ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: এক মাসের মাথায় যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি

সৈন্য

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, রুশ সৈন্যরা মাকারিভ শহরটি দখল করে নিয়েছিল।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার এক মাসের মাথায় রুশ সৈন্যরা বড় কোন শহর দখল করতে পারেনি। একমাত্র খেরসন শহরের পতন হয়েছে। মারিউপোল ও খারকিভ শহর দখলের জন্য রুশ বাহিনী সেখানে তাদের গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২৪শে ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পর রুশ সৈন্যরা প্রতিবেশি দেশটির ভেতরে ঢুকে পড়ে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস জার্মান পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগে বলেছেন ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান চার সপ্তাহ ধরে স্থবির হয়ে আছে। যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রতি আহবান জানান এবং বলেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এর আগে আমিরকা এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে রসদপত্রের সঙ্কটের কারণে রাশিয়ার অভিযান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যুদ্ধের এক মাসের মাথায় এসে সংবাদদাতারা বলছেন, ইউক্রেনের সৈন্যরা কোথাও কোথাও রুশ বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং খবরে বলা হচ্ছে যে রাজধানী কিয়েভের কাছে কিছু এলাকায় তারা পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

কিয়েভের পশ্চিমে মাকারিভ শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে ওই শহরে তারা আবারও ইউক্রেনের পতাকা উড়াতে সক্ষম হয়েছে।

একজন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বিবিসিকে বলেছেন, ইউক্রেনের এই পাল্টা লড়াই-এর শক্তির কারণে রাশিয়া তার রণকৌশল পরিবর্তন করতে পারে।

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর থেকে পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর থেকে পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্রও বলেছেন যে দেশটির দক্ষিণের কিছু কিছু অংশে ইউক্রেনের সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রের গতি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

দক্ষিণের ছোট্ট একটি শহর ভজনেসেন্সকে ইউক্রেনের সৈন্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা রাশিয়ার সাঁজোয়া বহর ধ্বংস করে তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

ক্রাইমিয়ার কাছে যে খেরসন শহরটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বপ্রথম রাশিয়ার দখলে চলে গিয়েছিল সেটি ফিরে পাওয়ার জন্য ইউক্রেনের সৈন্যরা তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে রাশিয়ার সৈন্যরা এখন উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে "দেশটির পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের বাহিনীকে ঘিরে ফেলার উদ্দেশ্যে।"

আরো পড়তে পারেন:

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটে বলা হয়েছে, "পুনরায় বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করার আগে রুশ সৈন্যরা সম্ভবত পুনর্সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।"

দক্ষিণের মারিউপোল শহরের ওপরেও রুশ বাহিনী তাদের গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

রাশিয়ার আক্রমণে এই বন্দর-শহরটি ইতোমধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

যুক্তরাজ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রুসির একজন বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেছেন, রাশিয়ার সৈন্যরা অগ্রসর হতে না পারার কারণেই তারা এর ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।

"দৃশ্যত রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের বিভিন্ন অংশে অগ্রসর হতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা তাদের রসদ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং দক্ষিণের মারিউপোল শহরের চারপাশে তাদের শক্তিকে সংহত করার চেষ্টা করছে," বলেন তিনি।

ভিডিওর ক্যাপশান, বিধ্বস্ত মারিউপোল শহর।

তিনি বলেন, রাশিয়া যদি মারিউপোল দখল করে নিতে পারে, তার পরে তারা তাদের সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র নতুন করে বিন্যস্ত করবে। প্রথমত সেটা হবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলে এবং তার পরে সম্ভবত উত্তর-পূবের খারকিভ শহরে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন ইউক্রেনের সৈন্যরা যেহেতু কিয়েভের কাছের শহর ইরপিন ও মাকারিভ থেকে রুশ সৈন্যদের হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে, সেকারণে রাজধানী কিয়েভ দখলে মস্কোর পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যান্য খবর:

তিনি বলেন, "ইউক্রেনের সৈন্যরা চেষ্টা করছে রুশ সৈন্যরা যাতে কিয়েভকে ঘিরে ফেলতে না পারে।"

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও বলছে, রুশ সৈন্যরা যেসব জায়গা সম্প্রতি দখল করে নিয়েছিল সেসব জায়গা থেকে তাদেরকে হটিয়ে দিয়েছে।

মুখপাত্র জন কিরবি মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা যে শহর পুনর্দখল করে নেওয়ার দাবি করছেন সেটি তিনি নিশ্চিত করতে পারছেন না।

তবে তিনি বলেছেন, রুশ সৈন্যরা "স্থবির" হয়ে পড়েছে এবং তাদের সাথে থাকা খাদ্য ও জ্বালানি ফুরিয়ে আসছে।