পি কে হালদার নিয়ে ভারতের তদন্তের তথ্য চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় পি কে হালদারের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত খবরাখবর
ছবির ক্যাপশান, আলোচিত পি কে হালদারকে ভারতে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাকে নিয়ে নানা ধরনের খবর প্রকাশ হচ্ছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে ।
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্নসাৎ এবং পাচারের অভিযোগে পালিয়ে থাকা প্রশান্ত কুমার হালদার বা পি কে হালদার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সেখানে যে তদন্ত হচ্ছে, সেই তদন্ত সম্পর্কে তথ্য দেয়ার জন্য বাংলাদেশ অনুরোধ জানাবে বলে জানা গেছে।

ঢাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, যেহেতু গ্রেপ্তারের পর ভারতেও পি কে হালদারের অনেক সম্পদ থাকার খবর বেরিয়েছে, সেজন্য সেখানকার তদন্তের তথ্য বাংলাদেশের জানা প্রয়োজন।

ভারতের সাথে যোগাযোগ করে তাকে দ্রুত ফেরত আনার ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারেও দুদক বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

দুই বছর আগে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ধরা পড়েন গত শনিবার।

বাংলাদেশে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং পিপলস লিজিং সহ চারটি প্রতিষ্ঠানের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্নসাৎ এবং পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের ৩৬টি মামলা রয়েছে।

এখন ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশটির ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট বা ইডি যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় মি: হালদারের বাড়িসহ স্থাবর অনেক সম্পদ কেনার কথা বলা হয়েছে।

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাৎ এবং পাচারের অভিযোগে দুদকের ৩৬টি মামলা রয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাৎ এবং পাচারের অভিযোগে দুদকের ৩৬টি মামলা রয়েছে।

ভারতের তদন্তের তথ্য দুদকের কেন প্রয়োজন

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ বলেছেন, ভারতের তদন্তে যে সব তথ্য পাওয়া যাবে, সেই তথ্য দেয়ার জন্য দুদক অনুরোধ করবে।

"ভারতে তার (পি কে হালদার)কী সম্পদ আছে-সেটাতো আমাদের জানা ছিল না। এখন তো তা প্রকাশ হচ্ছে। ঐ তথ্য সংগ্রহ করারও আমরা চেষ্টা করবো," বলেছেন দুদকের চেয়ারম্যান।

তিনি আরও জানিয়েছেন, দুদক ভারতের সাথে যোগাযোগ করে সেই তথ্য সংগ্রহ করবে।

"আমরা (দুদক) ভারতে আমাদের কাউন্টারপার্ট যারা আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করবো। এছাড়া আমাদের সরকারের মাধ্যমে ও ভারতে আমাদের অ্যামবেসির মাধ্যমেও আমরা চেষ্টা করবো।"

তিনি উল্লেখ করেন, এসব চেষ্টার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলে দুদকের মামলাগুলোর তদন্তে তা সহায়ক হবে।

এখন ভারতেও পি কে হালদারের বিরুদ্ধে সেই দেশের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র রাখা এবং সেখানে সম্পদ কেনার অভিযোগ তদন্তের কথা বলা হচ্ছে।

সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের আইনে ভারতের সাথে যৌথভাবে তদন্ত করার কোন সুযোগ নেই বলে দুদকের আইনজীবী খোরশেদ আলম জানিয়েছেন। সেজন্য দুদক এখন ভারতের তদন্তের তথ্য বিনিময়ের কথা বলছে।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ফাউজিয়া করিম বলেছেন, তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে কোনো আইনেই বাধা নেই।

"ভারতে যৌথ তদন্ত হয়তো সম্ভব হবে না। কিন্তু এই টাকাগুলো যদি সে (পি কে হালদার) ভারতে বিনিয়োগ করে থাকে, তা ভারত হয়তো তদন্ত করতে পারে। সেই তদন্তের তথ্য তারা বাংলাদেশের সাথে শেয়ার করতে পারে," বলেন আইনজীবী ফাউজিয়া করিম।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের তদন্তের তথ্য পেতে মন্ত্রণালয়ও উদ্যোগ নেবে।

পি কে হালদারকে ফেরত আনার ব্যাপারে চেষ্টা চালাবে বাংলাদেশ।
ছবির ক্যাপশান, পি কে হালদারকে ফেরত আনার ব্যাপারে চেষ্টা চালাবে বাংলাদেশ

তবে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের দু'দিন পরও ভারত বাংলাদেশকে সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর সে অনুযায়ী বাংলাদেশ পদক্ষেপ নেবে।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য হচ্ছে, ভারতে তদন্তে কতটা সময় প্রয়োজন হয়, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। সেজন্য বাংলাদেশ এখন ভারতের তদন্তের তথ্য বিনিময় চায়। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাকে ফেরত আনার বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্ব দেবে।

ফেরত আনার ব্যবস্থা নিতে চিঠি

দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ বলেছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্দী প্রত্যার্পণ চুক্তি আছে, সে অনুযায়ী পি কে হালদারকে যাতে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত আনা যায়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে তারা স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন।

"আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট পাঠিয়েছিলাম। তার ভিত্তিতে ইন্টারপোল ওয়ারেন্ট ইস্যু করে রেড অ্যালার্ড জারি করেছিল," তিনি জানান।

"এরপর দুদকের পক্ষ থেকে এমএলএআর পাঠানো হয়েছিল ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। এছাড়া ভারতের সাথে আমাদের বিভিন্ন করসপনডেনসও হয়েছিল। এরপর সে (পি কে হালদার)গ্রেপ্তার হয়েছে," বলছেন দুদক চেয়ারম্যান।

তিনি উল্লেখ করেন, এখন পি কে হালদারকে ফেরত আনা গেলে দুদকের মামলাগুলোর তদন্তে তা সহায়ক হবে। এই বিষয়গুলো তারা দেশের স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেয়া চিঠিতে তুলে ধরেছেন।

"আমরা আমাদের সরকারের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ করছি।"

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগে দুদকের ৩৬টি মামলার মধ্যে এপর্যন্ত তিনটি তদন্ত চার্জশিট দেয়ার পর্যায়ে এসেছে।

এছাড়া আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের একটি মামলায় পি কে হালদারকে পলাতক দেখিয়ে বিচার কার্যক্রম চলছে।