ইতিহাসের সাক্ষী: সিএনএন চব্বিশ ঘন্টার প্রথম সংবাদ চ্যানেল হিসাবে যাত্রা শুরু করে যেভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল

ছবির উৎস, Getty Images
টিভিতে চব্বিশ ঘন্টার সংবাদ চ্যানেল আজ মানুষের জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে কোন সময় ছোট বড় যে কোন ঘটনার খবর জানতে এসব সংবাদ চ্যানেল এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এখন টিভি সংবাদ চ্যানেলের সংখ্যা অগুন্তি।
আজ অবিশ্বাস্য মনে হলেও চল্লিশ বছর আগে সংবাদ ভিত্তিক টিভি চ্যানেলের কোন অস্তিত্বই ছিল না। বড় কোন ঘটনার খবর টিভিতে দেখতে হলে খবর প্রচারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া গতি ছিল না। আর অনেক সময়ই সেই অপেক্ষা ছিল বহু ঘন্টার।
সংবাদ প্রচারের দুনিয়াকে আমূল বদলে দিয়েছিল আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে আমেরিকার চব্বিশ ঘন্টার সংবাদ চ্যানেল সিএনএন বা কেবল নিউজ নেটওয়ার্ক। অনেকে বলেন সিএনএন সেই সময় রাজনীতির জগতকেও বদলে দিয়েছিল চিরকালের মত।
১৯৮০ সালে - সিএনএন-এর গোড়াপত্তন করেছিলেন আমেরিকার মিডিয়া ধনকুবের টেড টার্নার।
মি. টার্নার বলেছিলেন ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, মানবিকতা ও শান্তির লক্ষ্যে পথচলার উদ্দেশ্যে নিয়েই তিনি ২৪ঘন্টার সংবাদ চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করছেন।
"এই চ্যানেলে প্রচারিত আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীর খবরাখবর এবং খবরের গভীরে গিয়ে তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমার দেশের মানুষ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রোতাদর্শকরা আরও ভালভাবে জানতে পারবে পৃথিবীর অন্য দেশে মানুষ কীভাবে থাকে, কী করে। জানতে পারবে অন্য দেশে কী ঘটছে এবং কেন ঘটছে! " সেসময় বলেছিলেন মি. টার্নার।

ছবির উৎস, Cynthia Johnson/ Getty Images
'২৪ ঘন্টা খবর কে দেখবে?'
সিএনএন-এ সংবাদের মান ও নিয়মনীতি বিষয়ে নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক ডেভিস ছিলেন এই সংবাদ চ্যানেল শুরুর সময়কার সাক্ষী। বিবিসির ইতিহাসের সাক্ষী অনুষ্ঠানকে তিনি বলছিলেন এর আগে আমেরিকায় টিভিতে সংবাদ প্রচার হতো দিনে মাত্র দুবার- সকালে একবার আর রাতে একবার। অবশ্য রেডিওতে খবর প্রচার হতো আরও ঘনঘন।
"আমাদের চ্যানেল আসার আগে টিভির নির্বাহী কর্মকর্তারাই ঠিক করে দিতেন খবর কটার সময় প্রচার করা হবে। আমরা সেই ধারাটা বদলে দিলাম। দর্শকদের বললাম -আপনার যখন ইচ্ছা হবে খবর দেখবেন। আমরা দিনে ২৪ ঘন্টা খবর প্রচার করব। এর আগে একথা কেউ বলেনি।"
এখন একজন নির্বাহী কর্মকর্তা হলেও ১৯৮০ সালে শুরুর দিনগুলোতে রিক ডেভিস ছিলেন খেলার খবরের এক তরুণ প্রযোজক।
সিএনএন চালুর তারিখ ধার্য হয়েছিল পয়লা জুন ১৯৮০। তখন সমালোচকরা বলেছিল দর্শক চব্বিশ ঘন্টা খবর শোনার চ্যানেলে মোটেও আগ্রহী হবে না।
''অনেকে বলেছিল ২৪ ঘন্টা খবর কে দেখবে?'' বলছিলেন মি. ডেভিস। অনেকের মত ছিল, ২৪ ঘন্টা চ্যানেল ভরার মত খবরই থাকবে না। কারিগরি চ্যালেঞ্জও ছিল নতুন আর বিশাল। এধরনের অনুষ্ঠানের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতাও সাংবাদিকদের ছিল না, তিনি বলছিলেন।

