আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: মামুনুল হক, নারায়ণগঞ্জ রিসোর্ট কাণ্ড ও করোনা ভাইরাস লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন
- Author, মানসী বড়ুয়া
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
চলতি সপ্তাহে যেসব খবর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল তার মধ্যে ছিল হেফাজতে ইসলামের অন্যতম নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাকে কেন্দ্র করে সরকার ও হেফাজতের মন্তব্য নিয়ে নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ।
এই বিষয়ে কয়েকটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি। নারায়ণগঞ্জে একটি রিসোর্টে মামুনুল হকের অবস্থান প্রসঙ্গে কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন কাউনিয়া, বরিশাল থেকে মো. সাইদুর রহমান বাগিয়া:
''এক- সে যদি আইন বহির্ভূত কোন কাজ করে থাকে, তখন রিসোর্টে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন তাকে গ্রেফতার বা আইনের আওতায় না নিয়ে ছেড়ে দিল কেন? দুই- বিবিসির প্রতিবেদনে দেখলাম রিসোর্টে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ছাত্রলীগ, যুবলীগের লোকজন তাকে নানা প্রশ্নে জর্জরিত করছে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে স্থানীয় প্রশাসন দেখার কথা, সেখানে ছাত্রলীগ, যুবলীগকে এ ক্ষমতা কে দিয়েছে? তিন - দেশে বা বিদেশে স্বামী স্ত্রী নিয়ে ঘুরতে গেলে কতজন লোক কাবিননামা সাথে রাখে? চার- ঘটনার পর মামুনুল হকের বেশ কয়েকটি ফোন আলাপ ফাঁস হয়েছে, এটার দায় কার? আমি প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাইনি, বিবিসির কাছে আছে কি?''
মি. রহমান, ঘটনার দিন সোনারগাঁও থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান রিসোর্টে কয়েক ঘন্টা মি. হককে অবরুদ্ধ করে রাখার পর হেফাজতে ইসলামের সমর্থক এবং মাদ্রাসার ছাত্ররা পাল্টা হামলা চালিয়ে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি তাকে নানা প্রশ্ন করছেন। তাদের কেউ নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন, কেউ কেউ ছাত্রলীগ বা যুবলীগ পরিচয় দেন।
সেখানে সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, যারা তাকে নানা প্রশ্ন করছিল, তারা আসলে কারা ছিল, সেদিনের ঘটনা নিয়ে যথাযথ তদন্ত হলেই একমাত্র এসব তথ্য সঠিকভাবে জানা যাবে। ইতোমধ্যে সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন ঘটনাটির তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হচ্ছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী জানা যায়।
ফোন আলাপ যেগুলো সামাজিকমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে এসেছে, সেগুলো কোথা থেকে ফাঁস হয়েছে, কারা রেকর্ড করেছে তার দায়দায়িত্ব কেউই স্বীকার করছে না। কর্তৃপক্ষও এই রেকর্ডিং সম্পর্কে এখনও কিছু স্পষ্ট করে বলেনি। ফলে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য বিবিসির কাছেও নেই।
পরের চিঠিটি লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাইদ:
''বাংলাদেশে দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক নরনারী বাইরে গিয়ে- বিশেষ করে বেড়াতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়ে থাকেন অহরহ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ, সঙ্গী নারীকে যৌন নির্যাতন, অথবা দু'জনকেই নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এমন ঘটনার সর্বশেষ সংযোজন হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রশ্ন হল, দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক নরনারী যদি একসাথে কোথাও বের হন, সেক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কের সংজ্ঞা দানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত?''
যতদূর জানি প্রাপ্তবয়স্ক দু'জন নরনারীর বেড়ানোর জন্য কোনরকম কাগজপত্র সাথে রাখার কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই এবং কোন প্রয়োজনও থাকার কথা নয়। তবে বেড়াতে যাওয়া অনেক নারী পুরুষের কাছে নানা ধরনের কাগজপত্র দাবি করে হেনস্তার নানা ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়, যেমনটা আপনি লিখেছেন, যেটা প্রায়শই করা হয় হয়রানির উদ্দেশ্যে।
মামুনুল হককে নিয়ে সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে হেফাজতের ভবিষ্যত রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করেছেন পার্বতীপুর, দিনাজপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''অরাজনৈতিক পরিচয় দাবি করা হেফাজতে ইসলাম মাত্র এক দশকেই সাংগঠনিকভাবে বেশ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করেছে। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তির তুলনায় তা লক্ষণীয়ভাবে অনেক বেশি। সম্ভবত সে কারণেই মামুনুল হকের রাজনৈতিক পরিচয় ও তাঁর দল খেলাফত মজলিসের চেয়ে আলোচনাটি বেশি হচ্ছে হেফাজত নিয়ে এবং তাঁর হেফাজতের পরিচয় ঘিরে।
"যদিও ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ এই খেলাফত মজলিসের সঙ্গেই একটি নির্বাচনী সমঝোতায় সই করেছিল, বাম দলগুলোর চাপে যা পরে বাতিল করতে বাধ্য হয়! এখানে তাই হেফাজতের পরিচয়, তার উত্থান এবং বিকাশের ইতিহাসের দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।''
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হেফাজত এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরণের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহাবস্থান থাকলেও দু'পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরিস্থিতি ক্রমশ সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। মোদী ইস্যু এবং সম্প্রতি মামুনুল হকের রিসোর্টের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করেছে।
আপনার দীর্ঘ চিঠিতে আপনি প্রশ্ন তুলেছেন হেফাজতে ইসলাম যদি কখনো সরকারের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে, তাহলে সরকারবিরোধী রাজনীতি হেফাজতমুখী হয়ে ওঠার আশঙ্কা আছে কি না? দু'পক্ষই তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে পড়ার বিষয়টি কিন্তু এখনও স্বীকার করছে না। তবে কোন কোন বিশ্লেষক বলছেন সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটলে সেটা বাংলাদেশের রাজনীতির সমীকরণকে ওলট-পালট করে দেবে।
আরও পড়তে পারেন:
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ার পটভূমিতে সরকার আবার এক সপ্তাহের লকডাউন দিয়েছে। এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তালগাছিয়া, ঝালকাঠি থেকে শহীদুল ইসলাম:
''বাংলাদেশে যেভাবে লকডাউন দেয়া হয়েছে তা আমার কাছে হাস্যকর এবং বৈষম্যমূলক আচরণ মনে হয়। এখানে কল-কারখানা খোলা রেখে মার্কেট বন্ধ রাখা, প্রাইভেটকার এবং অফিস চালু রেখে গণপরিবহন বন্ধ রাখা, স্কুল কলেজ বন্ধ রেখে বই মেলা চালু রাখা ইত্যাদি। স্বধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও আমরা আজ স্বাধীন নই, তাই আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি এবারের লকডাউন ধনী গরিবের বৈষম্যের লকডাউন।''
আর কেন্দুয়া,মাদারীপুর থেকে রাসেল শিকদার মন্তব্য করেছেন:
''করোনার এমন ভয়াবহ সময়কালে সরকারের এমন ঢিলে ঢালা লকডাউন আমাদের কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে আমরা কেউ বুঝতে পারছি না। আবার লকডাউনের শুরু থেকে বই মেলা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আসলে সরকার কোন দায়বদ্ধতা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিলো?''
সোমবার থেকে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ বা লকডাউন ঘোষণা করা হলেও মাত্র দু'দিনের মাথায় তা কার্যত ভেঙে পড়ে। কর্তৃপক্ষ নিজেই শহরের মধ্যে বাস চালানোর অনুমতিও এখন দিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন লকডাউন অকার্যকর হয়েছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি পালনের বিষয়টিও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা খুবই উদ্বেগের। একটা সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকার কথা অনেকেই বলছে, যার জন্য মানুষের মধ্যে একটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং যার ফলে এই লকডাউন অকার্যকর হয়ে গেছে।
