নির্বাচন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান-মেম্বার সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের বিরল ঘটনা

ইউনিয়ন পরিষদ
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান এবং মেম্বারসহ সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একযোগে নির্বাচিত হওয়ার একটি ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে এই বিরল ও অভিনব ঘটনা ঘটেছে।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন জায়গায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার ঘটনা থাকলেও একটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ সবাই একযোগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার নজির দেখা যায়নি।

ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে নয়টি ওয়ার্ডে নয়জন মেম্বার এবং নারী প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত তিনটি ওয়ার্ড রয়েছে। সবমিলিয়ে ১২জন মেম্বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, সবাই বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

"এখানে প্রত্যেক ওয়ার্ডে দুইজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হবার একদিন আগে বাকিরা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন," বলেন মি. হোসেন।

ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নবনির্বাচিত মেম্বার শাহজালাল বলেন, প্রার্থী না থাকায় সবাই বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

"এখানে কোন প্রার্থী নাই। ঠিক আছে? মেম্বারের জন্য যারা প্রার্থী ছিল তারা প্রত্যাহার করে নিছে। আমাদের এলাকার জনসাধারণ সবাই মিলে মিটিং করে আলোচনার মাধ্যমে এটা করা হইছে।"

ভিডিওর ক্যাপশান, জাতীয় ভোটার দিবস: নির্বাচন এবং রাজনীতি থেকে কি আগ্রহ হারিয়েছেন ভোটাররা?

কেন এ পরিস্থিতি?

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আওতায় যেসব ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে সেখানে কারা প্রার্থী হতে পারবেন সেটি মূলত নির্ভর করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত নেতাদের উপর।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যেহেতু বিএনপি বর্জন করছে সেজন্য ধানের শীষ প্রতীকে তাদের কোন প্রার্থী নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন সাংবাদিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কারা হবেন সেটি নির্ধারণ করতে চায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এখানে অন্যদের নির্বাচন করা খুব কঠিন বলে সেই সাংবাদিক উল্লেখ করেন।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে জড়িতরা এসব অভিযোগ খারিজ করে দিচ্ছেন। তাদের যুক্তি হচ্ছে, নির্বাচনে যাতে সংঘাত না হয়, সেজন্য মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্বাচিত হচ্ছে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মোট ১১টি ইউনিয়নে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে আট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিনদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, বেশিরভাগ ইউনিয়ন পরিষদে একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কয়েকটি জায়গায় একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরবর্তীতে সেটি প্রত্যাহার করে দিয়েছেন।

নির্বাচন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হচ্ছে। ফাইল ফটো

ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নবনির্বাচিত মেম্বার শাহজালাল বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেন, প্রার্থিতা সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিল। মনোনয়নপত্র জমা না দেয়া কিংবা প্রত্যাহার করে নেবার জন্য কাউকে কোন জোরজবরদস্তি করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

"আমাদের যে চেয়ারম্যান সাহেব, সবাই ওনার এক ডাকে সাড়া দেয়। উনি যা সিদ্ধান্ত দেন, সবার মতামত নিয়াই সব সংগঠনের এবং আপামর জনসাধারণের মতামত নিয়াই সিদ্ধান্ত দেন।"

তিনি দাবি করেন, আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু করা হয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: