খালেদা জিয়া: করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন হাসপাতালে সেরে উঠছেন, তবে অন্যান্য রোগের পরীক্ষা চলছে

ছবির উৎস, BNP
বাংলাদেশে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া করোনাভাইরাস থেকে ভালভাবেই সেরে উঠছেন বলে তাঁর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে চিকিৎসকরা বলেছেন, আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস সহ পুরনো সব জটিলে রোগের টেস্টের জন্য কয়েকদিন তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে।
বুধবার রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তার একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিসেস জিয়ার বুধবার যে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে, সেই রিপোর্টে ফুসফুসে সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। তাঁর কোন উপসর্গও নেই। ফলে তিনি ভাল আছেন।
তবে গত ১১ই এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। সে সময় সিটি স্ক্যান রিপোর্টে তাঁর ফুসফুসে পাঁচ শতাংশ সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছিল।
এখন ফুসফুসে কোন সংক্রমণ না থাকায় মিসেস জিয়া করোনাভাইরাস থেকে ভালভাবেই সেরে উঠছেন এবং সেজন্য তাকে এখন বেসরকারি হাসপাতালটির কেবিনে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ডাক্তার জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস থেকে ভালভাবে সেরে উঠলেও খালেদা জিয়ার আর্থরাইটিস এবং ডায়াবেটিস ও চোখের সমস্যাসহ পুরোনো যে সমস্যাগুলো রয়েছে, দীর্ঘদিন সেগুলোর কোন পরীক্ষা করা হয়নি। সেজন্য পুরনো জাটিলতাগুলোর ব্যাপারে বুধবার কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবারও কিছু পরীক্ষা করা হবে।
মি: হোসেন বলেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বেসরকারি হাসপাতালটির চিকিৎসকদের নিয়ে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
ডাক্তার হোসেন আরও বলেছেন, খালেদা জিয়ার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার বিষয়টা এখন প্রেডিক্ট করা বেশ কঠিন। কারণ তার সব পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মেডিকেল টিম রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সহসাই বাসায় ফেরার সম্ভবনা রয়েছে বলে তারা আশাবাদী।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার স্বাস্থ্যের পরীক্ষা বা বিভিন্ন টেস্টের জন্য তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ছবির উৎস, BNP
খালেদা জিয়াকে আকস্মিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করার খবরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
গত ২৫শে এপ্রিল খালেদা জিয়ার দ্বিতীয়বারের মতো কোভিড ১৯ পরীক্ষা করা হলে সেখানেও তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল।
মঙ্গলবার রাতে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরে তাঁর চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত হবার পর ১৯ দিন অতিবাহিত হয়েছে।
চিকিৎসক অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, "ওনার খুব ভালো রিকভারি হয়েছে। সেটা দেখতে চাচ্ছিলাম যে কেমন আছে। এর পাশাপাশি আমরা আরো কিছু ইনভেস্টিগেশন করতে চাই।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার পরে গত ১৪ই এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার ফুসফুসের সিটি স্ক্যান করা হয়। তখন চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে খালেদা জিয়ার ফুসফুসে ভাইরাসের সংক্রমণ নূন্যতম।
গতরাতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, খালেদা জিয়ার ফুসফুসের অবস্থা এখন কেমন আছে? এর জবাবে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, "ফুসফুস খুব সুন্দর ক্লিয়ার আছে।"
আরো পড়তে পারেন:
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসাবে গত ১০ই এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নমুনা দেন।
পরদিন ১১ই এপ্রিল জানা যায় তিনি কোভিড-১৯ পজিটিভ। খবরটি দলের পক্ষ থেকে প্রথমে অস্বীকার করা হলেও, পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।

ছবির উৎস, Getty Images
খালেদা জিয়া ছাড়াও তার বাসায় আরো আটজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এরপর ২০২০ সালের ২৫শে মার্চ তাকে ছয় মাসের জন্য নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয়া হয়।
পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে মুক্তির সময় আরও ছয় মাস বাড়ায় সরকার।
এ বছরের মার্চে তৃতীয়বারের মতো ছয় মাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়।








