করোনা ভাইরাস-এর টিকা বেসরকারি হাসপাতালে দেয়ার ব্যাপারে যা বলছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসচিব

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, সানজানা চৌধুরী
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে দেয়ার ব্যাপারে সরকার এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মোঃ আব্দুল মান্নান।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর একটি সংগঠন এই টিকা নিতে সরকারের সাথে আলোচনা করছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও সরকার এই টিকা বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কাছে বিক্রি করবে নাকি বিনামূল্যে দেবে, দিলেও সেটা কি পরিমাণে দেবে, বেসরকারি হাসপাতালে টিকা নিতে হলে কতো খরচ পড়বে, সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।
গত রোববার থেকে বাংলাদেশের সব জেলা উপজেলার এক হাজারের বেশি কেন্দ্র থেকে একযোগে শুরু হয়েছে টিকাদান কার্যক্রম। প্রথম দিনেই সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং পরবর্তীতে বিদেশি কূটনীতিকরা টিকা নেয়ায় দিন দিন মানুষের মধ্যে টিকা দেয়ার আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে।
প্রথম দিন ৩১ হাজার টিকা দিলেও পরের ছয় দিনে ৭ লাখের বেশি মানুষ টিকা দিয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।
গতকাল বেশ কয়েকটি হাসপাতালে সময়ের আগেই টিকার কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেককে টিকা না নিয়েই ফিরে যেতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
টিকার এমন চাহিদার মধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এই টিকা মানসম্মত বেসরকারি হাসপাতালকে ব্যবহারের অনুমোদন দেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বুধবার এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মান্নান।
"আমরা হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে দেখবো, যদি দরকার হয়, সেক্ষেত্রে আমরা বুথের সংখ্যা বাড়াবো, জনবল বাড়াবো। আর প্রাইভেট হাসপাতালকে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত যদি হয়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।"
আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি জানান, বাংলাদেশের সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষকে এই টিকা বিনামূল্যে দেয়া।
এক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে যদি টিকা দেয়া হয় তারা যেন সাধারণ মানুষকে কোনভাবে হয়রানির করতে না পারে সে বিষয়েও সরকার নজরদারি করবে বলে মি. মান্নান জানান।
বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছ থেকে যে টিকা কিনেছে সেখান থেকে ১০ লাখ টিকা বিক্রির জন্য চেয়েছে প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন।
গত বুধবার কোভিড-১৯ এর টিকা কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির সভাপতি মুবিন খান জানিয়েছেন সরকার এই টিকা তাদেরকে বিনামূল্যে সরবরাহ করলে তারা শুধুমাত্র সার্ভিস চার্জ রাখবেন।
আবার সরকার যদি এই টিকা বিক্রি করে তাহলে বেসরকারিভাবে টিকার মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেবে, যেন কোন ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।
তবে সরকার তাদেরকে কি পরিমাণ টিকা দিতে পারে, কোন হাসপাতালগুলো এই অনুমোদন পাবে, এজন্য সাধারণ মানুষকে কতো খরচ করতে হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই কার্যক্রমে বেসরকারি হাসপাতাল যুক্ত হলে টিকার চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন মি. খান।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালও করোনাভাইরাস ইউনিট খুলে চিকিৎসা কার্যক্রম চালায়।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

ছবির উৎস, Getty Images
এছাড়া করোনাভাইরাসের আরটি পিসিআর পরীক্ষাতেও তারা অংশ নিয়েছে। এমন অবস্থায় মানুষের মধ্যে টিকা নেয়ার আগ্রহ যেহেতু বাড়ছে তাই তারা এই কর্মসূচিতেও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।
মুবিন খান জানান, মানুষ এখন যেভাবে ভিড় করে টিকা দিতে যাচ্ছে সেটা সামাল দিতে বেসরকারি হাসপাতালকেও যুক্ত করা প্রয়োজন।
এতে করে যারা সচ্ছল ও সামর্থ্যবান তারা বেসরকারি হাসপাতালে টিকা নিতে পারবেন, আবার যারা সরকারি হাসপাতালে ফ্রি-তে টিকা নিতে চান, সেই সুযোগও থাকছে।
এছাড়া প্রথম চালানে যে টিকা এসেছে এর একটি লটের মেয়াদ এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এবং আরেকটি লটের মেয়াদ জুন মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
এ কারণে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ লাখ টিকা দেয়া হলে মেয়াদের মধ্যেই সব টিকা দেয়া সম্ভব হবে, কোন টিকা অপচয় হবে না।
তবে বেসরকারি হাসপাতাল টিকা বিক্রির অনুমোদন পেলেও সেটা শুধু তারাই পাবেন যাদের কথা সরকারি নীতিমালায় বলা আছে।
অর্থাৎ সরকারি নীতিমালায় বলা হয়েছে শুধুমাত্র ফ্রন্টলাইনার এবং যাদের বয়স ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে তাদেরকে এই টিকা দেয়া হবে।
বেসরকারি হাসপাতালেও এই নিয়মের ব্যত্যয় হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান মি. খান।

ছবির উৎস, Getty Images
চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে, জুন মাসের মধ্যে মোট ৩ কোটি ডোজ পাওয়ার কথা।
সরকারের কেনা এই টিকা থেকেই ১০ লাখ টিকা চাইছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো।
এর আগে, বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে বিক্রির জন্য সিরাম ইন্সটিটিউট থেকেই আরও কয়েক লাখ ডোজ টিকা আনার কথা জানিয়েছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।
তবে প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা রাব্বুর রেজা জানিয়েছেন, তারা এখন সরকারের টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে আর কিছু আপাতত ভাবছেন না।