এবারের লকডাউন ঘোষণার আগে সরকারের কোন পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না বলে মনে করছেন গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে মো. জিল্লুর রহমান:
''হঠাৎ করেই সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হু-হু করে বাড়ছে এবং লকডাউন ঘোষণার আগে সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার জন্য কোন পরিকল্পনা পেশ করেনি। একারণে লকডাউনের সময় দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে ঢাকার নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ তারা সারা বছর নববর্ষ ও ঈদ মৌসুমের বেচাকেনার আশায় তীর্থের কাকের মতো বসে থাকে।
''তাছাড়া, একদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, হাসপাতালে বেড বসানোর এক ইঞ্চি জায়গাও খালি নেই, আবার অন্যদিকে সরকার অফিসগামী লোকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। তাই আমি মনে করি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ছাড়া পূর্ণ লকডাউন কার্যকর করা সম্ভব নয়।''
বুধবার আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, বাংলাদেশে শনাক্ত করোনাভাইরাসের ধরনগুলোর মধ্যে এখন ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট, যা খুবই দ্রুত ছড়ায়। বিশেষজ্ঞরা একমত যে সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর লকডাউনের কোন বিকল্প নেই।
সরকারও বলছে লকডাউন কার্যকর করতে প্রয়োজনে তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা নেবে। রাত্রিকালীন কারফিউও জারি করতে পারে। তবে লকডাউনে যাদের রুজিরোজগার ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের ক্ষতি পোষানোর জন্য পদক্ষেপ না নেয়া হলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করবে কিনা, তাতে সন্দেহ আছে।
বিবিসি বাংলায় একটি শব্দের বানান নিয়ে বিভ্রান্ত লক্ষ্মীবাজার, ঢাকার জহিন মুমতাহিনাহ:
''আমি লক্ষ্য করেছি, বিবিসি বাংলা তার ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায় মূর্ধন্য দিয়ে "ধরণ" শব্দটি লিখছে। দৈনিক প্রথম আলোসহ সব শীর্ষ স্থানীয় বাংলা পত্রিকাগুলো "ধরন" লিখতে দন্ত্য "ন" ব্যবহার করছে এবং বাংলা একাডেমির অভিধানেও আমি একই বানান লক্ষ্য করেছি। আমার প্রশ্ন "ধরন" এর সঠিক বানান কোনটি? আশা করি বিবিসি বাংলা আমার বিভ্রান্তি দূর করবে।"
মিস মুমতাহিনা, ধরন শব্দে দন্ত্য ন-র ব্যবহারই ব্যকরণগতভাবে সঠিক। আপনি বাংলা ব্যকরণে ণ-ত্ব বিধানের যেসব উদাহরণ দিয়েছেন সেগুলো একেবারেই সঠিক এবং সেই নিয়ম বিধিতে ধরন দন্ত্য ন দিয়ে লেখারই কথা। আমরা যেখানে তা মূর্ধন্য দিয়ে লিখেছি তা ভুল এবং এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাব দুঃখিত।
বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান নিয়ে মন্তব্য করেছেন শেরপুর, বগুড়া থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার বলরাম:
''বিবিসি প্রবাহ ও বাংলাদেশ ট্রেন্ডিং নামক অনুষ্ঠানদুটি চ্যানেল আইতে উপভোগ করলাম। বেশ ভালো লাগলো। চমকপ্রদ ও বেশ সমসাময়িক তথ্যবহুল হওয়ার কারণে এটি সবার দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। আমি শহরের শ্রোতা হওয়ার কারণে স্যাটেলাইট চ্যানেলসহ অনেক কিছু দেখার সুবিধা ভোগ করি। কিন্তু বিবিসির অধিকাংশ শ্রোতাতো গ্রামের। তাই অনুষ্ঠান দুটি টিভির পাশাপাশি রেডিওতেও প্রচার করার সবিনয় অনুরোধ করছি।''
আমাদের কিছু অনুষ্ঠান শুধুই টিভির জন্য তৈরি করা হয় মি. পোদ্দার। সেগুলো রেডিওতে প্রচার করতে হলে তা রেডিওতে প্রচারের উপযোগী করে আবার তৈরি করার প্রয়োজন হয়, যেটা সম্ভবও নয় এবং কাম্যও নয়। রেডিও আর টিভি দুটি আলাদা মাধ্যম। তাই দুটি মাধ্যমের জন্য আমরা আলাদাভাবেই অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করে থাকি।
পুরনো অনুষ্ঠান নিয়ে লিখেছেন ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর থেকে মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল:
''আমি সময় পেলেই আপনাদের পুরনো ফিচার অনুষ্ঠান শুনে থাকি আপনাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে। এই যেমন ইতিহাসের সাক্ষী, সাক্ষাৎকার। কিন্তু আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইট থেকে সার্চ অপশনটা তুলে দিয়েছেন। যার কারণে আপনাদের পুরনো ফিচার অনুষ্ঠান শুনতে পারি না। আশাকরি সার্চ অপশনটা ফিরিয়ে আনবেন।''
