লঞ্চে আগুন: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পুড়ে যাওয়া লঞ্চের অন্তত ২৩ জনকে শনাক্ত করা যায়নি, সংগ্রহ করা হয়েছে ডিএনএ

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে আগুন লেগে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর ও কবর দেয়ার প্রক্রিয়া শেষ করেছে প্রশাসন।

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বিবিসিকে জানিয়েছেন, মোট ১৪ জনের মৃতদেহ স্বজনরা শনাক্ত করে নিয়ে গেছে আর বাকী ২৩ জনকে দাফন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শনাক্তের জন্য তাদের ডিএনএ নমুনা রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে - যাতে নিখোঁজদের স্বজনরা সেখানে খোঁজ নিতে পারেন এবং শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা দিয়ে আসতে পারেন।

বর্তমানে সুগন্ধা নদীতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড মিলে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছে। মি. রহমান বলেন, আর কোন মৃতদেহ পাওয়া গেলে তা সনাক্ত করে স্বজনদের খবর দেয়া হবে।

ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ওই লঞ্চটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ জন মারা গেছেন বলে ঝালকাঠির স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন। তবে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার গতরাতে মৃতের সংখ্যা ৪০ বলে জানিয়েছিলেন।।

আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন লঞ্চের আরও অন্তত ৭০ যাত্রী জন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি আজ সকাল থেকে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ওই কমিটির সদস্য ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল আলম।

সাত সদস্যের এ কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিও আছেন। কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে রাতে বরিশাল হয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অবস্থানের সময় রাত তিনটা নাগাদ লঞ্চটিতে আগুন ধরে যায়।

পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বহু যাত্রী জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। বেশ কিছু যাত্রীর সন্ধান এখনো মেলেনি বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

আরও একজনের মৃত্যু

মধ্যরাতে আগুন লাগার পর শুক্রবারই ৩৭ জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিলো।

পরে শুক্রবার রাতে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

শুক্রবার শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে মোট ১৭ জনকে স্থানান্তর করা হয়েছিলো।

এর মধ্যে দুজনকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়েছিলো।

লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু, চিহ্নিত করা যায়নি অনেককে

ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল আলম বিবিসিকে জানিয়েছেন যে শুক্রবারই ঝালকাঠি থেকে চারজনের ও বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতাল থেকে একজনের মৃতদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি বরগুনাগামী হওয়ায় ৩২টি মৃতদেহ সেখানে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল আলম জানান, বরগুনায় মৃতদেহ পাঠানো ২০টি মৃতদেহ চিহ্নিত করা যায়নি বলে সেগুলো থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।

"মরদেহগুলো শনাক্ত করার মতো অবস্থায় ছিল না, তাই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। পরে কারও ডিএনএ'র সাথে মিলে গেলে সে অনুযায়ী কবর দেখিয়ে দেয়া হবে," বলছিলেন তিনি।

তবে বরগুনার জেলার প্রশাসক হাবিবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তারা ২৫টি কবরে ২৭ জনের দাফন সম্পন্ন করেছেন যাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

"বরিশাল, ঝালকাঠি ও বরগুনা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মোট দশ জনকে শনাক্ত করে তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন," বলছিলেন তিনি।

ওদিকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ ইন্সটিটিউটের সমন্বয়ক ডাঃ সামন্ত লাল সেন সেখানে এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

ফলে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৮-এ।