বিদেশ থেকে শিশু দত্তক স্থগিত করলো নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ থেকে দত্তকে অনিয়ম

ইন্দোনেশিয়া থেকে অল্পবয়সে বিদিয়া অস্তুতি বোয়ের্মাকে দত্তক নিয়েছিল একটি ডাচ পরিবার

ছবির উৎস, Widya Astuti Boerma

ছবির ক্যাপশান, ইন্দোনেশিয়া থেকে অল্পবয়সে বিদিয়া অস্তুতি বোয়ের্মাকে দত্তক নিয়েছিল একটি ডাচ পরিবার

বিদেশ থেকে শিশুদের দত্তক নেয়া পুরোপুরি স্থগিত করে দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের সরকার।

বাংলাদেশ সহ পাঁচটি দেশ থেকে বিদেশী শিশুদের দত্তক নেবার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন লঙ্ঘন করা হচ্ছে - এ মর্মে এক রিপোর্ট প্রকাশের পর এই পদক্ষেপ নিয়েছে ডাচ সরকার।

দত্তক নেয়ার মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসের নাগরিক হয়েছেন - এমন একজন ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত নারী বিদিয়া অস্তুতি বোয়ের্মা ডাচ সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সরকারের গঠিত একটি বিশেষ কমিটি দু'বছর ধরে তদন্তের পর ওই রিপোর্টটি দিয়েছে - যা সোমবার প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, ১৯৬৭ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মোট ৩০ বছরে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং শ্রীলংকা থেকে যে শিশুদের দত্তক নেয়া হয়েছিল - তার প্রক্রিয়ায় গুরুতর লংঘনের দৃষ্টান্ত পাওয়া গেছে।

রিপোর্টে বলা হয়, এর মধ্যে অপহরণ, শিশু পাচার, দলিলপত্র জালিয়াতি ও চুরি, এবং মিথ্যা কারণ দেখিয়ে দত্তক নেবার মত ঘটনাও রয়েছে।

বিদিয়া অস্তুতি বোয়ের্মা

ছবির উৎস, Widya Astuti Boerma

ছবির ক্যাপশান, বিদিয়া অস্তুতি বোয়ের্মা বলেন, বর্তমান দত্তকগ্রহণ পদ্ধতি শিশু পাচারকে উৎসাহিত করতে পারে

এক সংবাদ সম্মেলনে আইনী সুরক্ষা সংক্রান্ত ডাচ মন্ত্রী স্যান্ডার ডেকার বলেছেন, ডাচ সরকার বহু বছর ধরে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বা কোন পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আন্ত:রাষ্ট্রীয় দত্তক গ্রহণের প্রক্রিয়া লংঘনের ব্যাপারটি উপেক্ষা করেছে।

ডাচ সরকার এজন্য দত্তক নেয়া শিশুদের কাছে দু:খ প্রকাশও করেছে।

মি. ডেকার বলেছেন, বহু বছর ধরে সন্দেহজনক অনিয়ম বা অনাচারের ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তদন্ত কমিটি দেখতে পেয়েছে যে দারিদ্র্যের কারণে অনেক নারীকে তাদের শিশুকে দত্তক দিতে বাধ্য করা হয় এবং অনেকক্ষেত্রে জাল কাগজপত্রও ব্যবহার করা হয়।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

এই কমিটি বলছে, এসব অবৈধ দত্তকগ্রহণের কিছু ঘটনায় বিভিন্ন দেশে নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস বা কনস্যুলেটে কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা এ সংক্রান্ত দলিলপত্র 'যত্নের সাথে পরীক্ষা করে দেখেননি' বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে এক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কোন ঘুষ গ্রহণ বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইন্দোনেশিয়া থেকে দত্তক নেয়ার মাধ্যমে ডাচ নাগরিক হয়েছেন - এমন একজন হলেন বিদিয়া অস্তুতি বোয়ের্মা ।

তিনি সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মিজ বোয়ের্মা বলেন, তিনি একে স্বাগত জানাচ্ছেন কারণ পদ্ধতিটির ব্যাপক সংশোধন করা দরকার - যেহেতু এটি এখনো আর্থিক প্রণোদনাভিত্তিক রয়ে গেছে এবং তা শিশু পাচারে উদ্বুদ্ধ করে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন: