জেরুজালেমে তৃতীয় রাতে সংঘর্ষ, ইহুদি জাতীয়তাবাদী মিছিলকে ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা

ছবির উৎস, Anadolu Agency/Getty
জেরুজালেমে তৃতীয় রাতের মত ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষ হয়েছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে সোমবার ইহুদি জাতীয়তাবাদীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে আরো সহিংসতা হতে পারে।
বার্ষিক জেরুজালেম দিবস উপলক্ষে পতাকা মিছিলের আয়োজন করেছে ইহুদি জাতীয়তাবাদীরা।
এই দিনে সাধারণত তরুণ ইহুদিরা মুসলিম এলাকাগুলোতে মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিণ করে।
১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের স্মরণে এই দিবস পালন করা হয়। অনেক ফিলিস্তিনিরা একে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখে।
ইসরায়েলের সাবেক উচ্চপদস্থ প্রতিরক্ষা বিষয়ক একজন কর্মকর্তা এই মিছিল বাতিল করার অথবা অন্য পথ দিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেয়ার পর শহরটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চিকিৎসক এবং পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে গত তিন দিনের সহিংসতায় কয়েকশ ফিলিস্তিনি এবং ২০জনের বেশি ইসরায়েলি পুলিশ আহত হয়েছে।
এদিকে আজ সোমবার ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো অনেক বছর আগে যে মামলা করেছিল সেটা আদালতে শুনানি হওয়ার কথা আছে।
তৃতীয় দিনের সংঘর্ষে যা ঘটেছে
শেখ জারাহতে রবিবার রাতে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে, এর জবাবে পুলিশ কর্মকর্তারাও স্টান গ্রেনেড এবং জল কামান ব্যবহার করেছে।

ছবির উৎস, SAID KHATIB/ Getty
তবে পুরনো শহরের দামেস্ক গেটের কাছে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের চিকিৎসকরা বলছেন বেশ কিছু বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
এছাড়া ইসরায়েলের শহর হাইফা এবং রামাল্লাতে ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলিদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু জেরুজালেমের পুলিশের কার্যকলাপকে সর্মথন করে বলেছেন তার সরকার শান্তিপূর্ন অবস্থাকে নষ্ট করার জন্য কোন প্রকার কট্টরপন্থী উপাদানকে পাত্তা দেবে না।
পূর্ব জেরুজালেমে জেরুজালেমের নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন প্রতিবেশি জর্ডান।
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায় যেসব দেশ ভূমিকা রাখে, সেই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ এই সহিংসতার ব্যাপারে 'গভীর উদ্বেগ' জানিয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আজ আরো পরের দিকে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আরো পড়ুন:
সহিংসতা উসকে দিল যে বিষয়গুলো
শনিবারের সহিংসতার শুরু হয় জেরুজালেমের দামেস্ক গেটে যখন ইসলাম ধর্মের পবিত্র রাত লাইলাতুল আল-কদর উপলক্ষে হাজার হাজার মুসলমান আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
এর আগে শনিবার মসজিদ অভিমুখে নামাজীদের নিয়ে যাওয়া অনেক বাস আটকে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবারের সহিংসতার কারণে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
''তারা আমাদের নামাজ পড়তে দিতে চায় না। সেখানে প্রতিদিনই লড়াই করতে হচ্ছে, প্রতিদিনই সহিংসতা হচ্ছে। প্রতিদিনই সেখানে সমস্যার তৈরি হচ্ছে,'' রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন সাতাশ বছরের মাহমুদ আল-মারবুয়া।
সহিংসতার পেছনের কারণ
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকেই পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। পুরো শহরকে তারা নিজেদের রাজধানী বলে মনে করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশ তাতে স্বীকৃতি দেয়নি।

ছবির উৎস, AMIR LEVY/GETTY IMAGES
ফিলিস্তিনিরা দাবি করে, পূর্ব জেরুজালেম হবে তাদের স্বাধীন দেশের রাজধানী।
ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে, কারণ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য পূর্ব জেরুজালেমের বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার সম্ভাবনায় প্রতিদিনই কলহ তৈরি হচ্ছে।
জাতিসংঘ ইসরায়েলের প্রতি আহবান জানিয়েছে যেন যেকোনো ধরনের উচ্ছেদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয় এবং ''বিক্ষোভকারীদের প্রতি যেন সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানো হয়''।
জোর করে বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানিয়েছে আরব লীগ।
এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার বিষয়ে সোমবার একটি শুনানি করতে যাচ্ছে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট।








