আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ঈদের সময় হাজার হাজার বাংলাদেশি বিদেশে যাচ্ছেন
- Author, আকবর হোসেন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ এবারের ঈদের ছুটিতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন।
ট্যুর অপারেটররা বলছেন গত দুই বছর করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ থাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ ছিল। সেসব বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় মানুষজন বিদেশে ভ্রমণের জন্য বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন।
ভিন্ন পরিবেশে ঈদ
ফারহীন নাঈন শায়না ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এমনিতেই ঘুরে বেড়ানো তার বেশ পছন্দ।
এবারের ঈদ তিনি নেপালে কাটাবেন। পেশাগত কাজে তার নেপাল যাবার কথা। সে সময়সূচী তিনি কিছুটা এগিয়ে আনেন যাতে নেপালে গিয়ে ঈদও উদযাপন করা যায়।
তিনি আশা করেন এবারের ঈদ তার ভালোই কাটবে।
"আমার কাছে ভালো লাগে। ব্যাপারটা খারাপ না। ভিন্ন একটি কালচারে নিজেদের উৎসব সেলিব্রেট করা," বলেন মিস শায়না ।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে ঢাকায় ভারতীয় ভিসা সেন্টারের সামনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছে ভিসা আবেদনের জন্য।
সড়ক, রেল ও বিমানপথে বহু বাংলাদেশি এরই মধ্যে ভারতে পৌঁছেছেন এবং আগামী কয়েকদিনে আরো অনেকেই যাবেন।
ঢাকার ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান বলছিলেন, তাঁর জীবনের প্রতিটি ঈদ তিনি গ্রামে করেছেন। ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা নিতে এবারই প্রথম দেশের বাইরে ঈদ উদযাপনের জন্য গেলেন মি. রহমান।
" আমি এবং আমার ওয়াইফ আসছি নতুন একটা অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। দেখি দেশের বাইরে ঈদ করে কেমন লাগে," বলেন মি. রহমান।
পর্যটন ব্যবসা বেড়েছে
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত দুই বছর বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ থাকায় অনেক মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছিলেন। এবার সেই সুযোগ তারা কাজে লাগাচ্ছেন।
ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই বছরে অনেক ট্যুর অপারেটর তাদের কার্যক্রমও গুটিয়ে এনেছিলে। কিন্তু পর্যটন উন্মুক্ত হওয়া মাত্রই সে চিত্র এখন বদলে গেছে।
ঢাকার একটি ট্যুর অপারেটর আকাশবাড়ি হলিডেজ-এর কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান তুহিন বলছেন , "কোভিড বিধি-নিষেধ উঠে যাচ্ছে, সেজন্য ট্রাভেল বেড়েছে। এজন্য আমাদের বিক্রি অনেক বেড়েছে"
মি. রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেক পর্যটক এবারের ঈদে দুবাই, মালদ্বীপ এবং থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন।
ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষই তাদের গ্রামের বাড়িকে বেছে নেয় বাবা-মা কিংবা আত্মীয়-স্বজনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য।
কিন্তু একই সাথে অনেকই সেদিকে না গিয়ে দেশের বাইরে যেতে পছন্দ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগের শিক্ষক সামসাদ নওরীন বলেন বাংলাদেশের শহুরে উচ্চবিত্ত আগে থেকেই ঈদে বিদেশ ভ্রমণ করতো। সে সাথে এখন যোগ হয়েছে মধ্যবিত্তদের একটি অংশ।
সামসাদ নওরিন বলেন, মধ্যবিত্তদের অনেকের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে ঈদের সময় শহরাঞ্চল থেকে গ্রামে যাবার যে ঝক্কি-ঝামেলা সেটি অনেকেই পছন্দ করেন না। সেজন্য যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো তাদের অনেকে বিদেশে যেতে পছন্দ করেন।
এদিকে ট্যুর অপারেটরা বলছেন, ঈদের সময় যেহেতু অনেক একসাথে লম্বা ছুটি পান, সেজন্য পর্যটকদের সংখ্যা থাকে বেশি।
এবারের বিশেষত্ব হচ্ছে, একদিন বাড়তি ছুটি নিতে পারলে টানা নয়দিন ছুটি কাটানো যাবে।
তাছাড়া ঈদের সময় বোনাস বাবদ অনেকরে কাছেই বাড়তি কিছু অর্থ জমা হয়। সে টাকাও পর্যটন খাতে ব্যয় করতে পছন্দ করেন অনেকে।