কাশ্মীর: পুলিশের বাসে জঙ্গি হামলায় তিনজন নিহত, আহত ১১

যে বাসের ওপর হামলা চালানো হয়েছে

ছবির উৎস, Mohsin Altaf

ছবির ক্যাপশান, কর্মকর্তারা বলছেন দিনের দায়িত্ব পালন শেষে পুলিশ সদস্যরা ওই বাসে করে ফিরছিলেন

শ্রীনগরে পুলিশ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন ভারত-শাসিত কাশ্মীরের নিরাপত্তা সদস্যদের নিয়ে যাওয়া একটি বাসের ওপর জঙ্গিদের চালানো হামলায় তিনজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ১১জন আহত হয়েছে।

তারা বলছেন সোমবার শ্রীনগর শহরে একটি পুলিশ ফাঁড়ির কাছে বাসের ওপর তিনজন হামলাকারী নির্বিচার গুলি চালায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং হামলার বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।

গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং হামলাকারীদের সন্ধানে তৎপরতা চলছে।

কর্মকর্তারা বলছেন ওই পুলিশ সদস্যরা দিনের কাজের শেষ করে যখন তাদের ক্যাম্পাসে ফিরছিল তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা হামলা চালালে রাতের অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে তারা জানান।

আরও পড়ুন:

কাশ্মীরে সশস্ত্র সরকারি সৈন্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে প্রায়শই মারা যাচ্ছে বিচ্ছিন্নতাকামীরা

ছবির উৎস, MUKHTAR ZAHOOR

ছবির ক্যাপশান, কাশ্মীরে সশস্ত্র সরকারি সৈন্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে প্রায়শই মারা যাচ্ছে বিচ্ছিন্নতাকামীরা

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, পুলিশ সদস্য - সহকারী সাব ইন্সপেক্টর গুলাম হাসান এবং কনস্টেবল শফিক আলী সোমবার রাতে মারা গেছেন এবং গুরুতর আহত তৃতীয় কনস্টেবল রামিজ আহমদ বাবা মঙ্গলবার সকালে মারা যান।

কাশ্মীরের ইন্সপেক্টর জেনারেল ভিজয় কুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, জঈশ-ই-মোহাম্মদ গোষ্ঠীর একটি শাখা দল কাশ্মীর টাইগারস এই হামলা চালিয়েছে বলে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর আছে।

জঈশ-ই-মোহাম্মদ পাকিস্তানভিত্তিক একটি গোষ্ঠী যাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে চিহ্ণিত করেছে ভারত, জাতিসংঘ, সেই সঙ্গে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র।

সংগঠনটি ২০১৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছিল, যে হামলায় অন্তত ৪৬ জন সৈন্য মারা যায়। সেটিই ছিল ওই এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী একটি হামলাগুলোর একটি।

ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীর পুরোপুরিভাবে তাদের অংশ বলে দাবি করে থাকে, যদিও কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশের প্রশাসনের দায়িত্ব পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশি দেশ ভারত ও পাকিস্তনের হাতে রয়েছে। কাশ্মীর উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে মদত যোগানোর জন্য ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আভিযোগ করে আসছে, যে অভিযোগ পাকিস্তান বরাবরই নাকচ করেছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

Presentational white space

জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতি টুইট বার্তায় এই ঘটনার জন্য তাদের শোক প্রকাশ করেছেন।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

Presentational white space

মিজ মুফতি আরও বলেছেন যে, এই ঘটনা থেকে এটা "সুস্পষ্ট" হয়ে গেছে যে নরেন্দ্র মোদী সরকার "কাশ্মীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে যে আশ্বাস দিচ্ছে তা মিথ্যা"।

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে ১৯৮০র দশকের শেষ দিক থেকে দিল্লি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তৈরি হয় এবং কাশ্মীরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কাশ্মীরের সম্পর্কেও একটা টানাপোড়েন রয়েছে।

ভারতের সংবিধানে কাশ্মীরকে যে বিশেষ স্বায়ত্বশাসিত এলাকার মর্যাদা দিয়েছিল ৩৭০ ধারা, ২০১৯ সালে মি. মোদীর সরকার সেই মর্যাদা বাতিল করে দেয়ার পর থেকে এই সম্পর্ক এখন তলানিতে।

সম্পর্কিত খবর: