হিন্দুদের ওপর হামলা: সারাদেশে ৭১টি মামলা ও গ্রেপ্তার ৪৫০ জন, জানিয়েছে পুলিশ

নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের একটি পূজামণ্ডপে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং অন্য একটি মন্দিরের ভেতরে মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের একটি পূজামণ্ডপে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং অন্য একটি মন্দিরের ভেতরে মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বাংলাদেশে গত বুধবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, স্থাপনা ও বাড়িঘরে হামলার যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে ৭১টি মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার রাত পর্যন্ত এসব মামলায় ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ''সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ কেন্দ্রিক অপ্রীতিকর ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭১টি মামলা রুজু হয়েছে। আরও কিছু মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।''

''এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।''

গত বুধবার ১৩ই অক্টোবর কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার পর ওই ঘটনার জের ধরে ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়তে পারেন:

রংপুরে হিন্দুদের ওপর হামলা

ছবির উৎস, ফেরদৌস জয়

ছবির ক্যাপশান, রবিবার রাতে রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়।

সর্বশেষ রংপুরের পীরগঞ্জে এক তরুণের ফেসবুক কমেন্টে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়। সেখানেও মন্দির ভাঙচুর করা হয়।

এসব মামলায় কারও কারও নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা হিসাবে শতাধিক থেকে শুরু করে কয়েক হাজার মানুষকে আসামী করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে আটকের পাশাপাশি পুলিশ অভিযান চালিয়েও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া এসব সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন কয়েকশো মানুষ।

বুধবার সংঘর্ষের পর কুমিল্লা শহরের রাস্তায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল
ছবির ক্যাপশান, বুধবার সংঘর্ষের পর কুমিল্লা শহরের রাস্তায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল

পুলিশ সদর দপ্তরের বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এসব গুজব বা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের মনিটর করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়াতে এবং অযাচাইকৃত সংবাদ বিশ্বাস না করতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: