বাংলাদেশে শ্রমিকদের জন্য সাময়িকভাবে গণপরিবহন চালু

বাংলাদেশে লকডাউন শিথিল করে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার পর সরকার এবার সাময়িকভাবে গণপরিবহন চালু করারও ঘোষণা দিয়েছে।

শনিবার রাতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শনিবার রাত পৌণে আটটা হতে ১লা অগাস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী নৌযান এবং ট্রলার চলাচল করবে। তবে যাত্রীদের করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

একইভাবে যাত্রীবাসী বাসও সাময়িকভাবে চালু করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সরকার হঠাৎ করেই সব রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা ১লা অগাস্ট হতে খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়।

এরপর থেকেই এসব কারখানার কর্মীরা রাজধানী ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করেন, কিন্তু গণপরিবহনের অভাবে তাদের বড় ধরণের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার কর্মীরা যাতে তাদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্যেই সরকার সাময়িক সময়ের জন্য গণপরিবহন চালু করেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ৫ই অগাস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন রয়েছে। কিন্তু কল-কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের পরই ঢাকা অভিমুখে মানুষের ঢল নামে।

শনিবার মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে হাজার হাজার মানুষকে পার হতে দেখা গেছে। যানবাহন পরিবর্তন করে, পণ্যবাহী যানের ছাদে করে বা হেঁটে তাদের ঢাকার পথে রওনা দিতে দেখা গেছে।

সরকার শুরুতে বলেছিল শুধুমাত্র ঢাকা এবং ঢাকার আশেপাশে থাকা শ্রমিকদের নিয়ে সীমিত পরিসরে কারখানা চালু করার শর্তে মালিকদের কারখানা খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

তাহলে কারখানা মালিকরা শ্রমিকদের বার্তা পাঠিয়ে কাজে ফেরার নির্দেশ দিচ্ছে কেন? বিবিসি বাংলার মানসী বড়ুয়া এ প্রশ্ন করেছিলেন পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভাইস পেসিডেন্ট শহীদ্দুলাহ অজিমকে।

জবাবে মিস্টার আজিম ঢাকার বাইরের শ্রমিকদের কাজে ফেরার জন্য কোন চাপ দেয়ার কথা অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরের শ্রমিকদের কাছে মেসেজ দিয়েছি, তাদের কাজে ফেরার জন্য কোন চাপ নেই, তারা যখন আসবেন তখন তাদের চাকুরি থাকবে।"

তিনি দাবি করেন, পোশাক শ্রমিকদের ৭৫ হতে ৮০ শতাংশ শ্রমিক আগেই কর্মস্থলে চলে এসেছে। তিনি বলেন, সরকার গণপরিবহন সাময়িকভাবে চালু করায় শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার দুর্ভোগও অনেক কমবে।

অন্যান্য খবর: