কোভিড: সাতক্ষীরা জেলায় ৭ দিনের লকডাউন, সংক্রমণ ৫৫ শতাংশ

ছবির উৎস, Getty Images
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পর এবার সাতক্ষীরায় সাত দিনের 'লকডাউন' ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার গড়ে ৩৫% -এ ওঠানামা করছে।
সবশেষ বুধবার জেলায় সংক্রমণের হার বেড়ে ৫৫%- এ দাঁড়ায়। সে কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শনিবার ভোর থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এই লকডাউন।
আরও পড়তে পারেন:
লকডাউন চলাকালীন সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দোকানপাট সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এই সময়ের পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না।
তবে ওষুধের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যাবে।
এছাড়া জরুরি ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে কিংবা চিকিৎসা নিতে বের হওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখাতে হবে।
মূলত অ্যাম্বুলেন্স, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, এবং আমসহ খাদ্যপণ্যের পরিবহন লকডাউনের আওতার বাইরে থাকবে।
শুক্রবার লকডাউনের বিধিনিষেধ কার্যকর করতে যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হবে বলে জানান মি. কামাল।
লকডাউন কার্যকর করতে উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
মি. কামালের মতে, সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলো অরক্ষিত থাকার কারণে, মানুষের অবাধ চলাচল ও চোরাচালানের কারণে সংক্রমণ বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, "সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলো সংক্রমণ বেশি। আমরা তো পর্যাপ্ত টেস্ট করাতে পারছি না। এরপরও যতোটা টেস্ট হচ্ছে, তারমধ্যে ৫৫% পজেটিভ। অর্থাৎ দুই জনে একজন পজিটিভ। ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন যে এক বাড়ি পর পর আবার একই বাড়িতে একাধিক লোক জরে আক্রান্ত। পরিস্থিতিটা এমন।"

ছবির উৎস, Getty Images
তবে লকডাউনের ফলে পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গড়ে ১০% হলেও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় এই হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
এমন অবস্থায় ৮টি অতি সংক্রমিত জেলায় জরুরি ভিত্তিতে লকডাউনের পরামর্শ দিয়েছিল জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সাতক্ষীরায় এবং এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আরও কয়েকটি জেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
রাজশাহী নাটোর, নওগাঁ, খুলনা ও যশোরে কোথাও পূর্ণ আবার কোথাও আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
আইইডিসিআর এর তথ্য মতে গত সপ্তাহে বাংলাদেশের ৩৫টি জেলায় সংক্রমণের গ্রাফ উর্ধ্বমূখী।
এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা ও বাগেরহাট- এই ৮টি সীমান্তবর্তী জেলায় সংক্রমণের হার ২০% এর বেশি। আবার রাজশাহী, নওগাঁ ও সাতক্ষীরায় সংক্রমণের গড় হার ৩০% এর বেশি।

ছবির উৎস, Getty Images
সংস্থাটির পরিচালক তাহমিনা শিরিন জানান, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আবার ভারতে যাওয়ার ইতিহাস না থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় মানুষের আক্রান্তের হার বাড়ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জেও সংক্রমণের হার বেড়ে ৫৫%-হওয়ায় লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়। আজ সেখানে লকডাউনের দশম দিন।
ইতোমধ্যে সংক্রমণের হার ৪০%-এ নেমে এসেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত লকডাউন চলবে বলে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ।
অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কড়াকড়ির মধ্যে অনেক মানুষ জেলা ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
মূলত আমের এই মৌসুমের কারণে এই জেলায় যাতায়াত বাড়ছে, যা অনেকসময় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এক্ষেত্রে কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছ কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন সমন্বিত হয়ে কাজ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে জানান কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম।
অতি সংক্রমিত অনেক জেলায় হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ ও ভ্যান্টিলেটর সুবিধা না থাকায় চিকিৎসায় বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।








