বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মেধাসত্ত্ব আইন ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করলেন জেমস, হামিন এবং মানাম আহমেদ

ছবির উৎস, মাইলস
কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে টেলিকম প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন রক শিল্পী জেমস এবং হামিন আহমেদ ও মানাম আহমেদ।
বাংলাদেশের দুইটি জনপ্রিয় ব্যান্ড নগরবাউল এবং মাইলসের প্রধান শিল্পীরা বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে গিয়ে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন।
বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শমন জারি করে বিচারক, প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ কী?
মাইলস ব্যান্ডের প্রধান হামিন আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন, ২০০৭ সাল থেকে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক দেশের ব্যান্ডগুলোর গান, তাদের (শিল্পী ও ব্যান্ডদল) অনুমতি ছাড়াই গ্রাহকদের রিং টোন, কলার রিং ব্যাক টোন, ওয়েলকাম টিউন এবং ফুল-ট্র্যাক ব্রডকাস্ট এবং ডাউনলোডের পূর্ণ সুবিধা দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মি. আহমেদ বলছেন, "বাংলালিংকের মত একটি মাল্টি-ন্যাশনাল প্রতিষ্ঠান গত ১৪ বছর ধরে আমাদের এন্টায়ার ক্যাটালগ মানে প্রকাশিত সব গান যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করে আসছে।
"এটা বন্ধ করতে বিভিন্ন সময় তাদের বলা হয়েছে, অনেকবার তাদের বিরত থাকতে বলেছি। কিন্তু তারা জাস্ট কখনো কর্ণপাত করে নাই," বলেন মি. আহমেদ।
তিনি আরো বলেছেন, "এ কারণে এখন মেধাসত্ত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে আমরা মামলা দায়ের করেছি। আমরা বিষয়টিকে আইনগতভাবেই দেখব।"
মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেমসের ছয়টি গান এবং হামিন আহমেদ ও মানাম আহমেদের ব্যান্ড মাইলসের দুইটি গান টেলিকম প্রতিষ্ঠানটি বিনা অনুমতিতে এবং শিল্পীদের কোন রয়্যালটি না দিয়ে ব্যবহার করে আসছিল।
বাংলাদেশের কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুযায়ী কোন শিল্পী অথবা ব্যান্ডের গান বাণিজ্যিক বা অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পী অথবা ব্যান্ডের অনুমতি নিতে হবে।
একই সঙ্গে শিল্পী বা ব্যান্ডদলকে তাদের প্রাপ্য রয়্যালটি দিতে হবে।

মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রিং টোন, কলার রিং ব্যাক টোন, ওয়েলকাম টিউন এবং ফুল-ট্র্যাক ব্রডকাস্ট এবং ডাউনলোডের মত সেবার জন্য বাংলালিংক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রাহকদের কাছ থেকে চার্জ করে।
কিন্তু সেটি কখনো ব্যান্ডের বা শিল্পীর সঙ্গে ভাগাভাগি করে না।
মাইলসের প্রধান মি. আহমেদ বলেছেন, তাদের ব্যান্ডের এ পর্যন্ত প্রকাশিত ১১টি অ্যালবামের সব কয়টি গান অফিস অফ কপিরাইট রেজিস্টারে নিবন্ধন করা হয়েছে।
ফলে এই গানগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমতি নেবার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আসামি কারা?
অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল বিবিসিকে বলেছেন, আদালত, সঙ্গীত শিল্পী জেমস, হামিন আহমেদ এবং মানাম আহমেদের জবানবন্দি শুনে মামলা গ্রহণ করেছে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক আস'সহ মোট পাঁচজন কর্মকর্তাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

আদালত তাদের নামে শমন জারি করে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে।
জেমস তার মামলার আর্জিতে মোট ছয়টি গান ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন, এগুলো হচ্ছে ---দুঃখিনী দুঃখ করো না, জিকির, লুটপাট, সুস্মিতার সবুজ ওড়না, ঈশ্বর আছেন এবং যার যার ধর্ম।
মামলার অভিযোগে উল্লেখকৃত মাইলসের দুইটি গান হচ্ছে---নীলা এবং ফিরিয়ে দাও আমার প্রেম।
এর আগে একই বিষয় নিয়ে ১৯শে সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে গিয়েছিলেন জেমস।
সেসময় আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ না করে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
কিন্তু থানা মামলা না নেওয়ায় আজ বুধবার তিনি আদালতে গিয়ে মামলা করেন।
বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:
বাংলালিংক কী বলছে?
বিনা অনুমতিতে এবং শিল্পীদের রয়্যালটি না দিয়ে মিউজিক কন্টেন্ট ব্যবহার এবং মামলার বিষয়ে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত মন্তব্য করতে চায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট কমিউনিকেশনস এন্ড সাস্টেইনিবিলিটি বিভাগের প্রধান আংকিত সুরেকা এক ইমেইলে বিবিসিকে জানিয়েছেন, "আইন মান্যকারী একটি কোম্পানি হিসেবে আমরা কপিরাইট আইনসহ দেশের সকল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
''এই ব্যাপারে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানতে পারিনি। তাই বিস্তারিত না জেনে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।"








