করেন রাজা দ্বিতীয় জর্জ, ১৭৪৮ সালে। তার জন্ম হয়েছিল নভেম্বর মাসে। কিন্তু তিনি গ্রীষ্মকালে প্রাসাদের বাইরে সবাইকে নিয়ে তার জন্ম উৎসব পালন করতে চেয়েছিলেন। তাই জুন মাসে তার সরকারি জন্মদিনের তারিখ ঘোষণা করা হয়, যেদিন একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক কুচকাওয়াজও হয়।

এরপর থেকে, ব্রিটেনে রাজা বা রানির প্রকৃত জন্মদিন যেদিনই হোক না কেন, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘটা করে তাদের জন্মদিন পালন করা হয়ে আসছে। বর্তমান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রকৃত জন্মদিন এপ্রিল মাসের ২১ তারিখ।