আফগানিস্তান: তালেবানের পাঞ্জশের দখলের দাবি নাকচ করছে বিরোধীরা

পাঞ্জশেরের তালেবান-বিরোধী ন্যাশনাল রেজিসট্যান্স ফোর্স।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাঞ্জশেরের তালেবান-বিরোধী ন্যাশনাল রেজিসট্যান্স ফোর্স।
পড়ার সময়: ২ মিনিট

আফগানিস্তানের পাঞ্জশের উপত্যকা, একমাত্র এলাকা যেখানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ নেই, সেটি তালেবানের দখলে চলে গেছে বলে দাবি করেছে তালেবান।

তালেবান সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, পুরো পাঞ্জশেরের নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে।

কিন্তু তালেবান-বিরোধী মিলিশিয়া দাবি করছে, লড়াই এখনও চলছে।

প্রতিরোধ বাহিনীর নেতাদের একজন আমরুল্লাহ সালেহ নিজে ঐ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে ওঠা দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে পরিস্থিতি সংকটজনক।

পাঞ্জশের দখলের লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়তে পারেন:

পাঞ্জশের দখলের খবরে কবুলে তালেবানের উল্লাস। তবে নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এই দাবি যাচাই করা যাচ্ছে না।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাঞ্জশের দখলের খবরে কবুলে তালেবানের উল্লাস। তবে নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এই দাবি যাচাই করা যাচ্ছে না।

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহারের পর তালেবান ঝাড়ের গতিতে পুরো দেশ দখল করে নিলেও পাঞ্জশের এলাকায় তারা এখনও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

তালেবান-বিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট এই উপত্যকাটি নিয়ন্ত্রণ করছিল।

রাজধানী কাবুলের উত্তর-পূবে পাঞ্জশের আফগানিস্তানের সবচেয়ে ছোট প্রদেশ। পাহাড় দিয়ে ঘেরা এই প্রদেশে দেড় থেকে দুই লক্ষ লোকের বাস। এলাকাটি বরাবরই তালেবান-বিরোধী।

এর বড় কারণ হলো এই উপত্যকাটি কিংবদন্তী যোদ্ধা আহমাদ শাহ মাসুদের ঘাঁটি।

আহমেদ শাহ মাসুদ আশির দশকে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং নব্বইয়ের দশকে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

আহমাদ শাহ্ মাসুদ, যিনি ২০০১ সালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আহমাদ শাহ্ মাসুদ, যিনি ২০০১ সালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন।

সম্পর্কিত খবর:

তার ছেলে আহমাদ মাসুদ এখন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

মি. মাসুদের সঙ্গে রয়েছেন আফগান সরকারের সাবেক একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ।

প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজেকে আফগানিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করছেন।

কিন্তু তালেবান এখন দাবি করছে যে তারা পাঞ্জশের দখলের লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছে।

তালেবানের একজন কমান্ডার রয়টার্সকে বলেছেন, "আল্লাহ্‌'র রহমতে পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ এখন আমাদের হাতে। পাঞ্জশেরের গোলযোগ সৃষ্টিকারীরা পরাজিত হয়েছে, এবং আমরাই এখন পাঞ্জশেরের নিয়ন্ত্রণে।"

আমরুল্লাহ সালেহ‌'র ভিডিও:

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

তবে তালেবানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন আমরুল্লাহ সালেহ। তিনি বলছেন, এই লড়াইয়ে দু‌'পক্ষেই প্রচুর হতাহত হয়েছে।

"পরিস্থিতি কঠিন, সন্দেহ নেই। আমরা তালেবানের আগ্রাসনের মুখে রয়েছি," বলছেন তিনি, "তবে আমরা হার স্বীকার করবো না। আফগানিস্তানের জন্যই আমরা লড়ছি।"

তিনি জানান, ঐ ভিডিওটি তিনি প্রচার করছেন মানুষকে আশ্বস্ত করার জন্য যে তিনি এখনও পাঞ্জশেরেই আছেন।

তবে তার অবস্থান সম্পর্কে বিবিসি নিশ্চিত হতে পারেনি।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর: