কওমি মাদ্রাসায় ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে বোর্ড

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের সব কওমি মাদ্রাসায় ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী বোর্ড।
রোববার কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের স্থায়ী কমিটির একটি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কমিটির একজন সদস্য মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোলকে বলেছেন, ''এরকম একটি সিদ্ধান্ত আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে বোর্ডের সভায় সেটা নিয়ে আবার আলোচনা হয়েছে।"
"কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হওয়ার জন্য মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে''- বলেন মি. জিহাদী - যিনি কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক একটি দল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব।
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় প্রকাশ করা সভার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় ঠিক হয়, কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবে আল-হাইআতুল উলয়া। অন্য কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি আল-হাইআতুল উলয়ার সিদ্ধান্ত ব্যতীত পৃথকভাবে কওমি মাদরাসা বিষয়ক কোনও সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নিতে পারবে না।
"কওমি মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকগণ প্রচলিত সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবে" বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ওই সভায়।
আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
সভায় সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া কওমি মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের রমজানের এই রহমতের মাস বিবেচনায় সরকারের নিকট তাদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি আলেম-ওলামা, মাদরাসার ছাত্র ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হয়রানি না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
২০১৭৭ সালে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর সমমানের স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশের সরকার।
সেই পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদ প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয় 'আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ'কে। এর অধীনে ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড রয়েছে।
ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি না করার এই ঘোষণা এমন সময় এই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তরফ থেকে এলো, যখন নরেন্দ্র মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় ইসলামপন্থী অনেকগুলো দল চাপের মধ্যে রয়েছে।
ভাঙচুর, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগর ঘটনায় এর মধ্যেই কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক দল হেফাজতে ইসলামের অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হেফাজতে ইসলাম সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেলেও, সেখানে এখনো কোন ফলাফল দেখা যায়নি।








