এমপি কাজী পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের আদালতে আত্মসমপর্ণ, পরিবারের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল

ছবির উৎস, KAZISHAHIDISLAM.COM

ছবির ক্যাপশান, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল

বাংলাদেশে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম এবং তাদের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় আদালতে আত্মসমপর্ণ করেছেন।

পরে পাসপোর্ট জমা দেয়ার শর্তে তাদেরকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে আদালত।

এর আগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুলসহ চারজনের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।

তাদের মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী, সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধান।

দুদকের মামলার পর ২৮শে ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের আদালতে আত্মসমপর্ণের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

একই সঙ্গে তাদের ৯২টি তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ক্রোকের আদেশও দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে এক সঙ্গে এক আদেশে এতো বেশি ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আদেশ দেয়ার কথা শোনা যায়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এই তথ্য জানিয়েছে।

রবিবার দুদকের একটি মামলায় ঢাকার মহানগর আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

এর মধ্যে মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল ১৪৮টি ব্যাংক হিসাব, স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলামের ৩৪৫টি ব্যাংক হিসাব, মেয়ে ওয়াফা ইসলামের ৭৬টি হিসাব এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের ৪৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ ও মানিলন্ডারিং আইনের মামলার তদন্ত চলার সময় দুদকের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট জব্দ এবং সম্পদ ক্রোকের আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দিলেন।

সেই সঙ্গে অপরাধ তদন্ত বিভাগের আরেকটি মামলায় মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুলসহ আটজনের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আদেশ দেয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ শহিদ ইসলামকে আটকের পর একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম
ছবির ক্যাপশান, মোহাম্মদ শহিদ ইসলামকে আটকের পর একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম

অর্থ পাচার ও মানব পাচারের অভিযোগ মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল গত ৬ই জুন গ্রেপ্তার করে কুয়েতের পুলিশ। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ দেয়া, অর্থ পাচার, মানব পাচার এবং ভিসার অবৈধ লেনদেন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাংলাদেশের কোন বর্তমান সংসদ সদস্যকে এর আগে কখনো বিদেশের মাটিতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে শোনা যায়নি।

এরপর তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন।

গত ১১ই নভেম্বর মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল, তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

অন্যদিকে মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে ৩৫৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা পেয়েছে সিআইডি। সেই ঘটনায় অর্থ পাচার আইনে গত ২২শে ডিসেম্বর একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় মোহাম্মদ শহিদ ইসলামসহ তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: