বাপ্পী লাহিড়ী: গয়নায় মোড়া 'বাপ্পী দা'র ডিস্কো গান থেকে শুরু করে বিজেপির রাজনীতি

ছবির উৎস, Getty Images
ভারতীয় সঙ্গীতকার বাপ্পী লাহিড়ী বুধবার মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
তিনি যেমন একদিকে ছিলেন চলচ্চিত্রের নেপথ্য গায়ক, তেমনই ছিলেন সুরকার।
অসুস্থতার কারণে গত একমাস তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তবে সেরে উঠে সোমবার বাড়ি ফেরেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে আবারও অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসককে বাড়িতেই ডেকে আনা হয়েছিল। ফের তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শেষমেশ বুধবার সকালে পৃথিবীকে বিদায় জানালেন এই জনপ্রিয় গায়ক- সুরকার।
বাপ্পী লাহিড়ীকেই বলা হয় ভারতে ডিস্কো গানের প্রবর্তক। যে কয়েকটি গান তাকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছিয়ে দিয়েছিল, তার মধ্যে আছে 'চলতে চলতে', 'ডিস্কো ড্যান্সার', 'শারাবি' ইত্যাদি গান।
উনিশশো বিরাশি সালে মুক্তি পাওয়া মিঠুন চক্রবর্তী অভিনিত হিন্দি ছায়াছবি ডিস্কো ড্যান্সারের টাইটেল সঙ্গীত 'আই অ্যাম এ ডিস্কো ড্যান্সার' গেয়ে তিনি আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পান।

ছবির উৎস, BAPPI LAHIRI
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
শেষবার তার গলায় ২০২০ সালে বাগি-৩ ছবিতে গান শোনা গিয়েছিল।
অলোকেশ লাহিড়ী থেকে বাপ্পী দা
বাপ্পী লাহিড়ী আট থেকে ৮০ - সকলের কাছেই ছিলেন 'বাপ্পি দা'। তার গানের গলা যেমন ছিল জনপ্রিয়, তেমনই গলায়, হাতে প্রচুর সোনার অলঙ্কারও ছিল বাপ্পী লাহিড়ীর পরিচয়ের আরেকটা অঙ্গ।
বাপ্পী লাহিড়ীর আসল নাম ছিল অলোকেশ লাহিড়ী।
তার বাবা-মাও ছিলেন বিখ্যাত গায়ক দম্পতি - অপরেশ আর বাঁশরী লাহিড়ী।
মাত্র চার বছর বয়সে লতা মঙ্গেশকারের একটি গানের সঙ্গে তবলা বাজিয়ে সকলের নজর কেড়েছিলেন অলোকেশ।
তখন থেকেই তার ডাক নাম বাপ্পী বলেই মুম্বাই ফিল্ম জগতের দিকপালরা তাকে ডাকতেন।
বলিউড থেকে হলিউড - সকলে সেই নামেই তাকে চেনে।
ডিস্কো কিং
এরপরে ৮০র দশকে যখন তিনি ডিস্কো সুর নিয়ে এলেন, তখন তার আরেকটা পরিচয় গড়ে উঠল - 'ডিস্কো কিং'।
বলিউড সঙ্গীতের ডিজিটাল যুগে প্রবেশও তার হাত ধরেই।
দুই হাজার ষোল সালে বাপ্পী লাহিড়ী বিবিসিকে বলেছিলেন, "আমি কত পুরস্কার, সম্মান পেয়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত গ্র্যামি পেলাম না। পাঁচ বার গ্র্যামির জন্য এন্ট্রি পাঠিয়েছিলাম। সর্বশেষ অ্যালবাম 'ইন্ডিয়ান মেলোডি' সুফি, লোকগীতি আর ভারতীয় সঙ্গীতের নানা ধারা মিশিয়ে বানানো।"
হলিউডের ছবিতেও তার গান বেশ কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯৮১ সালে তৈরি ছবি 'জ্যোতি'র একটি গান 'কলিয়োঁ কা চমন' সেই সময়ে অ্যামেরিকান টপ ৪০ তালিকায় ছিল।

ছবির উৎস, Getty Images
কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে
বাপ্পী লাহিড়ী ২০০৪ সালে রাজনীতিতে এসেছিলেন। সেবছর তিনি কংগ্রেসের হয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন।
তারপরে ২০১৪ সালে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে।
সেবছরের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে ভোটেও লড়েছিলেন বাপ্পী লাহিড়ী।
নিজেই বলেছিলেন যে সেই সময়ে নরেন্দ্র মোদির ঢেউ চলছিল ভারতে। কিন্তু তিনি ভোটে হেরে যান।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০১৬ সালে বাপ্পী লাহিড়ি নরেন্দ্র মোদির সম্বন্ধে বলেছিলেন, "আমি তার খুব কাছের বন্ধু। তার কাছে মাঝে মাঝেই যাতায়াত আছে আমার। সঙ্গীত নিয়ে মি. মোদি খুবই উৎসাহী। সমবময়ে গানবাজনা নিয়ে জানতে চান আমার কাছে। ড্রাম বাজানোর খুব শখ প্রধানমন্ত্রীর। মেঘালয়ে গিয়ে ড্রাম বাজিয়েছিলেন একবার।"
"আমি নিজেও তবলা বাজাই তো। তাই বুঝতে পারি ড্রাম বা তবলার মতো তালবাদ্যগুলো খুশি থাকার একটা সঙ্কেত," বলেছিলেন মি. লাহিড়ী।








