ইউক্রেন সঙ্কট: নেটোর সদস্যপদ প্রশ্নে কোন আপোষের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইউক্রেন, রাশিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নেটোতে যোগদানের পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়েছেন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়া যতই আপত্তি করুক, তার দেশ নেটো জোটে যোগ দেয়ার আকাঙ্ক্ষা কখনোই ত্যাগ করবে না।

ভলোদিমির জেলেনস্কি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নেটোর সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টি ইউক্রেনের জন্য বাঁচা-মরা এবং স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন, এটি কেবল একটি আকাঙ্ক্ষাই নয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নেটোর সদস্যপদ প্রশ্নে কোন ধরনের আপোষের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার প্রশ্ন এর সঙ্গে জড়িত।

"আমাদের ১৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এটা কোন আকাঙ্ক্ষা নয়," মি. জেলেনস্কি বিবিসির সংবাদদাতা সারা রেইন্সফোর্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন।

"এটা কেবল নেটোর ব্যাপার নয়, এটা জনগণের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। ইউক্রেনের জন্য এটা কোন আকাঙ্ক্ষার প্রশ্ন নয়, এটা তাদের জন্য বেঁচে থাকার প্রশ্ন," তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, এটা শুধু নেটোর সদস্যপদ পাবার বিষয় নয়, তারা যখন নেটোর সদস্যপদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা সাময়িকভাবে বেদখল হয়ে যাওয়া সীমানা নিয়ে কথা বলেন, তারা আসলে তাদের স্বাধীনতার বিষয়ে কথা বলেন।

"আমরা কী চাই, আমরা ভবিষ্যতে কী করব, সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি," বিবিসিকে বলেন মি. জেলেনস্কি।

তিনি স্বীকার করেন যে, নেটো জোটে কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়ার পথ অনেক দীর্ঘ, কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব এই পথে যেন তারা তাদের দেশকে হারিয়ে না ফেলেন, সেটা দেখা।

নেটোর সদস্যপদ প্রশ্নে কোন জাতীয় গণভোটের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়টি ইউক্রেনের জাতীয় সংবিধানেই অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়তে পারেন:

সের্গেই লাভরভ রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, নেটো বিবৃতির কড়া সমালোচনা করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ

তীব্র প্রতিক্রিয়া রাশিয়ার

এদিকে নেটো জোট পূর্ব ইউরোপে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েনের কথা ঘোষণা করার পর এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

তিনি বলেছেন, নেটো এখন সেই কাজই করছে, যেটার জন্য তারা এতদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নেটো জোট এখন একটি সীমা অতিক্রম করেছে।

"রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র সহ নেটো জোটের কাছে যেসব নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইছে, সে ব্যাপারে তিনি আজ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি চিঠি পাঠাবেন। এই চিঠি পরে প্রকাশ করা হবে," সের্গেই লাভরভ জানান।

নেটোর বিবৃতির উল্লেখ করে মি. লাভরভ বলেন: "তাদের বিবৃতির সবচেয়ে মুখরোচক অংশ হল বিবৃতি যেভাবে শুরু করা হয়েছে: 'ইউক্রেনের ভেতরে ও চারপাশে এবং বেলারুসে রাশিয়া বিনা উস্কানিতে এবং অন্যায্যভাবে যেরকম বিপুল সামরিক সম্ভার প্রস্তুত করেছে তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।'

"এই বক্তব্য শুনে আপনার কী মনে হবে? দেখুন আমিই শ্রেষ্ঠ এবং আমি কখনওই ভুল করতে পারি না এই ধারণা তুলে ধরে- আমি বলব - তারা ইতোমধ্যেই সীমা অতিক্রম করেছে। দুর্ভাগ্যবশত, নেটো জোটে আমাদের সহকর্মীরা এটা দেখতে পাচ্ছেন না," বলেছেন মি. লাভরভ।

রাশিয়া এমন নিশ্চয়তা চাইছে, ইউক্রেন যেন কখনোই নেটো জোটের সদস্য হতে না পারে, কিন্তু নেটো বলছে, কারা কোন্ নিরাপত্তা জোটে যোগ দেবে, প্রত্যেকটা দেশের সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার থাকা উচিৎ।

বিবিসি বাংলার আরও খবর:

ইউক্রেন দাবি করছে লুহানস্ক এলাকায় শিশুদের স্কুলের ওপর গোলাবর্ষণ করেছে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা

ছবির উৎস, Ukraine's Joint Forces Operation

ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেন সেনাবাহিনী এই ছবি পোস্ট করে দাবি করেছে লুহানস্ক এলাকায় শিশুদের স্কুলের ওপর গোলাবর্ষণ করেছে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা

ডনবাসে গোলাগুলির অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ

এদিকে অব্যাহত সামরিক উত্তেজনার মধ্যে পূর্ব ইউক্রেনে সরকার এবং রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালানোর অভিযোগ এনেছে।

পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এবং ইউক্রেনের সরকার পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি চালানোর অভিযোগ এনেছে।

এক বিবৃতিতে ইউক্রেন সামরিক কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন: "রুশ দখলদার বাহিনী যুদ্ধবিরতি ব্যাপকভাবে লংঘন করে লুহানস্ক এলাকায় স্তানিৎসিয়া লুহানস্ক শহরে গোলাবর্ষণ করেছে।"

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী অভিযোগ করছে যে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা সেখানে একটি গ্রামের ওপর গোলা বর্ষণ করেছে, যাতে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা বলছেন গোলার আঘাতে স্কুলের সঙ্গীত শিক্ষার ক্লাসের দেয়াল ভেঙে গেছে।

এর আগে ডনবাস এলাকায় রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দাবি করেন ইউক্রেনের সেনাবাহিনীরা সেখানে বেশ কয়েকটি বসতির ওপর গোলাবর্ষণ শুরু করেছে।

ইউক্রেন সেনাবাহিনী বলছে তারা সেখানে কোন আক্রমণ চালায়নি।

পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রায়শই শোনা যায়।

সেখানে এখন লড়াই তীব্র হলে তা বৃহত্তর যুদ্ধের অজুহাত হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশংকা আছে।