এডিটার'স মেইলবক্স: জলবায়ু পরিবর্তন আর জেল হত্যা নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, DANIEL LEAL-OLIVAS/Getty
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে শুরু হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘের ২৬তম সম্মেলন, যা কপ২৬ নামে পরিচিত। এই সম্মেলন ঘিরে সব সময়ই বিভিন্ন সরকার এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলো চীন এবং রাশিয়াকে লক্ষ্য করে সমালোচনা করেছে। সে বিষয়ে লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:
''আপনাদের খবরে দেখলাম কার্বন নিঃসরণকারী দুটি শীর্ষ দেশ চীন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদ্বয় এ সম্মেলনে যোগদান করেননি, কেবল তাদের প্রতিনিধিরা যোগদান করেছে।
''এত বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে তারা নিজেরা যোগদান না করে তাদের প্রতিনিধি পাঠানোয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
''আমার প্রশ্ন তারা আসলে কী কারণে সম্মেলনে যোগদান করেননি? তারা কি আয়োজনকারী পরিবেশবাদী সংগঠনের তোপের মুখে পড়ার ভয়ে সম্মেলনে আসেননি, নাকি অন্য কোন কারণে?''

ছবির উৎস, Getty Images
চীন আর রাশিয়া জাতিসংঘ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পূর্ণভাবে জড়িত মিঃ রহমান। তাছাড়া, পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানি উৎপাদন আর ব্যবহারে চীন অগ্রণী ভূমিকাই পালন করছে।
তবে প্রেসিডেন্ট শি হয়তো আশঙ্কা করেছিলেন যে এই সম্মেলন ব্যবহার করে ভিন্ন বিষয়ে চীনকে আক্রমণ করা হতে পারে। সেজন্য চীন অংশ নিলেও মিঃ শি যোগ দেননি। একই কথা প্রেসিডেন্ট পুতিনের ক্ষেত্রেও বলা যায়।
তবে রাশিয়ার অর্থনীতি অতিমাত্রায় তেল এবং গ্যাস বিক্রির ওপর নির্ভর করে, তাই তারা এসব জ্বালানি ব্যবহার বন্ধের সময়সীমাটা কমিয়ে আনতে চায় না।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, IAN FORSYTH
ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ
পরের চিঠি লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:
''বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে আকবর হোসেনের প্রতিবেদনটিতে দেখলাম, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ।
''ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বড় অংশে দাবদাহ ক্রমাগত বাড়ছে৷ একইভাবে, উত্তর অ্যামেরিকা ও ইউরোপে ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেড়েছে এবং কিছু দিন পরপরই বিশ্বের নানা জায়গায় একই উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে৷ মোদ্দা কথা, উন্নত দেশগুলোর বলির পাঁঠা হচ্ছে নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী বাংলাদেশের মতো দেশগুলো।
''এবারের সম্মেলনে দেখলাম চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের মতো দেশগুলো ২০৫০ থেকে ২০৭০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, অথচ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কথা বলেছে। আমার প্রশ্ন তাহলে পৃথিবীকে জলবায়ুর উষ্ণতা থেকে সুরক্ষিত করার উপায় কি?''
আপনার প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দিতে গেলে বিশাল একটি রচনা পাঠ করতে হবে মিঃ হক। তবে মোটা দাগে বলা যায়, বিজ্ঞানীরা বলছেন জ্বালানি হিসেবে কয়লা, তেল, গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে, অন্য দিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যেমন সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ইত্যাদির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বনায়ন অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ছবির উৎস, SOPA Images
একই বিষয়ে লিখেছেন আরেকজন উপকূলবাসী, খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''উন্নত বিশ্বের দেশগুলো বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হলেও, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
''আকবর হোসেন এবং আবুল কালাম আজাদের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে বেশ ভালো ভাবেই উঠে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন এবং জীবিকায় ঠিক কোন ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
''আমরা যারা উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করি তারা বেশ টের পাচ্ছি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, গ্লাসগো সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো কি কোনো সুবিধা আদায় করে নিতে পারবে? ''

শুধু বাংলাদেশ না, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সব চেয়ে ঝুঁকির মুখে এমন ৪৮টি দেশ জোট বেঁধে কাজ করছে যাতে তারা অন্তত আর্থিক ভাবে সমর্থন পায়। অনেক রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ চাচ্ছে যেটা হয়তো তারা পাবে না।
কিন্তু বাংলাদেশ চাইছে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে জীবনযাত্রায় এবং জীবিকায় যে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে, তা মানিয়ে নেবার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্য।
আরেকটি বিষয় বাংলাদেশ সামনে আনতে চায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য সাহায্য, এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতে তাদের অভিবাসনের সুযোগ করে দেয়ার দাবিটিও আছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী
এই ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কথাই লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মোহসীন আলী:
''বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে যে সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা সম্মেলনে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়না।
''ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কোন প্রতিনিধির বক্তব্যও সম্মেলনে দেয়ার সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে যেটুকু প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায় তাও পরবর্তীতে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়না।
''এভাবে চলতে থাকলে একদিন পৃথিবীটাই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে। এ সমস্যা থেকে আমরা প্রতিশ্রুতি নয়, পরিত্রাণ চাই। চাই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন।''
একটু আগেই যেটা বলছিলাম মিঃ আলী, বাংলাদেশ সহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো পুনর্বাসনসহ অন্যান্য পদক্ষেপের জন্য আর্থিক সাহায্য পাবার চেষ্টা করবে। তবে তারা কতটুকু সফল হবে তা নির্ভর করবে তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা আর ধনী দেশগুলোর মনোভাবের ওপর।
জাতীয় নেতার খুনি কোথায়?
ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পর আসি অতীতের একটি বিষয়ে। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের তেসরা নভেম্বর যে চারজন নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়, তাদের খুনিরা এখনো কেন পালিয়ে বেড়াতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কলঙ্কজনক অধ্যায়গুলি আছে, তার মধ্যে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর অন্যতম। দীর্ঘ দিন পরে হলেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
''দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা পলাতক অবস্থায় আছে, তাদেরকে কি দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে? কী কারণে হত্যাকারী ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হবার পরও বিদেশে পালিয়ে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন?''
তারা কোন দেশে পলাতক আছেন, সেটা বাংলাদেশ সরকার জানে কি না, তা আমার জানা নেই মিঃ বিল্লাল। তবে সেসব দেশের সাথে আসামী প্রত্যাবর্তন চুক্তি না থাকলে তাদের ফেরত আনা সম্ভব হবে না।
হয়তো তারা এমন কোন দেশে আশ্রয় নিয়েছে যারা ১৯৭৫ সালের ঘটনাকে সেসময় সমর্থন করেছিল। আবার, অনেক পশ্চিমা দেশ মৃত্যুদণ্ডের ঘোরতর বিরোধিতা করে, এবং তারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে এমন কোন দেশে ফেরত পাঠায় না যেখানে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড রয়েছে।

ছবির উৎস, NurPhoto
লঞ্চ মিস তো বিসিএস মিস!
ভিন্ন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''ভোলা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি করায় শতাধিক পরীক্ষার্থী বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ঘটনাটি গত ২৯শে অক্টোবরের।
একবার কি আমরা ভেবে দেখেছি এমন কত শত বেকার যুবক যুবতী লঞ্চ, বাস বা ট্রেন ফেল করে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন?
ভেবেছিলাম করোনা অনেক কিছু নিলেও অন্তত কিছু ভাল দিক আমাদের শিখিয়ে যাবে, কিন্তু তা আর হল কই? চাকুরি বা এমন পরীক্ষার জন্য ছাত্র বা চাকুরি প্রত্যাশীদের কে কেন ঢাকায় দৌড়াতে হবে? বিভাগীয় শহরগুলোতে এ ধরণের পরীক্ষা নিলে সমস্যা কোথায়? আশা করছি কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে বিষয়টি।''
বোঝাই যাচ্ছে, আপনি বিকেন্দ্রীকরণে দিকে ইঙ্গিত করছেন মিঃ সাঈদ। বিসিএস যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদে অফিসার রিক্রুট করার জন্য জাতীয় পরীক্ষা, তাই সেই পরীক্ষা কেন শুধু ঢাকায় হবে? এতগুলো বিভাগ তৈরি করা হয়েছে, সেই বিভাগগুলোর প্রধান শহরে পরীক্ষার আয়োজন করা হলে তো ভালই হয়।

ছবির উৎস, INDRANIL MUKHERJEE
পর্যালোচনার সংবাদপত্র কই?
আমাদের ওয়েবসাইটে বিবিসি বাংলা সম্পর্কে যে সংক্ষিপ্ত তথ্য দেয়া আছে সেটায় ভুল আছে বলে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''সকালের প্রত্যুষা অধিবেশন সংবাদপত্র পর্যালোচনা অনুষ্ঠানটির কথা আজও ভুলতে পারিনা। এক্ষেত্রে প্রবাহ অধিবেশনে ফেসবুক ট্রেন্ডিং পর্বটি বেশ উপভোগ্য। কিন্তু কখনোই তা সংবাদপত্র পর্যালোচনা অনুষ্ঠানের বিকল্প বলে মনে হয়নি আমার কাছে।
''আর এ নিয়েই আমার প্রশ্ন: বিবিসি'র ওয়েবসাইটের প্রথমদিকের শিরোনাম থেকে "সংবাদপত্র পর্যালোচনা" লেখাটি আপনারা আজও সরিয়ে ফেলেননি কেন? এটা বিবিসি'র কোন কৌশল নাকি আপনারা সময়ের সাথে সাথে আপডেট হতে পারেননি?
''অথচ সম্পাদক সাহেবের চিঠি-পত্রের জবাবদানে তো বিবিসি বাংলা'কে একটি 'সময়ের সাথে আগামীর পথে' আপডেট প্রতিষ্ঠান বলেই মনে হয় আমার কাছে।''

