কোভিড ভ্যাকসিন: চীনে তৈরি করোনাভ্যাক প্রয়োগের জরুরি অনুমোদন, স্থানীয় এজেন্ট ইনসেপ্টা, কবে আসবে বাংলাদেশে

বাংলাদেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি টিকা করোনাভ্যাকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি দেশটিতে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পাওয়া করোনাভাইরাসের পঞ্চম টিকা।

রোববার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, চীনের সিনোভ্যাক লাইফ সায়েন্স কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদিত এই টিকা জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদনের জন্য আবেদন করে ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাংলাদেশে সিনোভ্যাকের স্থানীয় এজেন্ট।

ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ওষুধ প্রশাসন সিনোভ্যাকের টিকাটি জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

আরো পড়তে পারেন:

ওষুধ প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চীনে ফেব্রুয়ারির নয় তারিখে ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সিনোভ্যাকের তৈরি এই টিকা বাংলাদেশ ছাড়া আরো ২২টি দেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে।

সিনোভ্যাকের এই টিকা দিতে পারবেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কোন ব্যক্তি।

প্রত্যেককে এই টিকার দুই ডোজ নিতে হবে, দুই বা চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে হবে।

ওষুধ প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিনোভ্যাকের টিকা সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত তাপমাত্রা দুই থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশে এর আগে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া টিকা গুলো হচ্ছে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার উৎপাদিত স্পুটনিক ভি, চীনের সিনোফার্ম এবং ফাইজারের টিকা।

কবে বাংলাদেশে আসবে করোনাভ্যাক?

সিনোভ্যাকের টিকা জরুরি ব্যবহারের জন্য আজ অনুমোদন দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, কিন্তু কবে নাগাদ এ টিকা বাংলাদেশে আসবে সে সম্পর্কে কোন ধারণা দিতে পারেননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক মোহাম্মদ রোবেদ আমিন রোববার বলেছেন, "আজকে এর (করোনাভ্যাকের) অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখন সেটা কিভাবে আনা হবে, কোথায় রাখা হবে এবং সেটাকে কোন্ কোন্ এজেন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হবে, এটি আলোচনার বিষয়। এরপরই সে সম্পর্কে বলা যাবে।"

তিনি জানিয়েছেন, জরুরি ব্যবহারের জন্য কিছুদিন আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সিনোভ্যাকের এই টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

এখন এই টিকা চীন থেকে আমদানি করা হবে, নাকি দেশেই উৎপাদন করা হবে সে সম্পর্কে কিছু বলেননি অধ্যাপক আমিন।

এদিকে, বাংলাদেশে সিনোভ্যাকের স্থানীয় এজেন্ট ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "এটা জরুরি ব্যবহারের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমতি দিয়েছে যাতে সিনোভ্যাকের টিকা সরকার সরাসরি ইমপোর্ট (আমদানি) করতে পারে।"

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে যেমন এজেন্ট বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল, করোনাভ্যাকের ক্ষেত্রে স্থানীয় এজেন্ট হলেও টিকা আনার ক্ষেত্রে তেমন কোন ভূমিকা ইনসেপ্টা রাখবে না বলে জানিয়েছেন, মি. মুক্তাদির।

তিনি বলেন "এখন সরকার সরাসরি ওই কোম্পানির (সিনোভ্যাক) সাথে ডিল করবে, এখানে কোম্পানি হিসেবে আমাদের কোন ভূমিকা থাকবে না।"

সে ক্ষেত্রে ইনসেপ্টার ভূমিকা বা যোগসূত্রের ব্যাপারটি তিনি বিবিসির কাছে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, "ওদের সঙ্গে (সিনোভ্যাক) আমাদের অন্য ব্যবসা রয়েছে।

আমরা ওদের সঙ্গে কোলাবরেটিভ রিসার্চ করি এবং ওদের সঙ্গে অন্যান্য ভ্যাকসিনের ব্যাপারে আমাদের কার্যক্রম রয়েছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করি, এ কারণে ওদের আবেদন আমরা সরকারের কাছে ফরোয়ার্ড করেছি।"

তিনি জানিয়েছেন, এই মূহুর্তে ইনসেপ্টা ১১ ধরণের ভ্যাকসিন উৎপাদন করে।

তবে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন উৎপাদনের ইচ্ছা ও চেষ্টা প্রতিষ্ঠানটির থাকলেও এখনো এ বিষয়ে তারা সফলকাম হয়নি বলে জানিয়েছেন মি. মুক্তাদির।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫টি ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শুধুমাত্র অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকাই প্রয়োগ করা হয়েছে, যেটির স্থানীয় এজেন্ট বেক্সিমকো।

এই টিকাটি তৈরি করা হয় ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউটে।

ভারত এই টিকা রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কারণে বাংলাদেশের আর এই টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়েছে।