মর্গে ধর্ষণের আরো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, ঠেকানোর কোন উপায় নেই

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে একজন নারী এবং একজন শিশুর মরদেহ ধর্ষণ করার অভিযোগে পুলিশ এক ব্যক্তিকে মঙ্গলবার আদালতে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে।
এর আগে সেলিম নামে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটা মামলা করে।
পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল কবির বিবিসিকে বলেন, সিআইডি গতকাল সোমবার যে মামলা করেছে তার পর গ্রেফতার হওয়া ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তারা আদালতে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন।
যেভাবে তদন্তে বেরিয়ে এল
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিল মাসে একজন নারী এবং একটা শিশুর অপমৃত্যু হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মৃত ব্যক্তিরা মৃত্যুর আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কিনা সেটা তদন্ত করতে মৃতদেহ হতে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি, ঢাকায় পাঠায়।
আরো পড়ুন:
সেখানে তাদের শরীরে একই পুরুষের বীর্য পাওয়া যায়। কিন্তু শরীরে কোন আঘাতে চিহ্ন ছিল না।
সিআইডি তদন্ত করে বের করে দুইটা মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেলে ময়নাতদন্তের আগে ইমার্জেন্সি লাশ ঘরে ছিল।
ময়নাতদন্ত করার আগে মরদেহ দেখাশোনা করার জন্য লোক থাকতো।

ছবির উৎস, NURPHOTO/Getty
সিআইডি বলছে, এদের মধ্যে একজন অভিযুক্ত সেলিম।
পরে তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখে নারী এবং শিশুর শরীরের নমুনার সঙ্গে মিলে যায়। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ ঐ ব্যক্তিতে গ্রেফতার করে।
ঠেকাতে কী ব্যবস্থা আছে?
বাংলাদেশের যেকোন মরদেহের ময়নাতদন্ত হয় সরকারি হাসপাতালে।
এই হাসপাতালের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ফরিদ হোসেন। তিনি বলেন, আপাতত মর্গের নিরাপত্তার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই।

ছবির উৎস, NURPHOTO/getty
তিনি বলেন "ঐ ঘরে তালা দেয়া থাকে, গার্ড থাকে এর পরেও আমাদের চোখের আড়ালে এই ধরণের বিকৃত মানসিকতার লোকেরা এই কাজ করছে।"
আরো পড়ুন:
প্রতিটা মর্গের সামনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বা নিরাপত্তার বাহিনীর কেউ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন সেটা তার জানা নেই।
তিনি বলেন " এই ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য নিরাপত্তা বাড়াতে হাসপাতাল গুলোকে চিঠি দেয়া হবে।"
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া নারীদের মরদেহের সাথে 'যৌন লালসা চরিতার্থ' করার অভিযোগে ২০২০ সালে একজনকে গ্রেফতার করেছিল সিআইডি।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গের ডোমের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে সিআইডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল।
সিআইডি'র ধারণা, অন্তত দেড় বছর ধরে মর্গে আসা নারীদের মরদেহের সাথে যৌন মিলন করে আসছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।