ছবির উৎস, Getty Images
রিক ডেভিস বলছিলেন চ্যানেল উদ্বোধনের আগের কয়েক সপ্তাহ তাদের মহড়া সম্প্রচারে অনেক ত্রুটি ধরা পড়ছিল, অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।
"সত্যি বলতে কী বেশ কয়েকবার বিব্রতকর পরিস্থিতি হয়েছে। আমার বস- যিনি তখন স্পোটর্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তাকে গিয়ে আমি বলেছিলাম আপনি মি. টার্নারকে গিয়ে বলুন- আমরা তৈরি নই। উদ্বোধনের তারিখ পেছিয়ে দিতে বলুন।
"টেড তাকে বলেছিলেন - অসম্ভব - কোনমতেই পেছাবো না। আমি কেবল্ অপারেটরদের বলে দিয়েছি আমরা পয়লা জুন থেকে সম্প্রচার শুরু করছি। সেটাই হবে।"
মি. ডেভিসের মনে আছে: "মি. টার্নারের ওই কথার পর, আমরা বিশ-তিরিশ বছরের যেসব তরুণ প্রায় ২৪ ঘন্টা- দিন নেই রাত নেই- কাজ করছিলাম অল্প বেতনে, আমরা কীভাবে যেন প্রবল উৎসাহ পেলাম- আমাদের সবার মনে হলো আমরা বিশেষ একটা কিছু করতে যাচ্ছি- আমরাও বিশেষ কিছুর অংশ।"
ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু
পয়লা জুন ১৯৮০ - আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল পাঁচটায় স্বামী-স্ত্রী জুটি ডেভিড ওয়াকার আর লোয়েস হার্ট সিএনএন-য়ের প্রথম সংবাদ সম্প্রচার শুরু করেন।
রিক ডেভিস সেদিন ছিলেন সম্প্রচারের দ্বিতীয় ঘন্টায় খেলার খবরের প্রযোজক।
"সম্প্রচার শুরু হবার আগের এক ঘন্টা নার্ভাস ছিলাম, উদ্বেগ ছিল। কিন্তু শো যখন শুরু হলো, তখন মাথার মধ্যে শুধু একটা জিনিসই কাজ করছিল- প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা সেকেন্ড - অনুষ্ঠান যেভাবে সাজিয়েছি - তা যেন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে।
"গ্রাফিক্স চিত্র ঠিক সময়ে পর্দায় যেন দেখা যায়, টেপ যেন ঠিক সময়ে চালু হয়! আমার মনে আছে উত্তেজনায় তখন চেঁচাচ্ছি- টেপ কই- এখনি টেপ বাজাতে হবে- হ্যাঁ সে এক মহা চাপের মুহূর্ত ছিল!" সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেছেন রিক ডেভিস।

ছবির উৎস, Dirck Halstead/ Getty Images
লাইভের চ্যালেঞ্জ
খবরের লাইভ সম্প্রচার এবং ২৪ ঘন্টা লাগাতার সংবাদ প্রচারই যে সংবাদ টিভি চ্যানেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ সেট তারা বুঝেছিলেন যেদিন সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের প্রাণনাশের চেষ্টার খবর তারা কভার করলেন।
১৯৮১ সালে মি. রেগান ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে ভাষণ দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় তার ওপর আততায়ীর গুলি চালানোর সেই ঘটনা ছিল বিরাট খবর।
ঘটনা ঘটার পর সব টিভি চ্যানেল ব্রেকিং নিউজে খবরটা দেয়। কিন্তু অন্য টিভি চ্যানেলগুলো খবরটা দিয়েই অন্যান্য স্থানীয় খবর প্রচারে চলে যায়। সিএনএন সেটা করেনি।
চব্বিশ ঘন্টার রোলিং নিউজ চ্যানেল হিসাবে সিএনএন রোনাল্ড রেগানের প্রাণনাশ সংক্রান্ত খবরের বিস্তারিত খুঁটিনাটি প্রচার করতে থাকে। প্রতি মুহূর্তে যা জানা যাচ্ছে তা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করে।
মানুষ প্রথম বুঝতে পারে লাইভ সংবাদ চ্যানেলের ক্ষমতা, দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ আর তার উপযোগিতার কথা।
কারিগরি চ্যালেঞ্জ
তখন মোবাইল ফোনেরও যুগ নয়। সাংবাদিকদের হাতে ল্যাপটপও থাকত না। ছিল না কোন ইন্টারনেট ব্যবস্থা। কাজেই ব্রেকিং খবর ঘটনাস্থল থেকে কীভাবে দেবেন সংবাদদাতারা? মি. ডেভিস বলছিলেন সেটা ছিল বিশাল একটা চ্যালেঞ্জ।
"ভাবাই যায় না! এমনকী ঝানু সাংবাদিকরাও ঘটনাস্থল থেকে লাইভ কীভাবে করবেন? কী সরঞ্জাম তার হাতে আছে? তিনি ওয়্যারে খবর পাঠাতে অভ্যস্ত। এছাড়া সরঞ্জাম বলতে বড়জোর ফ্যাক্স মেশিন বা তারের সংযোগে সাবেকী টেলিফোন আর নয়ত (ওয়্যারলেস) বিপার ফোন।"
তিনি বলছেন ভিডিও ছবি পাঠানো একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। এমনকি আমেরিকার ভেতরে বিভিন্ন জায়গা থেকেও ভিডিও পাঠাতে সাংবাদিকদের ঘাম ছুটে যেত। আর বিদেশ থেকে ভিডিও ছবি পাঠানো ছিল রীতিমত কঠিন। বিশেষ করে মাঠে ঘাটে যারা খবর কভার করছেন, তাদের সাথে এমনকি যোগাযোগ করাও একেবারেই অসম্ভব ছিল।
আরও পড়তে পারেন:


