অমিক্রন: অর্ধেক নয়, পুরো সক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলের প্রস্তাব

বাসের যাত্রী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, যতো সিট ততো যাত্রী নিয়ে বাস চলবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত থেকে আসার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

শনিবার থেকে বাসে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নয়, বরং যতো সিট ততজন যাত্রী নিয়ে চলতে পারবে বলে নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বা দাঁড়িয়ে কোন যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

এক্ষেত্রে যাত্রীরা আগের ভাড়াই পরিশোধ করবেন. অর্থ্যাৎ বাড়তি কোন ভাড়া গুনতে হবে না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ এর সাথে বৈঠকে এই প্রস্তাব রাখে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিআরটিএ- এর থেকে এমন একটি প্রস্তাব তারা হাতে পেয়েছেন। প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি বিবিসি বাংলাকে শুক্রবার জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার থেকে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

এ নির্দেশনার পর থেকেই ভাড়া বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ দেয়া শুরু করেন বাস মালিকরা।

ভাড়া না বাড়ালে চালক শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দেবেন বলেও তারা হুঁশিয়ারী দেন।

এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে পুনরায় বৈঠকে বসে বিআরটিএ। বৈঠকে বাসভাড়া না বাড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের 'মৌখিক সিদ্ধান্ত' নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ।

এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা বিবিসিকে বলেন, "অর্ধেক যাত্রী নিয়ে কোন বাস পরিচালনা করা সম্ভব না। এভাবে অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে, যেখানে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সব খোলা, সেখানে মানুষেরই ভোগান্তি হবে।"

এমন অবস্থায় মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল, অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহনের পরিবর্তে যেন আগের ভাড়া রেখেই, যতো সিট ততো যাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেয়া হয়।

পরে বিআরটিএ আসন অর্ধেক খালি রাখার 'শর্ত শিথিল করে' বলে জানান মি. রাঙ্গা।

তবে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে বাকি সব নির্দেশনা বহাল থাকবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে - গণপরিবহনে চালক, শ্রমিক ও যাত্রী সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, বাসে সবার জন্য স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা ও যাত্রার শুরুতে ও শেষে বাস জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখা এবং বাস চালক ও শ্রমিকদের করোনার টিকা বাধ্যতামূলক করা।

সেক্ষেত্রে বাসের চালক ও শ্রমিকদের যেন অগ্রাধিকারভিত্তিতে দ্রুত টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয় সেই দাবির কথা জানিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি।

এ বিষয়ে মি. রাঙ্গা বলেন, "বিমানে সব সিটে যাত্রী নিয়েই চলছে। তারা শুধু স্বাস্থ্যবিধিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই একই বিষয়টা যদি আমরা বাসে করতে পারি। সব যাত্রী যদি মাস্ক পরেন, যাত্রী, চালক শ্রমিক সবার যদি টিকা নেয়া থাকে, তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। "

ঢাকার রাস্তায় বাস ও যাত্রী

আরও পড়তে পারেন:

চালক শ্রমিকদের কীভাবে দ্রুততম সময়ে টিকা দেওয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। চালক-শ্রমিকরা যেন পরিচয়পত্র অথবা লাইসেন্স দেখিয়ে টিকা নিতে পারেন- সেই প্রস্তাব করা হয়েছে বলে পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এদিকে বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৯৫ ভাগ চালক-শ্রমিক এখনও টিকা পাননি বা নেননি। সেক্ষেত্রে টিকার শর্ত মেনে বাস কীভাবে চলবে- সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে ২০২০ সালে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য 'লকডাউন' ঘোষণা করে। এসময় টানা ৬৮ দিন গণপরিবহন বন্ধ ছিল।

পরে ওই বছরের ১ জুন অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্তে বাস চালু হয়। তখন ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। পরে মালিকদের দাবিতে ২০২০ সালে সেপ্টেম্বরে 'যত সিট তত যাত্রী' নিয়মে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে।

ডিজেলের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বেড়ে গেলে গতেই ৮ই নভেম্বর বাসের ভাড়া ২৭ থেকে ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়।

এই পরিস্থিতিতে অর্ধেক আসন খালি রেখে চলতে হলে আবার ভাড়া বাড়াতে হত। এতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়তেন। তাই আসনের সমান সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান মি. রাঙা।