ছবির উৎস, SOPA Images
আপনার সব কথাই ঠিক মিঃ ইসলাম, শুধু একটি ছাড়া। সপ্তাহে পাঁচ দিন একটি রেডিও অনুষ্ঠানে ফেসবুক ট্রেন্ডিং নিয়ে যে আলোচনা থাকে, তা আমরা কখনো সংবাদপত্র পর্যালোচনার বিকল্প হিসেবে দেখি না।
অন্যদিকে, বিবিসি বাংলা আসলেই সময়ের সাথে আগামীর পথে চলছে, যে কারণে আমাদের অডিয়েন্সের একটি বড় অংশ এখন আমাদের ডিজিটাল প্লাটফর্ম-এই খবর দেখেন বা পড়েন। সময়ের সাথে চলার কথা সেভাবেই বলা হয়।
তবে আপনি আমাদের ওয়েবসাইটের প্রথমদিকের শিরোনাম বলতে কী বোঝাচ্ছেন তা আমি বুঝতে পারছি না। আপনি যে প্যারাগ্রাফ তুলে ধরেছেন, সেটা আমাদের ওয়েবসাইটে একেবারে নিচের দিকে, 'বিবিসি সম্পর্কে' বলে যে ট্যাব রয়েছে, সেখানকার তথ্য।
সেখানে দেয়া তথ্য অত্যন্ত পুরনো। মানে, সবই পুরনো। সেখানে চারটি রেডিও অধিবেশনের কথা বলা হয়েছে, টেলিভিশন বা ডিজিটালের কোন কথাই নেই। হয়তো আমরা সবাই সংবাদ পরিবেশনা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে ঐ ক্ষুদ্রাকার লেখাটির কথা কারো মনেই ছিল না। তবে দেখে ভাল লাগল আপনার চোখ এড়ায়নি। এবার যেয়ে দেখবেন সব বদলে গেছে।

ছবির উৎস, Getty Images
বিবিসির 'অসাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি'
আগামীর পথে চলার আরেকটা লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ খবর যথাযথ গুরুত্বের সাথে পরিবেশন করা। সেদিকেই ইঙ্গিত করে লিখেছেন মাগুরার শ্রীপুর থেকে রিপন বিশ্বাস:
''একমাত্র বিবিসি বাংলাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক হামলা ও সহিংসতা আপডেট সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের সাথে তুলনা করে বিবিসি বাংলার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়।
''আশা করি বিবিসি বাংলার এমন বস্তুনিষ্ঠ ও অসাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকবে। এতে করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মহলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
''আমি অনুরোধ করতে চাই, বিবিসি বাংলা যেন কোন বিশিষ্ট আইন বিশারদ কে নিয়ে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যেখান থেকে আমরা বিভিন্ন আইনি পরামর্শ পেতে পারি।''
আপনার প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ মিঃ বিশ্বাস। গুরুত্বপূর্ণ খবর গুরুত্বের সাথে আর যত দ্রুত সম্ভব আপডেট করা আমাদের দায়িত্ব। আশা করছি এই দায়িত্ব পালনে ভবিষ্যতে কোন বিচ্যুতি ঘটবে না। আর আইন বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে অনুষ্ঠান করা যায় কি না, তা আমরা ভেবে দেখবো।
পরের চিঠি লিখেছেন রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ আবু তাহের মিয়া:
''সকালের অধিবেশনে শ্রোতা নেই বলে বিবিসি সকালের দুটি বাংলা অধিবেশন বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু সকালের ঐ একই সময়ে ইংরেজি অনুষ্ঠান প্রচার করার সার্থকতা কোথায়?
''আমি মনে করি এ ইংরেজি অনুষ্ঠানের শূণ্য দশমিক শূণ্য শতাংশ শ্রোতাও নেই। তথাপি বিবিসির ও বাংলাদেশ বেতারের মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কেন? নাকি বাংলাদেশে আবারো ব্রিটিশদের ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে?''
বিবিসি কেন অন্য কারো ভাষা আপনাদের ওপর চাপিয়ে দেবে, তা আমার মাথায় ঢুকছে না মিঃ তাহের। বিশ্বের প্রধান ভাষা, এখন ইংরেজি, সকল দেশেই এই ভাষা প্রচলিত এবং বিভিন্ন খাতে চাকরিতে অগ্রগতির জন্য ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে সরকারই স্কুল-কলেজে ইংরেজি পাঠের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। যাই হোক, বাংলাদেশ বেতারের কোন সময় বিবিসি নষ্ট করছে না, কারণ সকালের ঐ দুটো স্লটে ইংরেজি অনুষ্ঠান প্রচার করার জন্য বিবিসি ভাড়া দিয়ে থাকে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।
মোহাম্মদ কামাল হোসেন মিলন মুকছুদি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
সাব্বির আহমেদ ফীরদৌস, রামপাল, বাগেরহাট।
আহসান হাবিব রাজু, গুড়িয়াদহ, লালমনিরহাট।
মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, খটখটিয়া, রংপুর।