ছবির উৎস, Fairfax Media Archives/ Getty Images
"আপনি আমেরিকার ভেতরে থাকলে আর আপনার হাতে বিপার ফোন থাকলে, প্রথমে এমন একটা পেট্রল স্টেশন খুঁজে বের করতে হতো যেখানে পে-ফোন রয়েছে। তারপর যন্ত্রে ঠিক ঠিক পয়সা ঢুকিয়ে অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে হতো। আপনি খবরের পেছনে ছুটবেন নাকি পে-ফোন খুঁজে বেড়াবেন?" বলেন রিক ডেভিস।
সাংবাদিকদের যখন খবর প্রচারের সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটতে হচ্ছে, তখন খবরের ভিডিও পাঠাতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হতো, অহেতুক অনেক সময় নষ্ট হতো, বলেন তিনি।
"আর ঘটনা যদি পৃথিবীর আরেক প্রান্তে ঘটতো তাহলে যোগাযোগ তো ছিল একটা দু:সাধ্য ব্যাপার। আপনি কোথায় আছেন অফিসে সেই খবরটুকু পৌঁছনই ছিল একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।"
লাইভ সম্প্রচার ও আকর্ষণীয় পণ্য বিতর্ক
সব প্রতিকূলতার মধ্যেই এক দশকের ভেতর সিএনএন লাইভ খবর সম্প্রচারের ক্ষেত্রে একটা সুনাম গড়ে তোলে। বিশেষ করে, ১৯৯১ সালে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় জোট বাহিনী যখন বাগদাদে বোমা হামলা চালায়, তখন সিএনএন আমেরিকানদের বসার ঘরের টিভি সেটে সেই বোমা হামলার লাইভ ছবি পৌঁছে দেয়।
আমেরিকার মানুষ সংবাদদাতার কণ্ঠে শোনেন.... "আপনি হয়ত পেছনে বোমার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন..."
চ্যানেলের রেটিং বেড়ে যায়, পাশাপাশি বেড়ে যায় কোন কোন মহল থেকে সমালোচনাও।
কিছু রাখঢাক না করে যুদ্ধের ভয়াবহতাকে মানুষের এত কাছাকাছি নিয়ে আসাকে অনেকে মেনে নিতে পারেননি। কেউ কেউ দাবি করেন -যুদ্ধকে একটা আকর্ষণীয় পণ্য হিসাবে দেখানো হচ্ছে।

ছবির উৎস, CNN/ Getty Images
রিক ডেভিস বিবিসিকে বলেছেন: "কোন সন্দেহ নেই, বাগদাদের ওপর বোমাবর্ষণের ঘটনা, সিএনএন-এর খবর সম্প্রচারের ইতিহাসে একটা যুগান্তকারী মুহূর্ত ছিল। বাগদাদ থেকে ওই ঘটনার লাইভ খবর আর কোন চ্যানেল প্রচার করতে পারেনি। মানুষ সেই প্রথম চোখের সামনে রণাঙ্গন দেখেছিল- এর আগে যুদ্ধক্ষেত্র সাধারণ মানুষ চোখে দেখেনি।"
খবরে দেখানো হয়েছিল লক্ষ্যবস্তুর ওপর বোমা ফেলার ভিডিও ফুটেজ। সংবাদদাতা খবর দিচ্ছিলেন- প্রেসিডন্টের প্রাসাদও তাদের বাহিনীর নিশানার মধ্যে...
ওই সম্প্রচার থেকে আরেকটা সমালোচনা দানা বেঁধেছিল। যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে সাতদিন চব্বিশ ঘন্টা লাইভ সম্প্রচার সামরিক কৌশলের জন্য কতবড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে?
'সিএনএন এফেক্ট'
সমালোচকরা বললেন এধরনের সংবাদ চ্যানেলের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কৌশল জনসমক্ষে প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে এবং যুদ্ধের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তৈরি হল উদ্বেগ। অনেকে এর নাম দিল 'সিএনএন এফেক্ট' ।
মি. ডেভিস বলছেন নেতিবাচক এসব সমালোচনা চ্যানেলের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিলেও, এর ইতিবাচক দিকটা ছিল- কী হচ্ছে সেটা মানুষের সামনে তুলে ধরার সুযোগ।
"মানুষ নিজের চোখে দেখেছে কী ঘটছে। মানবিকতার দায়িত্ব কতটা পালন করা হচ্ছে, তার আসল রূপ খোদ ঘটনার মধ্যে দিয়ে মানুষকে আমরা দেখিয়েছি। আমরা মতে 'সিএনএন এফেক্ট' বা সিএনএন-এর আসল প্রভাবটা ছিল সেখানেই।
"যখন বাস্তব চিত্র আমরা দেখিয়েছি, তখন নীতি নির্ধারকরা পদক্ষেপ নেবার জন্য চাপ অনুভব করেছেন। অতীতে যেটা হতো- নীতি নির্ধারকরা যেটা চাইতেন মানুষকে সেটাই বোঝাতেন। আসলে ঘটনাস্থলে কী হচ্ছে ক্যামেরার চোখ দিয়ে সেটা দেখার সুযোগ তো মানুষের ছিল না। আমাদের সংবাদ চ্যানেল সেই সুযোগ এনে দিল।"
রিক ডেভিস এখনও বিশ্বাস করেন লোকে যেটাকে 'সিএনএন এফেক্ট' বলে সমালোচনা করেছিল, তার ভূমিকা আসলে ছিল খুবই শক্তিশালী, এবং রাজনীতির জগতেও একটা বড় পরিবর্তন আনতে তা সাহায্য করেছিল।
যুদ্ধ, নাগরিক আন্দোলন, অভ্যুত্থান এধরনের স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত বিষয়গুলো টিভির পর্দায় উঠে আসাটা তাদের জন্য একটা জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি করেছিল।

ছবির উৎস, Lester Cohen / Getty Images
মি. ডেভিস বেশ জোর দিয়েই বলেন খবর প্রচার এবং খবরের বিশ্লেষণকে সিএনএন দায়বদ্ধ সাংবাদিকতার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসাবেই গোড়া থেকে বিবেচনা করেছে।
১৯৯০ সালে আরও অনেক ২৪ ঘন্টার টিভি সংবাদ চ্যানেল বাজারে আসে। ইন্টারনেট পরিষেবাও বিস্তৃতি পায়।
'মানুষকে বোকা বানানো এখন সহজ নয়'
সিএনএন তাদের চ্যানেল চালু করার ৪০ বছর পর এখন সংবাদ মাধ্যমের চেহারা চরিত্র আমূল পাল্টে গেছে। আগের চেয়ে সংবাদ মাধ্যম অনেক বেশি বিতর্কিতও হয়েছে। এর মধ্যে সব চ্যানেল যে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করছে এমন দাবি করা যাবে না।
তবে সিএনএন-এর নির্বাহী কর্মকর্তা রিক ডেভিস মনে করেন একটা সংবাদ চ্যানেলের সাফল্য নির্ভর করে তারা কতটা বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে খবর দিচ্ছে তার ওপর।
"আমাদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা জনগণের কাছে। তারাই আমাদের বিচার করবেন। কোন রাজনীতিক যদি বলেন আমরা আস্থাভাজন নই, সেখানে মানুষই বিচার করবেন খবরের কোন উৎসকে তারা বিশ্বাস করবেন, কারা নিরপেক্ষ, কারা পক্ষপাতদুষ্ট- কারা ভুয়া খবর দিচ্ছে।
''এটাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ আগেও বরাবরই ছিল। এখন এটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে," তিনি বলেন।
আগের যে কোন সময়ের তুলনায় খবর এবং তথ্য এখন মানুষের অনেক নাগালের মধ্যে। খবরের সত্যাসত্য যাচাই করার যে ক্ষমতা মানুষ চল্লিশ বছর আগে ভাবতেও পারতো না, তথ্যপ্রবাহের কল্যাণে এবং ইন্টারনেটের দৌলতে মানুষ এখন সে ক্ষমতা হাতে পেয়েছে।
রিক ডেভিস বলেন, ''মানুষকে বোকা বানানো এখন সহজ নয়।
"মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ করে দিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। পাশাপাশি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল খবর ও তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেও সংবাদ মাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা যারা মূল ধারার সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে অন্যায় ও অসত্যকে তুলে ধরা - সেটা প্রচারের পেছনে ক্ষমতাসীনরা থাকুক বা তাদের সহযোগী সুযোগসন্ধানী কেউ থাকুক- আসল সাংবাদিকতা হল অসত্যের মুখোশ খুলে দেয়া।"
তিনি বলেন সিএনএন-এ সেই দায়িত্বকে এখনও তারা যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকেন।

সিএনএন-এর সিনিয়ার নির্বাহী রিক ডেভিসের সাথে কথা বলেছেন বিবিসির রেবেকা কেসবি।








