হেফাজতে ইসলাম অভিযোগ করছে তাদের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের

ছবির উৎস, MASUK HRIDOY
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা সহিংসতার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সর্বশেষ আজ ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে।
হেফাজত নেতারা অভিযোগ করেছেন, তিন দিন ধরে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের প্রায় দু'শ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হেফাজতের কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন অফিসে অগ্নিসংযোগ সহ সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় গত ২৬শে মার্চ থেকে তিন দিন ধরে হেফাজতের কর্মসূচিকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা এবং কমপক্ষে ১৭ জনের প্রাণহানি হয়।
আরও পড়ুন:
হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই ৫১টি মামলা করা হয়েছে শত শত অজ্ঞাতনামাকে অভিযুক্ত করে। সেখানে রেলস্টেশন, ভূমি অফিস এবং পুলিশের থানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে আক্রমণ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার নানা অভিযোগ রয়েছে মামলাগুলোতে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ এসব মামলায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বশেষ ৬০ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে।
এর আগে গত দু'দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একশো জনের বেশি আটক করা হয়েছে।
হেফাজত ইসলামের একজন কেন্দ্রীয় নেতা সিরাজুদ্দিন আহমাদ অভিযোগ করেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারী এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে।
"এখন সরকার সারাদেশে বিভিন্ন মামলা দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেছে। এবং ইতিমধ্যে প্রায় দুইশো'র মতো গ্রেপ্তার করে ফেলেছে।"

ছবির উৎস, Getty Images
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার অভিযোগে মামলাগুলোতে পুলিশ অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আটক করার কথা বলছে।
অন্যদিকে প্রায় আট বছর আগে ২০১৩ সালে হেফাজতের ঢাকা অবরোধ বা শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সে সময় সরকার উৎখাতের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিল।
এখন সেই পুরোনো একটি মামলায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেপ্তারের পর গত সোমবার ঢাকার একটি আদালতে হাজির করে তাকে সাতদিনের পুলিশি রিমাণ্ডে নেয়া হয়েছে।
সংগঠনটির আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী এক বিবৃতিতে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তারকে উদ্দেশ্যমূলক বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, নাশকতার ঘটনাগুলো নিয়ে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের একটা বার্তা দিতে চাইছে।
"যে সহিংস ঘটনাগুলো ঘটেছে, সে সহিংস ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে সরকারি বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে, বিশেষ করে ইউএনও অফিস, ভূমি অফিস, রেলস্টেশন-এরকম অজস্র সরকারি বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে," বলেছেন মি: হানিফ।
তিনি আরও বলেছেন, "কঠোর শাস্তি দিয়ে আমরা এই বার্তা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই যে, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস করার নৈতিক অধিকার কারও নাই। এছাড়া কেউ ধর্মের নামে বা রাজনীতির নামে- যেকোন নাম দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস বা নাশকতা করবে- সেটা বরদাশত করা হবে না।"

ছবির উৎস, MOHAMMAD SELIM
হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমীর আহমদ শফীকে মানসিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার পরিবার গত বছর চট্টগ্রামের আদালতে মামলা করেছিল।
সেই মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই গত সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। তাতে হেফাজতের বর্তমান আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এরও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জুনায়েদ বাবুনগরী।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, এখন বিভিন্ন মামলা সামনে এনে হেফাজতের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হয়রানি করা হচ্ছে।
"যে সব মামলা করা হইছে, এগুলোরে ভিত্তি নাই বলে আমরা মনে করি," মি: জেহাদী বলেন।
এদিকে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, ব্রহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় যে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, সেই অভিযানে মূলত সরকার বিরোধী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
এক প্রেসব্রিফিংয়ে এর জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মের নামে যারা সহিংসতা করেছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরকেই আইনের আওতায় আনছে।