আমাদের ওয়েবসাইটে সার্চ অপশন না থাকাটা অনেকের জন্যই কিছুটা অসুবিধা সৃষ্টি করে। কিন্তু আপনি গুগলে গিয়ে 'ইতিহাসের সাক্ষী + বিবিসি বাংলা' একসাথে লিখে সার্চ দিলে পুরনো অনুষ্ঠানগুলো পাবেন। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে 'এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার + বিবিসি বাংলা' লিখে গুগলে সার্চ দিলে পুরনো সাক্ষাৎকারগুলোও পাবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বিবিসি বাংলার "পঞ্চাশে বাংলাদেশ" শিরোনামে বিশেষ ফিচারগুলো আপনার ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল।
স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান নিয়ে পরের চিঠিটি লিখেছেন সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা থেকে শফিকুল ইসলাম:
''বিবিসি এশিয়ান নেটওর্য়াক কি এশিয়ান দেশগুলোতে বিবিসির সংবাদ মাধ্যম? বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের লক্ষে বিবিসির এই রেডিও এক বছর ব্যাপী যে অনুষ্ঠানমালা শুরু করেছে, সেখানে ব্রিটেনে বাংলাদেশের বংশোদ্ভুত তরুণ প্রজন্মের কাজের সাফল্যময় দিকগুলো উঠে আসবে। এত সুন্দর একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার জন্য বিবিসি রেডিওকে অসংখ্য ধন্যবাদ।''
এশিয়ান নেটওয়ার্ক ব্রিটেনে এশিয়ান বংশোদ্ভুতদের জন্য বিবিসির বিশেষ রেডিও স্টেশন। এই চ্যানেলে সম্প্রচার হয় ব্রিটিশ এশিয়ানদের জীবন ও সংস্কৃতির নানা খবর এবং তুলে ধরা হয় তাদের সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারা।
অভিযোগ করে লিখেছেন মৌকরন, পটুয়াখালী থেকে শাহিন তালুকদার:
''গত সপ্তাহে আমি বিবিসি বাংলার গঠনমূলক সমালোচনা করার কারণে চিঠি পড়া তো দূরের কথা প্রাপ্তি স্বীকারও করেন নাই। তাহলে অন্যদের মত আপনারাও কি সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না?"
মি. তালুকদার, আপনি কোন বিষয়ে সমালোচনা করে লিখেছিলেন তা আমি জানি না, তবে বিবিসি সমালোচনামূলক চিঠি পড়ে না - এ অভিযোগ মেনে নিতে পারলাম না। প্রতি সপ্তাহে সব শ্রোতার সব চিঠি পড়া সময়ের কারণে সম্ভব হয় না। হয়ত সে কারণেই আপনার চিঠি বাদ পড়েছিল।
ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আমর্ড পুলিশের সদস্যদের একটি পরিত্যক্ত শিশুকে উদ্ধারের কাহিনি নাড়া দিয়েছে কপিলমুনি, খুলনার শিমুল বিল্লাল বাপ্পীকে:
''খবরে জানলাম সৌদি আরব প্রবাসী এক মা তার কোলের বাচ্চাকে রেখে চলে গেছেন। পড়লাম শিশুটি এখনবিমান বন্দরে কর্তব্যরত আমর্ড পুলিশ সদস্যদের হেফাজতে আছে । আমার জানামতে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল সন্তানের জন্য মা।এমন কী পরিস্থিতি হয়েছে যে মা তার বাচ্চাকে অসহায় অবস্থায় রেখে চলে গেছেন? এই অসহায় শিশুটিকে রাষ্ট্রের হেফাজতে নিয়ে উপযুক্ত কোন নিঃসন্তান দম্পতিকে প্রদান করা যায় কিনা?"
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা জানিয়েছেন আট মাস বয়সী শিশুটিকে দত্তক দেবার ব্যবস্থা তারা করছেন। দত্তক নেবার জন্য এরই মধ্যে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে তারা উপযুক্ত একটি পরিবারের হাতে তুলে দেবেন।
শেষ চিঠিটি আজ দাকোপ, খুলনার মুকুল সরদারের:
''বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভালো তরমুজের বৈশিষ্ট্যগুলো একটি ভিডিওর মাধ্যমে দেখিয়ে দেবার জন্য। আমরা বাজার থেকে তরমুজ কিনতে যেমন হিমশম খাই, এবার তরমুজ চাষ করতে গিয়ে তার চেয়েও বেশি হিমশিম খাচ্ছেন আমার দাকোপের তরমুজ চাষীরা। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ার কারণে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। তরমুজ চাষীরা তাদের ক্ষেতে পানি সেচ দিতে পারছেন না। পানির অভাবে হাজার হাজার বিঘা জমিতে কোটি কোটি টাকার তরমুজ ক্ষেতে নষ্ট হতে বসেছে। বিবিসি বাংলাকে আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করবো, দাকোপের তরমুজ চাষীদের দুর্ভোগ নিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রবাহে একটি প্রতিবেদন প্রচার করার জন্য।"
অনুষ্ঠানটি আপনার ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল। আপনার প্রস্তাব অবশ্যই আমরা বিবেচনায় রাখব।
এবারে কিছু প্রাপ্তি স্বীকার:
মোহাম্মদ রেজাউল রহিম, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
পীযূষ বিশ্বাস, কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ পঞ্চগড়।
মাসুম বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
সেলিম রাজ, বেনুঘাট, রংপুর।
রিপন রুদ্র পাল, মৌলভীবাজার।