ইউক্রেনের পক্ষে বাংলাদেশের ভোট 'মানবিক কারণে' - বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন
ছবির ক্যাপশান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

ইউক্রেনে মানবিক সঙ্কট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে বাংলাদেশ ভোট দেওয়ার দুদিন পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন মানবিক কারণেই তারা এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এ মাসের শুরুতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আনা আরো একটি প্রস্তাবে বাংলাদেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ থেকে ধারণা করা যায় যে ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এবার প্রস্তাবটির খসড়া তৈরি করেছিল ইউক্রেন। এই প্রস্তাবে ইউক্রেনে যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া এবং বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেবার কথা বলা হয়েছে । এছাড়া এই প্রস্তাবে মানবিক সংকটের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হয়।

জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবটিকে একতরফা বলে সমালোচনা করেন। । তারপরেও এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন দাবি করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দুটো প্রস্তাবের ভাষায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেবার কারণ হচ্ছে মানবিক।

কিয়েভ শহরে যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি শপিং সেন্টার

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, কিয়েভ শহরে যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি শপিং সেন্টার

মি. মোমেন বলছেন, ইউক্রেনে যেন খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধপত্র পৌঁছানো যায়, সেজন্য বিশেষ করে মানবতার কারণে বাংলাদেশ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে।

"আমরা আশা করি যে যুদ্ধ শেষ হবে এবং আমাদের যে কর্মপরিকল্পনা আছে তা ঠিকমত চলবে। একটু একটু ধাক্কা খাবে, কিন্তু আমরা সামলে নেবো" - বলেন তিনি।

মার্চ মাসের দুই তারিখে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য আমেরিকা যে প্রস্তাব এনেছিল - তাতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভোটদান থেকে বিরত ছিল ভারত ও পাকিস্তান। তবে এবার ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থানের কোন পরিবর্তন না হলেও বাংলাদেশের হয়েছে।

প্রথমবার যারা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়নি - তাদের নিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিল পশ্চিমা দেশগুলো।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে ভোটদানে বিরত থাকায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূতরা পাকিস্তানকে চিঠি দিয়েছিল। এমনকি ভোটদানে বিরত থাকায় বাংলাদেশকে টিকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ইউরোপের দেশ এবং নেটোর সদস্য লিথুয়ানিয়া।

তবে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রথম দফায় বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত থাকায় এর প্রশংসা করেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান বলছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দুই দফা ভোটাভুটির মাঝের সময়টিতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর আক্রমণকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আমেরিকা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি একটি কারণ হতে পারে, তাছাড়া পাশ্চাত্যের সাথে সম্পর্ক ভালো না রাখাটা বাংলাদেশের জন্য ঠিক হবে না।

"পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যাবার তো প্রশ্নই ওঠেনা" - অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান বলেন, "কারণ আমাদের অর্থনীতির সিংহভাগ নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ওপর। তবে এটাও সত্য যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রশ্নে এত বড় একটা সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিল - এটা তারা হয়তো নিতো না।"

তিনি বলেন, "কিন্তু বাংলাদেশ যে এর আগে অ্যাবস্টেইন করেছে - এটা আমার মনে হয় যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বারগেইনিং হিসেবে সামনে পড়েছে। তখন যদি বাংলাদেশ পক্ষে ভোট দিতো, তাহলে হয়তো এই রোহিঙ্গা বিষয়টা সামনে আসতো না।"

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন অবশ্য বলছেন, এবার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবার জন্য বাংলাদেশের ওপর কোন রকম চাপ ছিল না।