করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন: কোভিড-১৯ প্রথম ডোজের টিকাদান সোমবার থেকে বন্ধ

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে আগামীকাল সোমবার থেকে করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ করে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২৬শে এপ্রিল সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের প্রথম ডোজ টিকা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২৪শে এপ্রিল পর্যন্ত ৫৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮০ জন প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। আর দ্বিতীয় ডোজের টিকা পেয়েছেন ২১ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৬ জন।
টিকা গ্রহণের জন্য এ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫ জন।
বাংলাদেশ এমন সময় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যখন ভারত টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দেশটি এক গভীর সংকটে পড়েছে।
বেসরকারি সংস্থা বেক্সিমকোর মাধ্যমে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটে তৈরি করা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার কোভিশিল্ড তিন কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। আরও ৩২ লাখ টিকা সরকার পেয়েছে উপহার হিসাবে।
সেই হিসাবে বাংলাদেশের মোট এক কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে, যার একটি বড় অংশই দেয়া হয়ে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
নতুন করে কিছু টিকা পাওয়ার আশা
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হাতে যে পরিমান টিকা আছে তাতে প্রথম ডোজ নেয়া সব মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ দিয়ে শেষ করা যাবে না।
কিন্তু রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, দুটি সূত্র থেকে আরো একুশ লাখ টিকা পাওয়া যাবে, যা মে মাসে পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
এর মধ্যে বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া যাবে এক লাখ ডোজ। আর ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে পাওয়া যাবে কুড়ি লাখ ডোজ, বলছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
কিন্তু, বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছে যে, ব্যাপক অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি হওয়ার কারণে তাদের পক্ষে আর বাইরের কোন দেশকে আপাতত সিরামের তৈরি টিকা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এই খবরটি অবশ্য বিবিসির পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কোন বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
অবশ্য এর একদিন আগে শনিবার বেক্সিমকোর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন সিরাম থেকে প্রাপ্য টিকার চালান আনার জন্য ভারত সরকারের ওপর চাপ দিতে।
তিনি বলেন, "সিরামকে দেড় কোটি ডোজ টিকার জন্য অগ্রিম অর্থ দিয়েছে বাংলাদেশ, তাই সেটি ভারত আটকাতে পারে না।"
"সরকারের তাদেরকে স্পষ্ট বলা উচিৎ যে আমরা অগ্রিম টাকা দিয়েছি। এটা আমাদের অধিকার। ফোনে কথা বলা নয়। শক্ত স্টেপ নিতে হবে"।
"সিরাম জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের জন্য ৫০ লাখ ডোজ রেডি করে রেখেছে কিন্তু মিনিস্ট্রি অফ এক্সটারনাল এফেয়ার্স ছাড়পত্র দিচ্ছে না। তাই ভ্যাকসিন আনার বিষয়ে এখন বাংলাদেশ সরকারের চুপ করে থাকার কারণ নেই। " বলেন মি. পাপন।








