আফগানিস্তান: কাবুল বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, উদ্ধার অভিযানের সময়সীমা বাড়াবে না তালেবান

বিদেশি সৈন্যদের ৩১ অগাস্টের মধ্যেই আফগানিস্তান ছাড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, বিদেশি সৈন্যদের ৩১ অগাস্টের মধ্যেই আফগানিস্তান ছাড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান।

কাবুল বিমানবন্দরের একটি প্রবেশ পথে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জার্মান সামরিক কর্মকর্তারা।

এই গোলাগুলির সময় একজন আফগান রক্ষী নিহত এবং অপর তিনজন আহত হন। বলা হচ্ছে জার্মান এবং মার্কিন বাহিনীও এই ঘটনায় জড়িত ছিল।

কীভাবে এই গোলাগুলি শুরু হয়েছিল তা এখনো পরিস্কার নয়।

বিমানবন্দরে এখন যে আফগান বাহিনী রয়েছে, তারা একটি সামরিক ইউনিটের অংশ। এই ইউনিটটি তালেবানের কাছে আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানায় এবং তারা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বাহিনীকে সহায়তা করছে।

তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কাবুল বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। হাজার হাজার আফগান এবং পশ্চিমা নাগরিক মরিয়া হয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির পর মাত্র গতকালই যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছিল সেখানে না যাওয়ার জন্য। যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলার আশংকা আছে বলে মনে করছে।

অন্যান্য খবর:

কাবুলের হামিদ কারযাই বিমানবন্দরে নিয়োজিত তুর্কি সেনা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কাবুলের হামিদ কারযাই বিমানবন্দরে নিয়োজিত তুর্কি সেনা। একটি তুর্কী সামরিক টাস্ক ফোর্সও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে।

একজন নেটো কর্মকর্তা রবিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন যে গত সপ্তাহান্তের পর হতে এ পর্যন্ত কাবুল বিমানবন্দরের আশে-পাশে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে এবং পদদলিত হয়ে মারা যান।

এদিকে তালেবান জানিয়েছে, তারা পশ্চিমা দেশগুলোকে তাদের নাগরিকদের উদ্ধার অভিযান চালাতে ৩১শে অগাস্ট পর্যন্ত যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, সেটি আর বাড়ানো হবে না।

তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বলেছেন, এই সময়সীমা লঙ্ঘনের কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন কথা দিয়েছিলেন ৩১ অগাস্টের মধ্যে সৈন্যদের ফিরিয়ে নেয়া হবে। যদি এরপরও মার্কিন সৈন্যরা আফগানিস্তানে থেকে যায়, তার মানে হচ্ছে আফগানিস্তানে তাদের দখলদারিত্বের সময় আরও বাড়া। যদি এই সিদ্ধান্তের কোন পরিবর্তন হয়, তাহলে এর পরিণাম সম্পর্কে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে দেন।

হাজার হাজার মানুষ কাবুল বিমানবন্দর দিয়ে আফগানিস্তান থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, হাজার হাজার মানুষ কাবুল বিমানবন্দর দিয়ে আফগানিস্তান থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন।

কাবুল বিমানবন্দরের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেট জানান, "সেখানে টারমাকে নামার পর মনে হবে যেন কেউ আপনাকে মাথায় একটা ইট দিয়ে আঘাত করেছে।"

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, "বিমানবন্দরের সবদিকেই কেবল ধূসর রঙের বিশাল সব সামরিক বিমান। আকাশে উড়ছে সামরিক হেলিকপ্টার।

প্রত্যেকটি বিমানের দিকে লম্বা লাইন করে ছুটছে আফগানরা। এই লাইনের যেন কোন শেষ নেই। তাদেরকে বলা হয়েছে, তারা কেবল একটি স্যুটকেস সাথে নিতে পারবে। এই একটা স্যুটকেস হাতেই তারা তাদের দেশ ছেড়ে যাচ্ছে।"