আবু জায়েদ রাহী: খেলার সুযোগ না পেয়ে ক্রিকেটারের ক্ষোভ, হচ্ছেন বিসিবি'র তলবের মুখোমুখি

আবু জায়েদ রাহী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আবু জায়েদ রাহী

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের আসন্ন সিরিজের জন্য টেস্টের স্কোয়াড ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় থাকা আবু জায়েদ রাহী এবার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।

"আমি এখন টেনশনে আছি আমার ভবিষ্যৎ নিয়েই," দুই টেস্টের সিরিজ থেকে বাদ পড়ার পর বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন এই পেসার।

বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টিমের সঙ্গেই ছিলেন রাহী, যদিও সুযোগ পাননি একটি ম্যাচ খেলারও।

টেস্ট ফরম্যাটে জাতীয় দলে এখন তিনজন ফাস্ট বোলার প্রতিষ্ঠিত - তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং ইবাদত হোসেন। এছাড়া দলের সাথে আছেন সিলেটের ফাস্ট বোলার সৈয়দ খালেদ আহমেদ। একই এলাকার আবু জায়েদ রাহীও দলে ডাক পাচ্ছিলেন গত চার বছর যাবৎ।

এমনকি ওয়ানডে ফরম্যাটের ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও রাহীকে নেয়া হয়েছিল - যদিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

তাই রাহীর প্রত্যাশা ছিল তাসকিন ও শরিফুল যেহেতু ইনজুরিতে আর তিনিই গত দুই সিরিজে ব্যাকআপ পেসার হিসেবে দলে ছিলেন, তাই এবার তিনি সুযোগ পেতেই পারেন।

কিন্তু রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দল ঘোষণার পর 'অবাক' হয়েছেন বলে জানালেন আবু জায়েদ রাহী।

"আমি তো গত দুই সিরিজে ছিলাম। প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলেছি। নিউজিল্যান্ডে আমার তিন উইকেট এক প্রস্তুতি ম্যাচে। ভেবেছিলাম টেস্ট সিরিজে ডাক পাবোই, তার ওপর শরিফুল-তাসকিন ইনজুরিতে। এরপরও আমাকে না নেয়ায় আমি অবাক হয়েছি।"

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের স্কোয়াডে চারজন ফাস্ট বোলারকে রাখা হয়েছে - ইবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ এবং এখনও পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচ না খেলা শহিদুল ইসলাম ও রেজাউর রহমান।

খেলতে পারছেন না কোথাও

এখন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর রাহী নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েই শঙ্কিত।

"দেখুন আমি একজন ক্রিকেটার। টেস্ট ফরম্যাটে নিয়মিত ছিলাম বলে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে আমাকে তেমন বিবেচনা করা হয় না। এখন টেস্ট দল থেকেও বাদ পড়লাম। এখন আমি আসলেই চিন্তিত কী হবে সামনে।"

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে ফিরে চলতি মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও দল পাননি রাহী। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি তার, এখন শ্রীলঙ্কা সিরিজে তিনি নেই। সব মিলিয়ে রাহী একটা 'খারাপ সময়' পার করছেন বলে জানালেন।

চোটের কারণে চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও খেলতে পারেননি তিনি।

ফলে একজন খেলোয়াড় হিসেবে পেশার মূল কাজটিই তিনি করতে পারছেন না - অর্থাৎ খেলতেই পারছেন না আব জায়েদ রাহী।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তো নেই-ই তিনি, এমনকি নেই ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে যে ১২০জন ক্রিকেটার বেতনভুক্ত সেই তালিকাতেও।

টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণার দিন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছিলেন, রাহীর কিছু বিষয় আছে যেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।

আবু জায়েদ রাহী

ছবির উৎস, BCCI

ছবির ক্যাপশান, ভিরাট কোহলির উইকেটের জন্য আবু জায়েদ রাহীর আবেদন, ২০১৯ সালের ভারত সফরের ছবি

তবে দল ঘোষণার পর রাহী গণমাধ্যমে বলেছেন, "শুধু খেলা নয়, এখানও আরও অন্য কাহিনী আছে।"

এই 'অন্য কাহিনী' ঠিক কী, তা রাহী বিবিসি বাংলার কাছে খোলাসা করেননি। তবে 'এসব কথার কারণে' আগামীতে বিপদে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে আবু জায়েদ রাহী নিজের রাগ ঝেড়েছেন। তবে এনিয়ে তিনি নতুন করে কথা বলতে চাইছেন না। তার কথায়, যা বলেছি তাতে আমারই বিপদ হতে পারে।

যা বলছে ক্রিকেট বোর্ড

আবু জায়েদ রাহীর বিস্ফোরণ অবশ্য এরই মধ্যে নজর কেড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের।

বিসিবি'র ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস নিশ্চিত করেছেন যে রাহীকে তলব করা হচ্ছে।

'সিলেকশন প্যানেল দেখবে সিলেকশনের বিষয়গুলো, তবে রাহীর সাথে বিসিবি বসবে। ঈদের পরে তার সাথে কথা বলা হবে,' বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে বলেছেন, বাদ পড়ার পর রাহী যেভাবে কথা বলেছেন তা হতাশাজনক।

খেলোয়াড়দের ভবিষ্যত নিয়ে বিসিবি'র নিস্ক্রিয়তার বিষয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েন।

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নিয়ে ঢাকায় ফিরে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে ছয় মাসেও তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়নি বিসিবি।

তবে এরপর বিসিবি থেকে তলব পেয়ে সাইফুদ্দিন বলেছিলেন যে তাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

আবু জায়েদ রাহীর খেলা সর্বশেষ দুই টেস্ট ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনও উইকেট নিতে পারেননি। এরপরই প্রথমে মূল একাদশ থেকে এবং পরে স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েন তিনি।

এরই মধ্যে ইবাদত হোসেন দারুন খেলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় এনে দেন - যেখানে চমৎকার পারফর্ম করেন শরিফুল এবং তাসকিনও।